চকরিয়ায় বৈশাখী আয়োজন

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ১৬:০৭ | আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ১৬:২৭

মোঃ নাজমুল সাঈদ সোহেল, চকরিয়া

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় নতুন বছরকে বরণ এবং পুরাতন বছরের বিদায়কে ঘিরে এখানকার ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র জাতিস্বত্বা সমুহ নিজস্ব সামাজিক ঐতিহ্য নিয়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান পালন করে থাকে। এসব বর্ষবরণ অনুষ্ঠানকে তারা ভিন্ন ভিন্ন নামে আখ্যায়িত করে থাকে। যেমন- মার্মা সম্প্রদায় সাংগ্রাইং, তম্ব্রো সম্প্রদায় চাংক্রান, খেয়াং সম্প্রদায় সাংগ্রান, খুমী সম্প্রদায় সাংগ্রায়, চাকমা সম্প্রদায় বিঝু ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায় বিষু এবং ত্রিপুরা সম্প্রদায় বৈসু। তবে কিছু গোত্রে ত্রিপুরা, মারমা ও তঞ্চঙ্গ্যাদের সমন্বিত এই উৎসবকে সমষ্টিগত ভাবে বৈসাবি বলা হয়।

চকরিয়ার হারবাং, পৌরশহরে মগবাজারস্থ মার্মাপাড়া পাশ্ববর্তী পার্বত্য সীমানাজুড়ে আজিজনগর, লামার ফাইতং, ডুলাহাজারা পূর্বে প্রধান পাহাড়ী জাতিস্বত্বা মার্মা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাইং উৎসব উপলক্ষে ৪ দিন ব্যাপী কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সমবেত প্রার্থনা, ২ দিনব্যাপী জলকেলি (পানি খেলা), পিঠা তৈরি, ঘিলা খেলা, বৌদ্ধ মূর্তি স্নান, হাজার প্রদীপ প্রজ্জলন, বয়স্ক পূজা এবং পাহাড়ী নিজস্ব ঐতিহ্যবাসী নৃত্য-গান ও নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এই উপলক্ষে পাহাড়ী পল্লীগুলোতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। মার্মাদের প্রাচীন ও বিলুপ্ত প্রায় বিভিন্ন খেলাধুলা এই উৎসবকে আরো আকর্ষনীয় করে তুলে। সাংগ্রাইং উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ী পল্লী ও উপজাতীয় পল্লীগুলো রমরমা সাজে সেজেছে ।

শুক্রবার সকাল থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও গুরুভক্তির মাধ্যমে শুরু হয়েছে মহা সাংগ্রাইং উৎসব। শনিবার দুপুরে নদীর পাড়ে বুদ্ধ মূর্তি স্নান। রোববার বিকালে মৈত্রী পানি বর্ষণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তবে এবার হারবাং নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায় গত কিছুদিন আগে তাদের বড় ভাংতের অন্তঃক্রিয়া অনুষ্ঠান বড় পরিসরে করার কারণে এবারে বৈশাখী উৎসব জমকালোভাবে আয়োজন করছে না। 

এদিকে যেকোনো বাধা বিপত্তি পেরিয়ে, সহস্র প্রতিকূলতা ছাড়িয়ে বর্ষবরণ উদযাপনে চকরিয়ায় বৈশাখী উৎসবে এবারও ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলমের সহযোগিতায় উপজেলা প্রশাসন। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে উপজেলা পরিষদের নারিকেল বাগানে আয়োজন করা হয়ে থাকে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষের জন্য পান্তা ইলিশের ভুরিভোজের বিশাল আয়োজন। গত বছর থেকে চকরিয়ার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ব্যতিক্রমী এই আয়োজন হয়ে আসছে।

এবারের আয়োজন সম্পর্কে প্রতিদিনের সংবাদের পক্ষ থেকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাফর আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি লালনে পহেলা বৈশাখ অত্যন্ত গুরুত্ববহ। গতবারের চেয়ে আরো ঝাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। উপজেলা লাগোয়া মগবাজার কমিউনিটি সেন্টার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে গ্রামীন জনপদের অন্যতম পছন্দের খেলা বলি খেলা। এছাড়া বাংলা নবর্বষকে বরণ উপলক্ষে ইতোমধ্যে উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, পেশাজীবিসহ সকলস্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, এদিন অন্তত পাঁচ হাজারের অধিক মানুষকে পান্তা-ইলিশে আপ্যয়ন করা হবে। বিকালে অনুষ্ঠিত বলী খেলায় জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের নামকরা বলী খেলোয়াড়রা অংশ নেবে। 

পিডিএসও/রিহাব