কক্সবাজারে জলকেলি উৎসব শুরু

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ১৯:৫৪

মহসীন শেখ, কক্সবাজার

প্রতিবছরের ন্যায় যথাযথভাবে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব জলকেলি বা সাংগ্রাই। রাখাইনদের এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মূল আয়োজন মঙ্গলবার থেকে চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। উৎসবের আগে থেকে বাড়িতে এবং ধর্মীয় উপাসনালয় গুলোতে চলছিল ব্যাপক প্রস্তুতি। তারই ধারাবাহিতকায় সোমবার স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় গুরুকে স্নান করানোসহ বৌদ্ধ প্রতিমাতে চন্দন কাঠের পানি দিয়ে স্নান করানোর আনুষ্টানিকতা হয়েছে। 

রাখাইন বুড্ডিস্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সহ সভাপতি মংক্য রাখাইন বলেন, কক্সবাজার শহর জলকেলির প্যন্ডেল হয়েছে ৭ টি, এছাড়া জেলার চকরিয়ার হারবাং, রামু , খুরুশকুল, চৌফলদন্ডি, মহেশখালীসহ মোট ১৬ টি প্যান্ডেল হয়েছে।

তিনি জানান, বাংলা হিসাবে পহেলা বৈশাখ পালন হয়েছে ১৪ এপ্রিল। আর সনাতন ধর্মীয় হিসাবে পঞ্জিকা অনুসারে পহেলা বৈশাখ ১৫ এপ্রিল আর রাখাইনদের পহেলা বৈশাখ হয় গ্রহ নক্ষত্র হিসাব করে। সে হিসাবে ১৭ এপ্রিল আমাদের পহেলা বৈশাখ। আর জলকেলি উৎসব এটি আমাদের সভ্যতা ও সংস্কৃতির অংশ। আমরা মনে করি জলের স্পর্শে আমরা পূর্ণ হব। আমাদের আগামীর দিনগুলো সুন্দর হবে।

এদিকে মঙ্গলবার সকালে শহরের ফুলবাগ সড়কের সামনে এবং বার্মিজ মার্কেট এলাকার বেশ কিছু ছাত্রছাত্রী বর্নিল পোষাকে সেজে বাদ্যযন্ত্র সহ তাদের নিজস্ব আকর্ষনীয় পাত্রে ধর্মীয় গুরুর জন্য কলা, দুধসহ আরো অনেক কিছু নিয়ে কক্সবাজারের প্রধান বৌদ্ধ মন্দিরে গিয়ে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে সৃস্টি কর্তার কাছে আগামী বছরের জন্য কল্যাণ কামনা করেছে।

এ সময় আমেনা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছেন ছেন রাখাইন প্রতিদিনের সংবাদকে বলল, জলকেলি উৎসব আমাদের জন্য খুবই আনন্দের। এই ৩ দিনের জন্য আমারা অধির আগ্রহে অপেক্ষা করি। ইতোমধ্যে আমরা কয়েকজন বান্ধবী মিলে একই রকম কাপড় সেলাই করেছি, এবং অনেক জায়গায় ঘুরার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি।

ছেন ছেনের মা টিনটিন রাখাইন বলেন, আজ থেকে শুরু হওয়া জলকেলি উৎসব নিয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আমাদের পুরোনো বন্ধুরা যারা জেলার বাইরে থাকে তারাও এসেছে সবাই মিলে খুব মজা করবো। আমরা ৩ দিনের জন্য বাদ্যযন্ত্র ঠিক করেছি। শেষের দিনের জন্য গাড়ি ঠিক করেছি। আর সব বন্ধুরা নতুন কাপড় কিনেছি। সব মিলিয়ে জলকেলি উৎসব আমাদের জন্য খুবই অর্থবহ একটি উৎসব।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল বলেন, রাখাইন সম্প্রদায়ের জলখেলি বা সাংগ্রাই উৎসব সফলভাবে পালন করতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় সজাগ থাকবে পুলিশ। অনুষ্ঠানকে ঘিরে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ দায়িত্বে থাকবে।

এছাড়া রাতেও পুলিশের প্রহরা থাকবে বলেও জানান তিনি। তবে উৎসব পালনের নামে কেউ যেন বিশৃংখলা সৃষ্টি না করে সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য তিনি সবার প্রতি আহবান জানান।

পিডিএসও/রিহাব