প্রধানমন্ত্রীর অনুদান পেয়েও চিকিৎসা করা হলো না হোসেন আলীর

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৮, ১৪:৩১ | আপডেট : ০৮ জুলাই ২০১৮, ১৪:৪৫

রাকিবুল ইসলাম রাকিব, গৌরীপুর

বেহাত হওয়া প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের টাকা ফেরত পেয়েও উন্নত চিকিৎসা নিতে পারলেন না ময়নসিংহের গৌরীপুরের অসুস্থ আওয়ামী লীগ নেতা হোসেন আলী। তার আগেই মৃত্যুর কাছে হেরে গেলেন। শনিবার রাত ৭টা ৩০ মিনিটে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। রোববার সকাল ১০টায় নিজ গ্রামে জানাযা শেষে তাকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, হোসেন আলীর বাড়ি গৌরীপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের গছন্দর গ্রামে। তিনি ২ নং ওই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ২নং গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে  নৌকার মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে মিছিল করতে গিয়ে মাটিতে পড়ে গিয়ে দু পা ও মেরুদণ্ডে আঘাত পান। এরপর স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করা হলেও হোসেনের দুটি পা ধীরে ধীরে অচল হয়ে পড়ে। কিন্তু টাকার অভাবে তিনি উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। নিরুপায় হয়ে হোসেন আলী প্রধানমন্ত্রী বরাবর আর্থিক সাহায্যের আবেদন করেন। পরে স্থানীয় এমপি নাজিম উদ্দিন আহমেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিধু ভুষণ দাস, জেলা আওয়ামী লীগ নেত্রী নাজনীন আলমের প্রচেষ্টায় চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ হতবিল থেকে এককালীন ৩০ হাজার টাকা অনুদান পান হোসেন আলী। পরে অনদুানের চিঠির প্রাপ্তির পর হোসেন আলীর স্ত্রী মিনারা বেগম ২৮ জুন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন স্বামীর নামে বরাদ্দকৃত টাকার চেক উত্তোলন করে নিয়ে গেছে।

গত ২ জুলাই সোমবার প্রতিদিনের সংবাদ প্রিন্ট সংস্করণে ‘আ.লীগ নেতার চিকিৎসার জন্য বরাদ্দ প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র’ শিরোনামে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। পরে ওইদিন দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানা করিম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবুল মনসুর, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনসহ প্রশাসনের একটি প্রতিনিধিদল হোসেন আলীর বাড়িতে গিয়ে তার হাতে অনুদানের ৩০ হাজার টাকা তুলে দেন। অপরদিকে ওইদিন বিকালেই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুক্তাগাছা ইউএনও সুবর্ণা সরকার প্রতারণার মাধ্যমে হোসেন আলীর অনুদানের চেক হাতিয়ে নেয়া প্রতারক চক্রের সদস্য আমিনুল ইসলামকে মুক্তাগাছা থেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের টাকা হাতে পাওয়ার পর হোসেন আলীর পরিবার তার উন্নত চিকিৎসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। কিন্তু গত শনিবার সন্ধ্যায় হোসেন আলী বুকে ব্যাথা ও শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে পরিবারের লোকজন তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যায়। পরে ৭টা ৩০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হোসেন আলী মৃত্যুবরণ করেন। আজ সকালে হোসেন আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকের মাতম। তার স্ত্রী মিনার বেগম কাঁদতে কাঁদতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।

হোসেন আলীর ছেলে মোশারফ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের টাকা হাতে পাওয়ার পর আমরা বাবার উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু এরইমধ্যে বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। আমরা অভাবী মানুষ। আমাদের পাশে দাঁড়ানো ও সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুতি জানাচ্ছি।

জেলা আওয়ামী লীগ নেত্রী নাজনীন আলম বলেন, হোসেন আলী আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিতকর্মী ছিলেন। উনার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের টাকাটা হাতে পেয়েও উনি চিকিৎসা করাতে পারলেন এই বিষয়টা মনে পীড়া দিচ্ছে। হোসেন আলীর পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। তাদের প্রতি সদয় দৃষ্টি দেয়ার জন্য মানবতার মা জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের দরিদ্র ও অস্বচ্ছল একজন কর্মীও যেন বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ না করে সেজন্য দলীয় হাইকমান্ডের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।

পিডিএসও/হেলাল