রাতের পর রাত স্বামীর রক্ত পান করত পিশাচ স্ত্রী

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৭, ১৫:৩৯

অনলাইন ডেস্ক

দেশবাসীকে ডিজিটাল গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এখনো দেশের প্রত্যন্ত প্রান্তে আম জনতার বাড়িতে পিশাচ, তন্ত্রসাধনার মতো বুজরুকি চলে, সেখানে এই স্বপ্ন কি আদৌ সফল হবে? এ রাজ্যেরই একটি নৃশংস ঘটনা এমন প্রশ্ন তুলে দিল।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ স্বপ্ন দেখছে সেখানে বীরভূমের সদাইপুর থানা এলাকা ঘটনা ঘটল। এক মহিলার বিরুদ্ধে স্বামীর রক্তপানের অভিযোগকে ঘিরে শোরগোল পড়ে গেছে গ্রামে।

অভিযোগ, অভিজিৎ বাগদির (২২) স্ত্রী সাবিত্রী বাগদি (১৮) সাধনার নামে নিয়মিত স্বামীর বুকের উপর উঠে বসে রক্তপান করত। তাদের ঘরে নাকি চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে মড়ার খুলি, হাড়গোড় পড়ে থাকতে দেখা যেত। এমনকী, সাবিত্রীকে প্রতিবেশীরা নগ্ন অবস্থায় বাড়ির চারপাশে ঘুরে বেড়াতে দেখেছে গভীর রাতে।

ভয়ে, অন্ধবিশ্বাসে স্থানীয়রা খুব একটা ওই অভিশপ্ত বাড়ির যেতেন না। সম্প্রতি অভিজিৎ অসুস্থ হয়ে বর্ধমান হাসপাতালে ভর্তি হন। তার মা ছবি বাগদির অভিযোগ, পুত্রবধূর তন্ত্রসাধনার জেরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন অভিজিৎ। নিয়মিত তার রক্তপান করত অভিযুক্ত সাবিত্রী।

শেষপর্যন্ত রোববার রাতে হাসপাতাল থেকে খবর আসে, অভিজিৎ মারা গেছে। এই খবর গ্রামে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। দলবল বেঁধে তারা মূল অভিযুক্ত ও তার বাবা-মা ও দুই ভাইয়ের উপর চড়াও হয়। স্থানীয় কয়েকজনের তৎপরতায় কোনোমতে প্রাণে বাঁচেন অভিযুক্তরা। পুলিশ অভিযুক্তদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিজিতের মৃতদেহ গ্রামে এসে পৌঁছলেও শোকপ্রকাশ করতে দেখা যায়নি তার স্ত্রীকে। বরং সেই সময় নাকি ঘরের ভেতর থেকে মড়ার খুলি, কাটা আঙুল নিয়ে এসেও কিছু মন্ত্র পড়তে শুরু করে মৃতের সহধর্মিণী।

মাত্র দুই বছর আগেই অভিজিৎ ও সাবিত্রীর বিয়ে হয়। তাদের একটি সন্তানও রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথম থেকেই বাবার বাড়ির লোকদের কথায় পৈশাচিক সাধনায় মেতে থাকত সাবিত্রী। অস্বাভাবিক আচরণ করত। স্বামীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্বামীর বুকের উপর উঠে বসে রক্তপান করার কথাও জানা গেছে। পিশাচসিদ্ধ কোনো তান্ত্রিক বা কাপালিকের কথায় অভিযুক্ত এমনটা করত বলে জানাচ্ছেন গ্রামের অন্যান্য বাসিন্দারা।

‘নরখাদক’ স্ত্রীকে জনতাই শাস্তি দেবে, এই দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে। আপাতত অভিযুক্ত ও তার আত্মীয়দের পুলিশ থানায় নিয়ে গেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আসল ঘটনা জানার চেষ্টা চলছে।

পিডিএসও/রিহাব