১০ হাজারের ধারণ ক্ষমতা, গিয়েছিলো ২০ হাজারের বেশি

প্রকাশ : ১৪ মে ২০১৮, ১৭:১৬ | আপডেট : ১৪ মে ২০১৮, ১৯:৩২

অনলাইন ডেস্ক

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ইফতার সামগ্রী নিতে গিয়ে প্রচণ্ড গরম ও ধাক্কাধাক্কিতে পড়ে নিহত হয়েছেন ১১ জন। যে মাঠে ইফতার সামগ্রী দেওয়া হয়, ওই মাঠের ধারণ ক্ষমতা ১০ হাজার ব্যক্তির হলেও সেখানে যায় ২০ হাজারেরও বেশি। ভিড়ের কারণেই একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় এবং অনেকে পড়ে গেলে পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছে অন্তত ৪২ জন।

সোমবার দুপুরে উপজেলার ললুয়া ইউনিয়নের গাছিয়াডাঙ্গা একটি মাদরাসা মাঠে এ ঘটনা ঘটে। আগের দিন রাত থেকেই দরিদ্র মানুষ ওই মাঠে অবস্থান করে। 

নিহতদের মধ্যে ৭ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন সাতকানিয়ার খাগরিয়া ইউনিয়নের মো. ইসলামের স্ত্রী হাসিনা আক্তার (৪০), একই এলাকার নূর হোসেনের স্ত্রী রশিদা আক্তার (৪৫), বান্দরবানের সুয়ালক ইউনিয়নের মো. ইব্রাহিমের স্ত্রী নূর আয়শা (৬০), সাতকানিয়া রাস্তার মাথা পশ্চিম ঢেমশা এলাকার হাসান ড্রাইভারের স্ত্রী রিনা বেগম (৩০), একই এলাকার মোবারকের মেয়ে শাকি আক্তার (১৫), লোহাগাড়ার কলাউজানের আব্দুস সালামের মেয়ে টুনটুনি বেগম (১৫), একই এলাকার আজম আলীর মেয়ে ফাতেমা বেগম (১৬)। বাকিদের পরিচয় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

প্রত্যেক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কেএসআরএম (কবির স্টিল রি-রোলিং মিল) লিমিটেডের মালিক ওমর শাহাজাহানের পক্ষে সকাল ৮টা থেকে দুঃস্থ-গরিবদের মধ্যে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করছিল। কেএসআরএম প্রতি বছর রোজার আগে স্থানীয় দুঃস্থদের মধ্যে ইফতারি তৈরির বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করে। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার ইফতার সামগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা করে কেএসআরএম। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা। একপর্যায়ে প্রচণ্ড গরমে তাদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এ সময় ধাক্কাধাক্কিতে পড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলে ৯ জনের মৃত্যু হয়। আহত বেশ কয়েকজনকে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১ জনে।

নলুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাসলিমা আকতার জানান, প্রতিবছর ললুয়া ইউনিয়নে একটি মসজিদের মাঠে কেএসআরএম যাকাত ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ করে। মাঠে ১০ হাজার মানুষের ধারণক্ষমতা থাকলেও আজ জমায়েত হয়েছিল ২০-৩০ হাজার। অতিরিক্ত ভিড় ও গরম হওয়ায় হিট স্ট্রোকে ১১ জন মারা যান। আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

ইস্পাত তৈরির প্রতিষ্ঠান কেএসআরএম’র পাবলিক রিলেশন অফিসার মো. রফিকুল আলম বলেন, ‘প্রতিবছর আমরা রমজানের আগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করি। এ বছরও আমরা ইফতার সামগ্রী বিতরণ করছিলাম। আমরা প্রায় ১৫ হাজার মানুষের জন্য সামগ্রীর ব্যবস্থা করেছি।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু এত মানুষের আয়োজন সেজন্য আমরা পুলিশ, আনসারসহ এলাকার অনেক লোকজনও ছিল, যাতে সুন্দর শৃঙ্খলার মধ্যে শেষ হয় সে ব্যবস্থা করেছি।’ শৃঙ্খলার কোনো ঘাটতি ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।

সাতকানিয়া থানার (ওসি) রফিকুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে আছি। এখনো পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে।’ আহত অনেকের মাঝে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্খাজনক বলে তিনি জানান।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের এএসপি এমরান ভূঁইয়া জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশসহ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁঁছেছেন। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় দুইজনকে হাসপাতালে ক্যাজুয়াল্টিতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

২০০৫ সালে একই ঘটনায় পদদলিত হয়ে ৭ জন নিহত হয়েছিল। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মহিউদ্দিনের কুলখানিতে পদদলিত হয়ে ১০ জন নিহত হন।

পিডিএসও/রিহাব