যমজ ‘লাল্টু-বল্টু’, দাম হাকা হচ্ছে ২০ লাখ

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৩৯ | আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৫০

মামুন আহম্মেদ, বাগেরহাট

বাগেরহাটে কোরবানির পশুর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে দাড়িয়েছে দুটি যমজ গরু লাল্টু ও বল্টু। ৬০ মণেরও অধিক ওজনের লাল্টু ও বল্টু নামের এই গরু দুটি বিক্রি করতে খামারি দাম হেকেছেন ২০ লাখ টাকা। কোরবানির পশুর ক্রেতাসহ উৎসুক লোকজন এখন সাদার ওপর কালো ছোপওয়ালা বিশাল আকৃতির লাল্টু ও বল্টু দেখতে ভিড় করছেন খামারির বাড়িতে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার হিজলা গ্রাামের খামারি মুনজুরুল আলমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, লাল্টু ও বল্টু নামের এই গরু দুটির দরদামসহ দেখতে অর্ধশতাধিক লোক অপেক্ষা করছেন। সংবাদকর্মী পরিচয় দিলে খামারি মুনজুর ও তার চার সহযোগী লাল্টু ও বল্টকে গোয়াল ঘরের বাইরে বের করেন। নাদুস-নুদুস গরু দু’টির গায়ে কালো-সাদা ছোপ ছোপ রং। একবার দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়।

পশু খামার মালিক মো. মুনজুরুল জানান, তিনি ২০১৩ সালে সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট পদ থেকে অবসর নিয়ে বাড়িতে এসে বগুড়া থেকে ৬টি গাভী কিনে গরুর খামার শুরু করেন। ২০১৪ সালের শেষের দিকে একটি গাভীতে হলিস্টিন ফ্রিজিয়ান জাতের সিমেন (শুক্রাণু) দিয়ে প্রজনন করান। ২০১৫ সালে ওই গাভীর জমজ দু’টি ষাঁড়ের বাচ্চা জন্ম দেয়। দেখতে একই রকম বাচ্চা দু’টিকে নাম রাখা হয় লাল্টু ও বল্টু।

চিতলমারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শে লাল্টু ও বল্টুর যত্ন নেয়া শুরু করি। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শে লাল্টু ও বল্টুকে জন্মের পর থেকে দেশীয় খাবার খাওয়ানো শুরু করি। ভুষি, কুড়া, খৈল, চালকুমড়া, কলা, লাউ ও দেশীয় বিভিন্ন মৌসুমী ফল খেয়ে বড় হয়েছে লাল্টু ও বল্টু। লাল্টু ও বল্টুকে মোটা তাজা করার জন্য কোনো কৃত্রিম খাবার খাওয়ানো হয়নি। এসব খাবার খেয়ে মাত্র সাড়ে ৩ বছরে লাল্টু ও বল্টুর  এক-একটির ওজন ৩০ মণেরও বেশি হয়েছে। এ বছর কোরবানির পশুর চাহিদাকে সামনে রেখে লাল্টু ও বল্টুকে বিক্রির জন্য দাম চেয়েছি ২০ লাখ।

লাল্টু ও বল্টুকে বিক্রির খবরে অনেক ক্রেতা এখন বাড়িতে আসছেন, লাল্টু ও বল্টুকে দেখছেন। জেলার বাইরে থেকেও উৎসুক লোকজনও গরু দুটি দেখতে আসছেন। ইতোমধ্যেই কয়েকজন ক্রেতা গরু দুটির দাম বলেছেন ১৫ লাখ টাকা। আশা করি, কোরবানির আগ মুহূর্তে লাল্টু ও বল্টুর দাম ২০ লাখ পর্যন্ত উঠবে।

গরু ব্যবসায়ি আমির হোসেন জানান, খামারী লাল্টু ও বল্টুকে বিক্রি করবে এখবর জেনে বাগেরহাট থেকে কিনতে এসেছি। গরু দুটির দাম ১৫ লাখ টাকা বলেছি। এই দামে বিক্রি করতে খামারি  রাজি হচ্ছে না। কোরবানির আগে আমি আরও একটু বাড়াবো। কপালে থাকলে গরু দু’টি আমি কিনে ভালো ব্যবসা করতে পারবো।পাশ্ববর্তী জেলা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা উৎসুক জাহাঙ্গীর হেসেন, দবির মুন্সি, মোল্লা মাসুদুল হকসহ লাল্টু ও বল্টুকে দেখতে আসা অনেকে জানান, গরু দু’টি দেখে আমাদের খুব ভালো লেগেছে। এর আগে এতো বড় গরু টিভি ও সংবাদপত্রে দেখলেও এবারই স্বচক্ষে দেখলাম। নাদুস-নুদুস গরু দু’টির গায়ে কালো-সাদা ছোপ ছোপ রং। একবার দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়।

বাগেরহাট জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা (ডিএলও) ডা. মো. সাইফুজ্জামান জানান, বাগেরহাট জেলার ৯টি উপজেলায় ছোট-বড় ৭ হাজারের অধিক গরুর খামারে ব্রাহমা, ফ্রিজিয়ান, সিন্দি, শাহিওয়ালসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের গরু পালন হচ্ছে। গরু, ছাগল, ভেড়াসহ এবার লক্ষাধিক পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। বাগেরহাটের পশু খামারগুলোতে কোনো কৃত্রিম খাবার খাওয়ানো হয়না। সব খামারই আমাদেও সার্বক্ষনিক মনিটরিং এর মধ্যে থাকে। এবার জেলার বিক্রির জন্য সবচেয়ে বড় গরু দুটি হচ্ছে লাল্টু ও বল্টু। আশা করি এবার খামারি মুনজুরুল গরু দু’টিকে তার কাংখিত দামে বিক্রি করতে পারবে।

পিডিএসও/রানা