গায়েবি হাতের ঘটনায় তোলপাড়

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০১৯, ১৪:৪৬

বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের বুধন্তি ইউনিয়নের কেনা গ্রামে বাশঁঝারে কথিত গায়েবি হাত বের হওয়া নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সেই হাত দেখতে মানুষ ওই বাড়িতে ভীড় করছেন।

গত রোববার গ্রামের মোল্লা বাড়ির আজম মোল্লার বাঁশঝারে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে বাঁশঝারে ফকির দরবেশ আস্তানা গড়েছেন। দেওয়া হচ্ছে পানিপড়া।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাজার হাজার মানুষের ভীড়। সেখানে পাশের গ্রামের আহাম্মদ নামে একজন দরবেশ আস্তানা গড়েছেন। আগরবাতি লাগানো হয়েছে। কৌতুহলী মানুষের ভীড় সামলাতে দেওয়া হয়েছে বাঁশের বেড়া।

দরবেশ আহাম্মদ জানান, রোববার (২৭ অক্টোবর) সকালে এই মানুষের হাত আকৃতির বস্তুটিকে দেখতে পাওয়া যায়। একটি কাটা বাঁশের গুড়িতে এটি বের হয়। গাছের গুড়িতে এটিকে বসানো অবস্থায় দেখা যায়।

তিনি আরো জানান, রাতের আঁধারে হাতের পাশের আরো ৩টি গাছের গুড়ি থেকে অলৌকিকভাবে পানি বের হয়েছে। ফজরের সময় সেই পানি বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তখন সেই পানি কিছু সংগ্রহ করে রাখা হয়। সেই পানি সাধারণ পানির সাথে মিশিয়ে এলাকার কিছু মানুষ নিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন রোগ মুক্তির আশায়। সে ক্ষেত্রে কিছু টাকাও দিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে কেনা আসমা ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, তিনি মনে করেন এটি ব্যাঙের ছাতা বা মাশরুম জাতীয় কিছু হতে পারে। এ নিয়ে অতি উৎসাহের কিছু নেই।

এ বিষয়ে কেনা কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেছি। আমার যা মনে হয়, এটি ব্যাঙের ছাতার শক্ত অংশ। এটি অলৌকিক কিছু নয়। ইসলাম ধর্মে এর কোনো ভিত্তি নেই। আমি সেখানে গিয়ে কথিত সেই হাতের কিছু অংশ ভেঙেছি। ভাঙার পর গুজব রটেছে, আমি অসুস্থ হয়ে গেছি। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

এ বিষয়ে বিজয়নগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহের নিগার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। পুলিশ এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে। বিজয়নগর থানার ওসি ফয়জুল আমিন জানান, তিনি তার অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছেন বিষয়টি দেখার জন্য। অপরাধমূলক কিছু দেখলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পিডিএসও/হেলাল