মঞ্জুকে নিয়েই কাজ করতে চান খালেক

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৮, ০৯:৫৮ | আপডেট : ১৬ মে ২০১৮, ১১:২৪

খুলনা প্রতিনিধি

খুলনা সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে জয় পাওয়া আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক বলেছেন, এই নির্বাচনে তার প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে সঙ্গে নিয়েই খুলনার উন্নয়নে কাজ করতে চান তিনি। এ সময় ভোট দেওয়ায় জনগণের কাছে ঋণী উল্লেখ করে কাজের মাধ্যমে সেই ঋণ শোধ করার প্রতিশ্রুতি দেন নবনির্বাচিত এই মেয়র।

কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে বিএনপির প্রার্থীর চেয়ে বিপুল ভোটে এগিয়ে থাকার ফল পাওয়ার পর মঙ্গলবার রাত সোয়া ৮টার দিকে খুলনা বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্সের নির্বাচনী ফলাফল সংগ্রহ ও ঘোষণা কেন্দ্রে আসেন তালুকদার খালেক। এ সময় তিনি বলেন, খুলনার জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে। আমি তাদের কাছে ঋণী। আমি এই ঋণ শোধ করব কাজের মাধ্যমে।

‘অক্লান্ত পরিশ্রম’ করায় নেতাকর্মীদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তাদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তালুকদার আবদুল খালেক। পরাজিত প্রার্থীকে নিয়েই একসঙ্গে কাজ করবেন কিনা এমন প্রশ্নে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত এই মেয়র বলেন, অবশ্যই। আমি যখন খুলনার মেয়র ছিলাম, তখন তিনি (নজরুল ইসলাম মঞ্জু) এমপি ছিলেন। সে আমার আমার ছোট ভাইয়ের মতো। আমরা যখন খুলনা শহরে বিভিন্ন আন্দোলনে মাঠে ছিলাম, সেও সেই আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল। মাঠ পর্যায়ের একজন নেতা। এটা আমি অস্বীকার করি না। কাজেই নির্বাচনে একজন হারবে একজন জিতবে। অতএব, এসবকিছু মেনে নিয়েই আমাদের চলতে হবে।

খুলনা শহরের উন্নয়নে মঞ্জুর যে কোনো ধরনের সহযোগিতা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, খুলনা শহর আমাদের। আমরা সবাই বসবাস করি। এই শহরটা যদি ভালো থাকে আমরা ভালো থাকব। আমি চেষ্টা করব, যেসব অঙ্গীকার করেছি, সেগুলো বাস্তবায়ন করার।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তালুকদার খালেক বলেন, আমি পাঁচ বছর যে কাজগুলো রেখে গিয়েছিলাম, সেই অর্থ এবং কাজ কীভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে, সেটা আমি যাচাই-বাছাই করব। এটা আমি তদন্ত করে দেখব, এর সঙ্গে যদি কোনো দুর্নীতি হয়ে থাকে, সেটাও তদন্তে বের হয়ে যাবে। পাশাপাশি এই কাজগুলো দিয়েই আবার শুরু করব।

এবার খুলনায় ‘ভোট ডাকাতির’ নির্বাচন হয়েছে অভিযোগ করে যেসব কেন্দ্রে ‘কারচুপি হয়েছে’ সেগুলোতে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

এ প্রসঙ্গে মেয়র পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত তালুকদার খালেক বলেন, সকাল থেকে ৪টা পর্যন্ত আমি বিভিন্ন কেন্দ্রে গেছি। উনি কোন কেন্দ্রে গেছে, আমি জানি না। আমার সঙ্গে অনেক সাংবাদিক ছিল। কোনো কেন্দ্রে আমার চোখের সামনে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটা একটা সাজানো নাটক। নির্বাচনের শুরু থেকেই তারা এসব অভিযোগ করে আসছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই কথার কোনো গুরুত্ব আমার কাছে নেই। আমি সারাদিন যদি আপত্তি দিতে থাকি, তাহলে এসব কি কেউ শুনবে? আমি শুনেছি, তিনটি কেন্দ্রে নাকি ভোট স্থগিত। সেটা ইসি দেখবে।

পিডিএসও/হেলাল