খাগড়াছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের ওপর সন্ত্রাসী হামলা

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৮, ১৭:৫৩ | আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৮, ১৯:২১

শংকর চৌধুরী, খাগড়াছড়ি

দূর্বৃত্তদের হামলায় গুরুত্বর আহত হয়েছেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় কোর্ট রোড সড়কে তার ওপর হামলা করে দূর্বৃত্তকারীরা। খাগড়াছড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মুমুর্ষ অবস্থায় কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী চেয়ারম্যানের গাড়ি ড্রাইভার চিকু বড়ুয়া বলেন, চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি স্যার আমাকে বলেন, চিকু তুমি পিছনে বস আমি চালায়। সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমাসহ আমরা দুইজন মোটরসাইকেল যোগে জেলা সদরের সাতভাইয়া পাড়াস্থ বীণা উপকেন্দ্র থেকে ফিরছিলাম। ফেরার পথে শহরের কবরস্থান সংলগ্ন খাগড়াছড়ি ইসলামীয়া মাদ্রাসার সামনে ৩ জন পাহাড়ি যুবক মোটরসাইকেল যোগে এসে আমাদের গতিরোধ করে। প্রথমে তাকে লাথি মেরে ফেলে দেয়, আমি তখন মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পরে সড়কের পাশে ড্রেইনে পড়ে যায়। 

এসময় ঐ তিন পাহাড়ি যুবক ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করে তাকে অন্য একটি মোটরসাইকেলে তোলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা স্যার, নিরুপায় হয়ে রক্তাক্তবস্থায় তাদের সাথে ধস্তাধস্তি করে কোর্ট বিল্ডিং প্রেস ক্লাবের দিকে দোড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। দিবালোকে সড়কের ওপর রক্তাক্ত ব্যাক্তিটি সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, চিনতে পেরে স্থানীয় জনতা তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা তাকে ছেড়ে পালিয়ে যায়। এসময় জনতা হামলাকরী ৪ জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে বলেও  জানান চেয়ারম্যানের গাড়ি ড্রাইভার চিকু বড়ুয়া।

পরে, পুলিশের সহায়তায় খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ সামশুল তাবরীজ আহতাবস্থায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে হাসপাতালে ভর্তি করে। খাগড়াছড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বেলা দুইটার দিকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরিষদ চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমার ওপর সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে এমন খবর পেয়ে সাথে সাথে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ছুটে যান খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী। 

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (অরএমও) ডা: নয়নময় ত্রিপুরা জানান, তার মাথায় আঘাত লেগেছে, তাতে একাধিক শেলায় করতে হয়েছে। আঘাত গুরতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহাদাত হোসেন টিটো বলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা যেহেতু ইউপিডিএফ সমর্থিত। ধারণা করা হচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর হামলা করতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে আটক করা ৪ যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এদিকে, ইউপিডিএফ’র মুখপাত্র নিরন চাকমা’র স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তার ওপর সংস্কারবাদী জেএসএস এর সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালিয়েছে অভিযোগ করে, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমার ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও দোষীদের শাস্তির দাবি করা হয়।

তবে, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ইউপিডিএফ জেএসএস’র বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা নিযে ব্যাক্তিগত চরিত্রের কারণে,(ইউপিডিএফ’র) দলীয কোন্দল ও জনবিরোধী কার্যকলাপের জন্য অত্যন্ত বিতর্কিত। তাই তার ওপর জনগণের যেকোনো জনের ক্ষোভের সঞ্চার হতে পারে। এই ধরণের ঘটনায় জেএসএস আগেও  জরিত ছিল না, এখনও জরিত নয় বলে দাবি করেন।    

উল্লেখ্য, গত ৩ মে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা নিহতের পর থেকে নিরাপত্তা জনিত কারণে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা।

পিডিএসও/রিহাব