লালমনিরহাটে বাড়ি-ঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে আহত ১০

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৮, ২০:৫৮

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট

লালমনিরহাটে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাড়ি ঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নি সংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছে।

বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের কালমাটি মাষ্টার পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, মোজাফ্ফর আলী (৬০), তার স্ত্রী নাজমা বেগম (৪৮), ছেলে ভোলা মিয়া ও ছেলের বউ শিরিনা আক্তারসহ হামলাকারী পক্ষের ৪জন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কালমাটি মাষ্টারপাড়া এলাকার মোজাফ্ফরের সাথে তারই ছোট ভাই শফিকুলের দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে বুধবার বিকেলে শফিকুল ও কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন গং তার ৩০/৪০ জন ক্যাডার নিয়ে মোজাফ্ফরের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীদের ভয়ে মোজাফ্ফরসহ তার পরিবারের লোকজন ভয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে হামলাকারীরা ঘরের বেড়া ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে মোজাফ্ফরসহ পরিবারের সকলকে মাটিতে ফেলে বেধরক মারপিট করে।

এক পর্যায়ে শফিকুল ও মাদক ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় এলাকাবাসী তাদের এই অন্যায় অত্যাচার বন্ধ করতে বললে শফিকুল ও মাদক ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন স্থানীয় দুইজনের মাথা ফেটে দেয়। পরবর্তীতে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় সময় স্থানীয় লোকজন হামলাকারীদের ৪জনকে আটক করে পুলিশে সপর্দ করে।

এরপরেও হামলাকারীরা আহত মোজাফ্ফর ও তার পরিবারের সদস্যদের হাসপাতালে নিতে বাধা সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনের সহযোগীতায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। 

আহত মোজাফ্ফর জানান, তার ছোট ভাই শফিকুলের হুকুমে মাদক ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন গং তার ক্যাডার বাহিনী কিছু বুঝে উঠার আগেই তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে ও তার পরিবারের সবাইকে বেধরক মারপিট করে। তাদের ভাইদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। কিন্তু তার ভাই এভাবে সন্ত্রাসী ভাড়া করে বাড়িতে হামলা করবে তার ধারনা ছিল না। এ সময় হামলাকারীরা তার ঘরে ভুট্টা ও তামাক বিক্রি করা রক্ষিত ৮০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। তিনি তার ভাই শফিকুল ও মাদক ব্যবসায়ী আলাউদ্দিনসহ হামলাকারীদের বিচার দাবি করেন।

এ ব্যাপারে আলাউদ্দিনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার দলের ৪জনকে তারা ধরে মারপিট করে পুলিশে দিয়েছে। আমি এর বদলা নিবই। 
লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, ইতোমধ্যে থানা পুলিশ হামলাকারীদের ৪জনকে আটক করেছে। এখন পর্য়ন্ত কোনও পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পিডিএসও/রিহাব