পদ্মায় নাব্য সংকট : ঈদযাত্রায় শঙ্কা

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০১৮, ০৯:০২ | আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৮, ০৯:১৫

মুন্সীগঞ্জ ও মাদারীপুর প্রতিনিধি

পদ্মায় একদিকে তীব্র স্রোত, অন্যদিকে নদীতে নাব্য সংকট। এই দুই কারণে কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটে যাত্রী দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সবকিছু মিলিয়ে ঘাট এলাকায় বৈরী পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। নাব্য সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করায় গত মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে ফেরি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সীমিত আকারে কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল করে। এর মধ্যে যাত্রীবাহী বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও পচনশীল পণ্যের ট্রাককে অগ্রাধিকার দিয়ে ছোট আকারে ফেরিতে পার করা হয়।

এদিকে ঈদ উপলক্ষে আর দুই দিন বাদেই ঘরে ফিরতে শুরু করবেন দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা। এ সময় ফেরি বন্ধ থাকলে চরম দুর্ভোগ হতে পারে বলে শঙ্কা তাদের। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, শিগগিরই ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হবে। অন্যদিকে ফেরি চলাচল ব্যাঘাত ঘটায় যাত্রীদের চাপ বেড়েছে লঞ্চ ও স্পিডবোটে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে যাত্রীরা লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই পাড়ি দিয়েছেন উত্তাল পদ্মা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের ফেরি চলাচলে ব্যাঘাত ঘটায় ঘাট এলাকায় নাজুক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাট এলাকায় আটকা থেকে যাত্রী ও চালকরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। যাত্রীরা বাধ্য হয়ে তীব্র স্রোতের মধ্যে উত্তাল পদ্মা পাড়ি দিচ্ছেন।

খুলনা থেকে ঢাকাগামী যাত্রী রিপন চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘এই নৌরুটে যাতায়াতে আমাদের দুর্ভোগ কখনই কমছে না। ১২ মাস নদীতে ড্রেজিং করেও সমস্যার সমাধান হয় না। কারণ কতটুকু বালু অপসারণ করা হচ্ছে কিংবা ড্রেজিং করে নাব্যতা দূর হচ্ছে কি না? এসব বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের মানুষ নজদরদারি রাখলে পরিস্থিতি খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।’

মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক রুহুল আমিন জানান, কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটের লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে নাব্য তীব্র আকার ধারণ করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নদীতে চায়না ড্রেজারসহ কয়েকটি ড্রেজার দিয়ে বালু অপসারণ করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় পাড়ে আটকা পড়েছে কয়েকশ যানবাহন।

কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাটের ট্রাফিকের পরিদর্শক উত্তম শর্মা বলেন, নদীতে নাব্য সংকট কেটে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা রয়েছে। আশা করছি, ঈদের আগেই এই বৈরী পরিস্থিতি কেটে যাবে। ঘাট এলাকায় যানজট সৃষ্টি না হওয়ার লক্ষ্যে ট্রাফিক পুলিশ সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে।

এ নৌরুটে চলাচলকারী যাত্রীরা জানান, প্রতি বছর এমন সময় নাব্য সংকটের কারণে ফেরিসহ নৌযান চলাচল ব্যাহত হয়। ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ি পারাপারে সৃষ্টি হয় জটিলতা। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) কাঁঠালবাড়ী ঘাট সূত্রে জানা যায়, লৌহজং টার্নিং পয়েন্টের চ্যানেলমুখে নাব্য সংকটের কারণে গত শনিবার বিকেল ৫টা থেকে সব ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। ফেরি চলাচলের জন্য চ্যানেলমুখে যতটুকু পানি থাকা প্রয়োজন তা না থাকায় ফেরি ডুবোচরে আটকে যায়। ফলে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে চ্যানেলটি। এজন্য দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। সপ্তাহখানেক আগেই তিনটি রোরো ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। নাব্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করায় এ নৌরুটের ১৯টি ফেরিই বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে নাব্য সমস্যা নিরসনে খননকাজ শুরু হলে কে-টাইপ ফেরিগুলো স্বল্প যানবাহন নিয়ে চলাচল করলেও নৌরুটের সব ফেরি চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) শিমুলিয়া ঘাট সূত্র জানায়, কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটের লৌহজং চ্যানেলে নাব্য সংকট কাটিয়ে উঠতে সাতটি খননযন্ত্র খননকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। চ্যানেলমুখে প্রায় ১০ লাখ ঘনমিটার পলি জমেছে। ইতোমধ্যে পাঁচ লাখ ঘনমিটার পলি অপসারণ করা হয়েছে। এই খননকাজ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

বিআইডব্লিউটিএর কাঁঠালবাড়ী লঞ্চঘাটের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আক্তার হোসেন বলেন, চ্যানেলমুখে নাব্য সমস্যার কারণে নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া কয়েক দিন ধরেই ফেরি চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। ঈদ মৌসুমে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে এই নৌরুটে। নাব্য সমস্যার কারণে নৌযান চলাচল ব্যাহত হলে দুর্ভোগ হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে চ্যানেলে খননকাজ চলছে। শিগগিরই এ নৌরুট সচল হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে লঞ্চ চলাচলে কঠোর নিয়ম মেনে চলা হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহনে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। ঈদে যাত্রীদের চাপ মোকাবিলায় ৮৬টি লঞ্চ প্রস্তুত রয়েছে। এ ছাড়াও রয়েছে দুই শতাধিক স্পিডবোট।’

পিডিএসও/হেলাল