কাশিয়ানীতে টার্কি পালন করে স্বাবলম্বী স্কুলশিক্ষক

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৫৯

দুলাল বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ

টার্কি মুরগি পালন করে সফলতা পেয়েছেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার খায়েরহাট গ্রামের স্কুল শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান শেখ। শিক্ষকতার পাশাপাশি ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে মাত্র ৫টি টার্কি মুরগি দিয়ে ‘মেগা টার্কি খামার’ নাম দিয়ে শুরু করেন টার্কি পালন। এখন তার খামারে প্রায় অর্ধশতাধিক টার্কি মুরগি রয়েছে। টার্কি মুরগি ও বাচ্চা বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তিনি।

স্কুল শিক্ষক মনিরুজ্জামানের মেগা টার্কি মুরগির খামারের সাফল্য দেখে আশপাশের অনেক বেকার যুবকরা টার্কি পালনে আগ্রহী হয়ে উঠছে। পাশাপাশি তিনি কবুতরও পালন করছেন। মনিরুজ্জামান উপজেলার খায়েরহাট গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে এবং কাশিয়ানী জিসি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের বাংলা শিক্ষক। মনিরুজ্জামান শেখ বলেন, আমি স্কুলের ডিউটি শেষ করে সারাদিন বাসায় বসে থাকতাম। বেতনের টাকা দিয়ে ভালমতো আমার দুই মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে সংসার চলতো না। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো। পরে কিছু কবুতর পালন শুরু করি। এতে সফলতা আসলে পাশাপাশি ৫টি টার্কি মুরগি পালন শুরু করি ।

টার্কির বয়স ৬/৭ মাস যেতে না যেতেই ডিম দিতে শুরু করে। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। সেই ৫টি টার্কি মুরগি থেকে এখন প্রায় অর্ধশতাধিক টার্কি মুরগি রয়েছে তার খামারে। এখন তিনি বাণিজ্যিকভাবে টার্কি মুরগি ও কবুতর পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। টার্কি ৬ মাসের মধ্যে ডিম দিতে শুরু করে। এরা ঠান্ডা-গরম সব সহ্য করতে পারে। তাই টার্কি পালনে লাভ বেশি। টার্কি মুরগি দানাদার খাবারের চেয়ে সাধারণ পোকা-মাকড়, প্রাকৃতিক খাবার কচুরীপানা, কলমি শাক, বাঁধাকপি, ঘাস এসব বেশি পছন্দ করে বলে জানান মনিরুজ্জামান। কাশিয়ানী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন, টার্কি পালন করে সহজেই স্বাবলম্বী হওয়া যায়। তাই যারা টার্কি পালন করছেন, তাদেরকে রোগ-বালাই সম্পর্কে সচেতনসহ সব ধরণের সহযোগিতা করছি।

পিডিএসও/রিহাব