আজ কবি আহসান হাবীবের মৃত্যুবার্ষিকী

নামমাত্র ফলক ছাড়া কিছুই নেই কবির নিজ জেলা পিরোজপুরে

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৮, ১৫:৩৭ | আপডেট : ১০ জুলাই ২০১৮, ১৬:০১

মোঃ ইমাম হোসেন, পিরোজপুর

কবিতার ধারায় পূর্ব বাংলায় নব্য আধুনিকতার পথিকৃৎ কবি আহসান হাবীবের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৮৫ সালের এই দিনে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তার মৃত্যুর ৩২ বছরেও নামমাত্র ফলক ছাড়া তেমন কিছুই নেই কবির নিজ জেলা পিরোজপুরে ।

১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পিরোজপুর সদর উপজেলার শঙ্করপাশা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহন করেন। কলেজে অধ্যয়নকালেই কলকাতার বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকায় তার কবিতা স্থান করে নেয়। তখন থেকে কবি হিসেবে কবি আহসান হাবীবের আত্মপ্রকাশ। এই কবি সাহিত্যচর্চার জন্য তিরিশের দশকেই কলকাতায় চলে যান। সেখানে দৈনিক তকবীর, মাসিক বুলবুল ও সওগাত পত্রিকায় কাজও তিনি। কলকাতার বিভিন্ন সাময়িকীতে নিয়মিত লিখতেন আহসান হাবীব। দেশভাগের পরও তিনি সাংবাদিকতায় যুক্ত ছিলেন। আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রের স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।

১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম প্রবন্ধ ধরম। ১৯৫০ সালে স্থায়ীভাবে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন কবি আহসান হাবীব। দৈনিক আজাদ, মাসিক মোহাম্মদী, দৈনিক কৃষক, দৈনিক ইত্তেহাদ ও সাপ্তাহিক প্রবাহ পত্রিকায় সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৬৪ সাল থেকে দৈনিক পাকিস্তান ও পরে দৈনিক বাংলায় সহকারী সম্পাদক ও সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার হাতে সাহিত্যে অভিষেক ঘটেছে আজকের খ্যাতনামা প্রবীন কবি-সাহিত্যিকদের অনেকেরই। সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন বাংলা একাডেমি ও একুশে পদকসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা।

এ গুনী ব্যক্তির নিজ জেলা পিরোজপুর তার এ প্রাপ্তি স্বীকার শুধুমাত্র একটিমাত্র ফলকেই সীমাবদ্ধ। নেই কোনও সংগ্রহশালা, নেই কোনও স্থাপনা। এমনকি কবির নিজের বাড়িও যেন আজ পরিণত হয়েছে মাটির স্তুপে । অবহেলা আর উদাসীনতার নিদর্শন পাওয়া যায় কবির গ্রামের বাড়ি শংকর পাশার কাঁদামাটির সড়ক দেখে। কর্তৃপক্ষ আর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এমন উদাসীনতায় অবাক কবি পরিবারের স্বজনরাও।

কবি আহসান হাবীবের ভাই গোলাম কবির বলেন, এখানে অনেকই আসে কিন্তু কিছুই দেখতে না পেয়ে সবাই দুঃখ প্রকাশ করে । এমনকি এ বাড়িতে আসার পথটিও ভালো না । যদি সরকারি উদ্যোগে এখানে কিছু করা যেত তাহলে আমাদের অনেক ভালো লাগত । অন্ততপক্ষে কবির কবিতা ও লেখনী দিয়ে একটি সংগ্রহশালা যদি করা হয়, তাহলে তার স্মৃতি রক্ষার্থে কিছু করা যেত ।

স্থানীয় যুবক ইমরান হোসেন বলেন, কবি সম্পর্কে আমরা এ প্রজন্মের অনেকেই অনেক কিছু জানি না । জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকীতে কবির কবিতা আবৃত্তি করে স্মরণসভার আয়োজন করা হলে এ প্রজন্মের কাছে কবির বাংলা সাহিত্যে তার অবদান সম্পর্কে আমরা আরও বেশি জানতে পারবো।

পিরোজপুর জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক খালিদ আবু বলেন, কবির স্মৃতি রক্ষার্থে অন্তত শহরের যে কোনও একটি প্রতিষ্ঠানের নাম বা স্থানের নাম করা হয় কবির নামে তাহলে কবি সম্পর্কে এ প্রজন্মের তরুণদের জানার সুযোগটা আরো বেড়ে যাবে । সাথে সাথে কবির প্রতি আমাদের শ্রদ্ধার নিদর্শন স্বরূপ একটি যদি মুর‌্যাল স্থাপন করা যায় তাহলে আরও বেশি ভালো হতো ।

পিরোজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল আহসান গাজী বলেন, আমরা কবির গতবার মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা করেছিলাম, এবার করবো । কবির স্মৃতি রক্ষার্থে আমাদের পরিকল্পনা আছে একটি সংগ্রহশালা, একটি পাঠাগার, একটি মুর‌্যাল স্থাপনের। কাজ করে চলেছি আশা করছি খুব শিগগির এ ব্যপারে ভালো কিছু হবে ।

কথায় নয় বাস্তবিক অর্থে সত্যি কিছু হোক এমনটিই দাবি কবি আহসান হাবীবের পরিবার ও এলাকাবাসীর।

পিডিএসও/রিহাব