রোহিঙ্গাদের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৮, ১৯:৪২

অনলাইন ডেস্ক

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক কারণে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন। অবশ্যই তাদেরকে মিয়ানমারে ফেরত যেতে হবে। তবে রোহিঙ্গাদের ঢলে স্থানীয়দের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সেটিও পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। তারই সূত্রে স্থানীয়দের জন্য ঈদ উপহার পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। 

মঙ্গলবার দুপুরে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণের আনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। 

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু রোহিঙ্গা নয়, স্থানীয়দের কথাও ভাবেন। তাই স্থানীয়দের জন্য ঈদ উপহার পাঠিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে রয়েছেন, তা না হলে উনি নিজের এসব উপহার দিতেন। সাধারণ মানুষকে ভালোবাসেন প্রানমন্ত্রী। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের ফেরতের বিষয়ে সরকার দ্রুতগতিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।  

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে পাঠানো এসব উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের সচিব মো. শাহ কামাল, বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল মান্নান, এনডিসির শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম, জেলা পুলিশ সুপার ড. ইকবাল হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মো. আলী, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান, টেকনাফ মডেল থানার ওসি রনজিত কুমার বড়ুয়া, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শফিক মিয়া, জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. ইউনুছ বাঙ্গালী, হ্নীলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এইচ কে আনোয়ার প্রমুখ।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় ছয় হাজার মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী ঈদ উপহার এসেছে। সেগুলো মঙ্গলবার সকালে বিতরণ করা হয়েছে। উপহারের মধ্যে ২ কেজি চাল, ৫০০ গ্রাম দুধ, ১ লিটার তেল, ১ কেজি চিনি, ৪ প্যাকেট লাচ্ছা সেমাই, ১টি রুহ-আফজা, ১টি করে শাড়ি, লুঙ্গি এবং নগদ ২ হাজার টাকা ছিল। 

উল্লেখ্য, গত বছর আগস্ট মাসের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গারা কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফে প্রবেশ শুরু করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা উখিয়া ও টেকনাফে বসবাস করছে। এদের মধ্যে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা গত বছর আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

পিডিএসও/রিহাব