বৃষ্টিতে স্থবির চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৮, ১২:৫৬

চট্টগ্রাম ব্যুরো

‘দুপুরের এ সময়ে মার্কেটের গলিতে ক্রেতাদের প্রচন্ড ভিড় থাকত। আর আজকের ফাঁকা অবস্থা তো দেখছেনই। দিনভর বৃষ্টির কারণে লোকজন ঘর থেকে বের হয়নি। সন্ধ্যার দিকে বৃষ্টি থেমে গেলে ক্রেতা আসা শুরু হয়।’ ঈদের বেচাবিক্রি সম্পর্কে জানতে চাইলে রোববার সন্ধ্যায় ওপরের কথাগুলো বলেন চট্টগ্রাম নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সেলিম।

গত শনিবার বিকেল থেকে চট্টগ্রাম নগরে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। গতকাল রোববার থেমে থেমে তা চলে দিনভর। কখনো ভারী বর্ষণ, আবার কখনো গুঁড়িগুঁড়ি। বৃষ্টির কারণে কাপড় ব্যবসায়ীদের মতো বিপাকে পড়েছেন নগরের বাসিন্দারা। গতকাল মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় ছিল অনেক কম। কয়েক দিন ধরে জমে ওঠা ঈদের বাজার গতকালের বৃষ্টিতে ভাটা পড়েছে। বৃষ্টিতে স্থবির হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম।

এদিকে, চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি চলাচল করতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপের কারণে উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোকে এ সতর্কতা সংকেত দেওয়া হয়েছে।

নগরে পানিতে তলিয়ে যাওয়া এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে, আগ্রাবাদের কয়েকটি আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা, চকবাজার ও আশেপাশের এলাকা, কাতালগঞ্জ, নাসিরাবাদ দুই নম্বর গেইটসহ আশেপাশের এলাকা, শোলকবহর, বাকলিয়া, খাতুনগঞ্জ-চাক্তাই এলাকা, চান্দগাঁও, হালিশহর, সবুজবাগ, শান্তিবাগ, ফইল্যাতলি, বউবাজার, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড ও আশেপাশের এলাকা, হামিদচর, বহদ্দারহাট।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মহানগরীর অফিস আদালত, ব্যাংকপাড়া এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় উপস্থিতি ছিলো অনেক কম। নগরীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গা রাস্তায় জমে থাকা পানিতে ডুবে দিনের বিভেন্ন সময় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যানবাহন বিকল হয়ে গেলে কোথাও কোথাও যানজট লেগে ট্রাফিক ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৬৪ দশমিক ৫ মিলিলিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভারী বৃষ্টিপাতের সঙ্গে দমকা হাওয়া মঙ্গলবার বেলা ১২টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে, বৃষ্টির কারণে বিভিন্নস্থানে জলাবদ্ধতা হচ্ছে। বর্ষণের ফলে নগরীর চকবাজার, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, স্টেশন রোড, রিয়াজউদ্দিন বাজার, দুই নম্বর গেটসহ বেশ কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। প্রবল বর্ষণের ফলে আমতলা এবং বাজারের কিছু এলাকা হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে যায়। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে বেচা-বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। দুর্ভোগের শেষ নেই। চট্টগামে জলাবদ্ধতা একটি বড় ধরনের সমস্যা। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনই ছিল গত সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের নির্বাচনী অঙ্গিকার।

পিডিএসও/তাজ