রমজানের শুরুতেই বেসামাল নিত্যপণ্যের বাজার

সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি রাজশাহীবাসী

প্রকাশ : ১৯ মে ২০১৮, ২১:৩৯

এস এইচ এম তরিকুল, রাজশাহী

পবিত্র মাহে রমজানের শুরুতেই বেসামাল হয়ে গেছে রাজশাহীর নিত্যপণ্য বিক্রেতারা। রমজানের পবিত্রতায় দাম কমানো তো দুরের কথা পাল্লা দিয়ে ক্রেতাদের পকেট কাটতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তারা। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে সরকারের ওই ঘোষনায় কানাচ্ছেনা ব্যবসায়ীরা। তবে এর কারণ হিসাবে সরকার দলীয় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকেই দায়ী করেছেন তারা। আর প্রতিটি বাজারে তদারকি না থাকায় ভয়হীন দাম নিচ্ছেন ব্যবসায়ী ও দোকানীরা।

সরেজমিনে রাজশাহীর মহানগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ডাল, চিনি, ছোলা, পিঁয়াজ, রসুন, আদা, লবনসহ প্রায় সকল নিত্যপণ্যের দামই বেড়েছে। এ অজুহাতে সবজির বাজারেও আগুন। অব্যাহত দাম বাড়ার কারণে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। রমজানের পণ্য হিসাবে পরিচিত ছোলা, চিনি, পিঁয়াজ, মসুর ডালের দাম দুই দিনের ব্যবধানে ৫-৭ টাকা বৃদ্ধি হয়ে গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার দলীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পণ্য গুদামজাত করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। নিরোপেক্ষ আইনী ব্যবস্থা থাকলে এমনটি হতনা বলেও জানান তারা। এদিকে, দোকানগুলোতে মূল্য তালিকা টানানো হয়নি, নেই কোন তদারকিও। যে কারণে ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। 

বিক্রেতারা জানান, ভোক্তা পর্যায়ে গত সপ্তাহে ছোলার দাম ছিল কেজি প্রতি ৫৮-৬০ টাকা, আর এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকা। একই অবস্থা পিঁয়াজের ক্ষেত্রেও। দেশে উৎপাদিত ও আমদানি করা পিঁয়াজ কয়েক সপ্তাহ ধরে কেজি প্রতি বিক্রি হয়েছে ৩৩-৩৫ টাকা ও ২৮-৩০ টাকা, এখন দেশী পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা ও আমদানিকৃত পিঁয়াজ ৩৫ টাকা। প্রতি কেজি চিনি ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৮-৬০ টাকায়। এছাড়াও দেশী মসুর ডাল কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০৫-১১০ টাকায়। আর আমদানিকৃত মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকায়। অন্যদিকে মুগডাল, খেসারি, ডাবলি, বুটসহ সবধরণের ডালে কেজিতে বেড়েছে ৫-১২ টাকা। তবে মানভেদে বাজারে নতুন চাল আসতে শুরু করায় পাইকারী বাজারে চালের দাম নিম্নমূখী। ভোক্তা পর্যায়েও কমে যাবে বলেও জানান ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে নগরীর সাহেববাজার চাল বিক্রেতারা প্রতিকেজি হাইব্রীড চাল ৩৫, গুটিস্বর্ণা ৩৫ থেকে ৪০, এলসি চাল ৩৮-৪২, পারিজা/স্বর্ণা ৪২/৪৪, আটাশ চাল ৫০-৫৫, মিনিকেট ৫৫-৬০ টাকায় বিক্রি করেছেন। প্রতিকেজি আটা খোলা ২৪-২৫ এবং প্যাকেট আটা ৩০-৩২ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার সর্তে এক পাইকারি দোকানী বলেন, ‘এক সপ্তাহের ব্যবধানে সিন্ডিকের কাছে প্রতিটা জিনিসের দাম বেশী হয়ে গেছে, সেখানে গিয়ে কেউ মাথা ঘামাচ্ছেনা, যত প্রেশার আমাদের কাছে। ওরা নেতা যে, এ কারণে সবার মুখ বন্ধ হয়ে গেছে। দাম বেশীর কারণ জানাবো না ক্রেতাদের মাল দিব। একদিকে, ক্রেতাদেরও দাম বাড়ার কারণ বলতে হবে আবার মিডিয়ার কাছেও। যেন রোজা এসে আরো বেশী কথা বলা লাগছে। প্রশাসন ব্যবস্থা নিলেই তো হয়, আমরাও বাঁচি, ক্রেতারাও বাঁচে। তারা এখন সিন্ডিকেটদের দেখতে পাবেনা, যত মরণ আমাদের। আবার বলাও যাবেনা, বললেই জঙ্গি বলে ধরে নিয়ে যাবে। তারপর আবার ফেলো লাখ টাকা, না হলেই কারাগারে থাকা জঙ্গীদের সঙ্গি হও।’ ক্রেতাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্য দেবার সময় কাজের সাথে সাথে এভাবেই কথা বলছিলেন তিনি। প্রতিবাদ করায় সম্প্রতি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ওসিকে প্রায় এক লাখ টাকা দেয়া লেগেছে বলেও জানান ওই ব্যবসায়ী।

সার্বিক বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষন অধিদপ্তর রাজশাহীর সহকারী পরিচালক অপূর্ব অধিকারী শনিবার বিকালে প্রতিদিনের সংবাদকে মুঠোফোনের মাধ্যমে জানান, আজকে জেলা প্রশাসন, র‌্যাব ও ভোক্তা সংরক্ষণ এবং ক্যাবের সমন্বয়ে নগরীর সাহেব বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বাজার মনিটরিংকালে স্বাভাবিক পর্যায়ে ছিল পণ্যের দাম। মূল্য তালিকা না টানানোকারীদের জরিমানা করা হয়েছে। প্রতিদিনই এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শকের (ওসি) সরকারী মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি কেটে দিয়েছেন।

পিডিএসও/রানা