গৌরীপুরে উদ্যান তত্ত্ববিদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৮, ১৯:১৮

রাকিবুল ইসলাম রাকিব, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)

ময়মনসিংহের গৌরীপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যান তত্ত্ববিদ রকিব আল রানার বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচারে অর্থ কেলেঙ্কারি, রাজস্ব ফাঁকি, গাছের চারা বিক্রির টাকা হাতিয়ে নেয়াসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন দপ্তরে রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তবে অভিযুক্ত রকিবের দাবি, অফিসের একটি চক্র তাকে ফাঁসানোর জন্য নানা জায়গায় অভিযোগ করছে। এমনকি তার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য গাড়িতে ইয়াবা দিয়ে পুলিশে দেয়ার চেষ্টা করেছে। 

হর্টিকালচার সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২ জুন উদ্যান তত্ত্ববিদ রাকিব আল রানা গৌরীপুর হর্টিকাল সেন্টারে যোগদান করেন। দীর্ঘদিন সুনামের সাথে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করার পর সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে নানা রকম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের জুন ক্লোজিংয়ে আবাসিক ভবণ সংষ্কারের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও অন্যান্য মেরামতের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে। অথচ যেখানে আবাসিক ভবন নেই সেখানে এই সংষ্কার বরাদ্দ পেতেও বিভাগীয় অফিস থেকে উৎকোচের বিনিময়ে অনুমোদন করার অভিযোগ রয়েছে। পরে ভূয়া বিল-বাউচারের মাধ্যমে ওই অর্থ তুলে নেন রকিব। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর তড়িগড়ি করে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন তিনি।

বুধবার দুপুরে হর্টিকালচার সেন্টারে গিয়ে দেখা যায় নিম্নমানের ইট-কাঠ ও পিলার দিয়ে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। গুঞ্জন আছে বিভাগীয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দেয়ার পরই রকিব নিজেকে বাঁচাতে এ ঘর নির্মাণ করে দায়সারার চেষ্টা করছেন। অপরদিকে ২০১৬ সালে যোগদানের পরই নানা উপকরণ ক্রয়ের নামে ১৭টি ভুয়া বিল-বাউচার জমা দিয়ে তুলে নেন ৩ লাখ ১৯ হাজার ৮২৫ টাকা। এরমধ্যে স্থানীয় একটি ফার্নিচারের দোকান থেকে আসবাবপত্র ক্রয়ের নামে ৬টি বিল-ভাউচার করা হলে ওই দোকানে গিয়ে এসব বিল-বাউচারের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এমনকি অফিসেও খোঁজে পাওয়া যায়নি এমন ফার্নিচার।

এদিকে ২০১৭ সালের ১৫ জুন নেত্রকোনা খামারবাড়িতে ৩১ হাজার টাকার চারা বিক্রি করা হয় ১৬৩৬৬৪নং রশিদে। কার্বন কপিতে মাত্র ১৫ টাকা লিখে ৩০ হাজার ৯৮৫ টাকাই আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে রকিবের বিরুদ্ধে। একই বছরের ১৯ জুন ৪ হাজার ৪শ’ টাকার গাছের চারা বিক্রির রশিদ রয়েছে। একই তারিখে কার্বন কপিতে মাত্র ১০ টাকা লিখে সরকারি তহবিলে জমা দেয়া হয়েছে। গায়েব হয়ে যায় ৪ হাজার ৩৯০ টাকা। এভাবে দু’বছরে সরকারের প্রায় ২ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।

বুধবার দুপুরে হর্টিকালচার সেন্টারে গেলে এসব বিষয় নিয়ে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে এখানকার এক নিয়মিত শ্রমিক বলেন, উপসহকারি উদ্যান কর্মকর্তা শামীমা ম্যাডাম অফিস প্রধান না হয়েও অফিস প্রধানের ভূমিকা পালন করতে চান। এসব বিষয়ে কেউ বাধা দিলে ম্যাডাম খারাপ ভাষায় গালি-গালাজ করেন। এমনকি প্রভাব খাটিয়ে অফিসারদেরও বদলি করে দেন। পত্রিকায় যেসব অভিযোগ উঠেছে সেগুলো ম্যাডামের যোগসূত্রেই হয়েছে। কারণ এসব কাগজ-পত্র উনিই দেখাশোনা করতেন।

উপসহকারি উদ্যান কর্মকর্তা শামীমা আক্তার বলেন, চারা উৎপাদনের বিষয়টি আমি দেখভালো করি। অন্যান্য বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। অফিসের দুর্নীতির বিষয়টি পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এর বেশি আর কিছু বলতে পারবো না।

এসব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উদ্যান তত্ত্ববিদ রকিব আল রানা বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলো ভিত্তিহীন। ভবনের টাকা দিয়ে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়াও নিজের টাকা দিয়ে সিসি ক্যামেরা ও অফিসের অন্যান্য সংষ্কার কাজ করেছি। কিন্তু অফিসের একটি চক্র প্রভাব খাটিয়ে এখানো কোনো অফিসারকেই এখানে থাকতে দিচ্ছেনা। আমি যোগদানের আগে ৬ মাসে ৩জন অফিসার বদলি হয়েছে। এখন আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতেই ওই চক্রটি উঠে পড়ে লেগেছে। তবে আমি এই মুহুর্তে ওই চক্রের নাম বলতে পারছিনা।

পিডিএসও/রিহাব