কক্সবাজারে আদালতের আদেশ অমাণ্য করে গণপূর্তের জমিতে স্থাপনা

প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০১৮, ২০:৪২

কক্সবাজার প্রতিনিধি

২০০৯ সালে সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন। আর ওই আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কক্সবাজার শহরের কলাতলী সড়কে গণপূর্ত বিভাগের আওতাধীন কো-অপারেটিভ হাউজিং এলাকায় অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ চলছে দেদারছে। খোদ কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে গণপূর্ত কার্যালয়ের পাশেই প্রকাশ্যে চলছে এই অবৈধ কর্মযজ্ঞ। আদালতের ওই আদেশের দীর্ঘ ৬ বছর ধরে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ কাজ চলে আসছে। বর্তমানে তা মারাত্ত্বক আকার ধারণ করেছে। গণপূর্তের সাড়ে ৭ একর জমিতে সৈকত বহুমুখী সমবায় সমিতির নামে বরাদ্দ দেয়া প্লটে আবাসিক হোটেল, কটেজ, রেঁস্তোরা, দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিদিন সেখানে ২০/৩০ জন শ্রমিক কাজ করছে। অথচ আদালতের আদেশ অনুযায়ী সেখানে কেউ কোন কাজ করতে পারেন না। এক্ষেত্রে রহস্যজনক ভূমিকায় খোদ গণপূর্ত বিভাগ। জানা গেছে, গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এসব জমির মালিক।  

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গণপূর্ত বিভাগ কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিন মিয়া সৈকত বহুমুখী সমবায় সমিতির দখলে থাকা গণপূর্তের জমিতে আদালতের কোন আদেশ আছে কিনা তাও জানেন না। তিনি প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘সৈকত বহুমুখী সমিতির দখলে থাকা জমি নিয়ে আদালতের এমন আদেশ আছে কিনা তা আমার জানা নেই। আমিতো জানি শরণ সমিতির নামে সমস্যা আছে। বিষয়টি আমার খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।’ 

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, গণপূর্ত কার্যালয়ের পাশে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সামনে কলাতলীর প্রধান সড়কের পূর্বপাশ ঘেঁষে কউকের বন্ধ করে দেয়া স্থানেই নির্মিত হচ্ছে দোকানপাট। সেখানে টিনের বেরা দিয়ে এখন দিনে-রাতে দোকান নির্মাণের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দোকান চালু করা হয়েছে। এসব দোকান নির্মাণ করছেন নুরুল আলম নামের এক ব্যক্তি।

যোগাযোগ করা হলে নুরুল আলম বলেন, ‘সবাই যেভাবে করছে সেভাবে সবদিক ম্যানেজ করেই দোকান নির্মাণ করছি। আপনার সাথেও আমি দেখা করবো।’ একই এলাকায় ‘ইউরেকা গেষ্ট হাউস’ নামের একটি আবাসিক হোটেলে দ্বিতীয় তলায় নির্মাণ কাজ চলছে। শুধু এই নুরুল আলম বা ইউরেকা গেষ্ট হাউসই নয়, গণপূর্তের পুরো সাড়ে ৭ একর জমি জুড়ে বিভিন্ন প্লটে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজ চলছে। 

যোগাযোগ করা হলে সৈকত বহুমুখী সমবায় সমিতির সম্পাদক নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘এখন আর তেমন স্থাপনা হচ্ছে না। নানা কারণে মামলাটি এখনও নিষ্পত্তি করা যায়নি। তবে দ্রুত তা শেষ হয়ে যাবে।’ 

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৫ নভেম্বর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সৈকত বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডকে সাড়ে ৭ একর জমি বরাদ্দ প্রদান করে। পরে ১৯৯৭ সালের ১৭ মে ওই সমিতিকে ৫ একর জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এসময় সমিতির পক্ষ থেকে ৫ একর জমির দখল বুঝে নেয়া হয়। পরে আরো আড়াই একর জমি পাওয়ার জন্য তারা উচ্চ আদালতে রীট পিটিশন দায়ের করে। পরবর্তীতে ওই সমিতিই ৫ একর জমির লীজ দলিল সম্পাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে উচ্চ আদালতে আরো একটি রীট পিটিশন দায়ের করে। পরে বিভিন্ন সময়ে আদালতের যাবতীয় কার্যক্রম চলার পর উচ্চ আদালত সৈকত বহুমুখী সমবায় সমিতির পক্ষে রায় দেন। কিন্তু গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের হয়ে সরকার পক্ষ হাইকোর্ট বিভাগের ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগে লীভ টু আপিল দায়ের করে। পরবর্তীতে একটি সিভিল আপিল মামলাও হয়।

সর্বশেষ ২০০৯ সালে সুপ্রীম কোর্টে আপীল বিভাগের পূর্নাঙ্গ বেঞ্চ স্থিতাবস্থা বজায় রাখাসহ অন্যান্য আদেশ প্রদান করেন।

পিডিএসও/রিহাব