রাজশাহী নগরীতে ১৬ বছর ধরে অকেজো সিগন্যাল বাতি

যানজট নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাফিক বিভাগ

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১:১৬ | আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১২:০০

এসএইচএম তরিকুল, রাজশাহী

প্রায় ১৬ বছর ধরে অকেজো হয়ে আছে রাজশাহী মহানগরীর সব ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি। দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না করায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে সব যন্ত্রপাতি। যে কারণে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে মহানগরীর যান চলাচল। ফলে নগরীতে যানজটে জনদুর্ভোগ চরমে। আর তাই নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) ব্যর্থতাকে দায়ী করে নগরবাসী বলছেন, ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি হচ্ছে ব্যস্ততম সড়কের যানবাহন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম। অথচ নিয়ন্ত্রণহীন গাড়ির গতিরোধক একমাত্র ব্যবস্থা ট্রাফিক সিগন্যালগুলোর কোনো কার্যকারিতা না থাকায় অসহায়ের মতো তা নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। শুধু হাত-পা লাগিয়ে চেষ্টা করা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না তাদের। কিন্তু রাস্তাগুলোতে রিকশা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। যে কারণে তাদের দাপটে মোড়গুলো নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যাচ্ছে। আর সিগন্যালবাতি না থাকায় ক্রমেই দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে।

রাসিক সূত্র জানায়, ১৯৯৫ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত নগরীর ২১টি পয়েন্টে ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি বসানো হয়। সে সময় ২১ সিগন্যাল বাতি বসাতে খরচ হয়েছিল ১ কোটি ৫ লাখ টাকারও বেশি। অথচ সিগন্যাল বাতিগুলোর পরিচর্যা না করায় সিটি করপোরেশনের গচ্চা গেছে ১ কোটি ৫ লাখ টাকারও অধিক। পরিকল্পনাহীন সড়ক প্রশস্তকরণসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় এ ট্রাফিক সিগন্যাল বাতিগুলো অকেজো হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাসিক কর্তৃপক্ষ।

সূত্র মতে, রাজশাহী সিটি করপোরেশন ১৯৯৫ সালে মহানগরীর লক্ষ্মীপুর মোড়, ভেড়িপাড়া মোড়, বর্ণালীর মোড়, কাদিরগঞ্জ, গৌরহাঙ্গা রেলগেট, তালাইমারী, সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট, মনিচত্বর, হযরত শাহমখদুম (রহ) দরগা গেট, সিঅ্যান্ডবি মোড়, সাগরপাড়া বটতলা, কাজী নজরুল ইসলাম সরণিতে বিদ্যুৎচালিত স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি স্থাপন করা হয়। যেগুলো এখন একেবারেই অকেজো।

যে কারণে নগরীর ব্যস্ততম এসব এলাকার রাস্তা নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন ট্রাফিক বিভাগ। কর্তব্যরত সময় লাঠি নিয়ে শুধু দৌড়ের ওপর থাকেন তারা। আরাম করার কোনো সময় নেই তাদের। তবে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিলে বাধ্য হয় কিছু সময়ের জন্য সরে যেতে। তখনই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যায় ট্রাফিক ব্যবস্থা।

অন্যদিকে, ট্রাফিক আইনের বিষয়ে অজ্ঞতা থাকায় যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং করায় যানজট সমস্যা বাড়ছে। এছাড়াও নগরীর ট্রাফিক সিগন্যাল বাতিগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পরিচ্ছন্ন নগরী রাজশাহী তার সৌন্দর্য হারাতে বসেছে। যে কারণে হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে দ্রুত স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি চালু করা প্রয়োজন।

সম্প্রতি বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার জরিপে বায়ু দূষণমুক্তের দিক থেকে বিশ্ব সেরা স্বীকৃতি অর্জন করেছে রাজশাহী মহানগরী। আমাদের এ অর্জন আগামীতে ধরে রাখতে নগরীকে যানজটমুক্ত রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। আর রাসিকের দাবি ফান্ড না থাকায় মহানগরীর ২১টি পয়েন্টে নতুনভাবে সিগন্যাল বাতি বসানোর কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

সার্বিক বিষয়ে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ইফতে খায়ের আলম বলেন, সব ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি মেরামতের জন্য সিটি করপোরেশনকে আমরা বারবার অবগত করেছি। যত্রতত্র পার্কিংয়ে বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শহরের বড় বড় ভবনসহ বেসরকারি হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে পাকিং ব্যবস্থা না থাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। তবে মাঝে মধ্যেই জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ, সভা-সমাবেশ করা হয়।

পিডিএসও/তাজ