অমরত্ব লাভে সন্ন্যাসীদের অদ্ভুত রীতি!

প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৫:৩৯

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

বহু বৌদ্ধ সন্ন্যাসী অমরত্ব লাভ বা নিজেদের দেহ মমি বানানোর জন্য বাদাম, বেরি, গাছের ছাল খেতেন। শুধু কি তাই তাদের খাদ্য তালিকায় ছিল বিশেষ এক ধরনের চা। যা বিষাক্ত হারবাল উপাদান দিয়ে বানানো হতো। তারপর তাদের মাটির নিচের গর্তে রাখা হতো অদ্ভুত কায়দা ও রীতিতে। ওখানে তারা পরমেশ্বরের ধ্যান করতেন। বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি, ধর্মং শরণং গচ্ছামি বলে আত্মার নির্বাণ কামনা করছেন।

এইভাবে দীর্ঘদিন ধরে সামান্য খাওয়া ও বিষাক্ত লতা-পাতা খাওয়ার কারণে ওই সন্ন্যাসীরা যখন একেবারেই মৃতপ্রায়, তখন তাদের মাটির নিচে আলাদা আলাদা কক্ষে স্থানান্তর করা হতো। তারা সেই কক্ষের ভেতরেই ধ্যানে বসতেন। ধীরে ধীরে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা নিজেদের দেহ মমি বানাতেন। জেরেমিয়া কেন নামে এক লেখকের ‘লিভিং বুদ্ধা’ নামে বইয়ে এর উল্লেখ রয়েছে। ওই বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে এর পদ্ধতি।

বইতে দাবি করা হয়েছে, এটা খুব ধীর গতির প্রক্রিয়া। তারা খাদ্যতালিকায় চাল, গম, সোয়াবিন জাতীয় কোনো বস্তু রাখতেন না। পরিবর্তে বাদাম, বেরি, গাছের ছাল খেতেন। এতে নাকি ক্রমে তাদের শরীরের চর্বি গলে যেত এবং শরীর আর্দ্রতা হারিয়ে ক্রমশ শুষ্ক হয়ে উঠত। যাকে বলে কাঠ-কয়লা দেহ।

বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের কাছে মমিফাইড সন্ন্যাসীরা মৃত নন। তারা অমরত্ব লাভ করেছেন এবং এভাবেই ধ্যানে মগ্ন। তবে এভাবে যারা নিজেদের মমি করার চেষ্টা করেছেন, তাদের মধ্যে খুব কমই সফল হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

পিডিএসও/তাজ