‘পায়রা বন্দরের ভূমি ক্ষতিগ্রস্থদের বাড়ী দেওয়া হবে’

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৮, ২১:৪৭ | আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৮, ২১:৫৭

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

পায়রা বন্দরের ভূমি অধিগ্রহনের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি হিসাবে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি সাবাইকে একটি করে বাড়ী প্রদান করা হবে। পায়রা বন্দর নির্মাণে দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে আপনারা যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন তার জন্য এ কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টায় দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রায় নব নির্মিত প্রশাসনিক ভবন ও পায়রা বন্দরের ভূমি অধিগ্রহনের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উদ্বোধন কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সরকার যখন দেশ থেকে মাদক নির্মূলে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, সেখানে বিএনপি এই মাদক বিরোধী যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোটকে উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী আরও বলেন, ওনাদের অর্জন ছিল দুর্নীতি। বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচার করা। খাম্বা তৈরি করে বিদ্যুত না দেয়া। পেট্রোল দিয়ে মানুষ খুন করা। তারা যানবাহনের ৯২ জন ড্রাইভার, ১৭ জন পুলিশসহ শত শত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে।

তিনি বিএনপি জামাতের নেতাকর্মীদের পরামর্শ দেন আপনারা পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হলে ওই সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করবেন না। কারণ আপনাদের নেত্রী খালেদা জিয়া পদ্মা সেতু দিয়ে চলাচল করতে নিষেধ করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শত বাধা-প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে দুঃসাহসিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ করে যাচ্ছেন। তখন ড. ইউনুসসহ বিএনপি চক্র এ সেতু নির্মাণে বাধা দিয়েছেন। ষড়যন্ত্র করেছেন সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধের জন্য। শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হয়েছে।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের সচিব আব্দুস সামাদের সভাপতিত্বে এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড.মাছুমুর রহমান।স্বাগত বক্তব্য রাখেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান কমডোর এম জাহাঙ্গীর আলম, বিএন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব তালুকদার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তানভীর রহমান, কলাপাড়া পৌরসভার মেয়র বিপুল চন্দ্র হাওলাদার, কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আব্দুল বারেক মোল্লাসহ গণমাধ্যম কর্মীরা।

উল্লেখ্য, ১২ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৫৮০০ স্কয়ার ফুটের পাঁচ তলা পায়রা বন্দর প্রশাসনিক ভবন নির্মান কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে। বন্দর সংশিষ্ট বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে ভূমি অধিগ্রহনের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ  হয় সাড়ে তিন হাজার পরিবার। এসব পরিবারের সাড়ে তিন হাজার সদস্যের মধ্যে ১৫০ জনকে কম্পিউটার, মেশন (রাজমিস্ত্রী), ড্রাইভিং প্রশিক্ষন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল সদস্যকে প্রশিক্ষিত করে পুর্নবাসন করার পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে। এসব পরিবারে পুর্নবাসনের জন্য ৪৯৩ একর জমিতে ১৪ টি প্যাকেজের আওতায় সাড়ে তিন হাজার বাড়ি নির্মানসহ মসজিদ, স্কুল নির্মানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

পিডিএসও/রানা