গাজীপুর সাফারি পার্কে ভূতুরে চেহারার লেমুর

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০১৯, ১৮:৪৮ | আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৯, ২১:৩৪

গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের দর্শনার্থীদের জন্য ভাগ্যের নতুন দ্বার উন্মোচিত হল। তারা দেখতে পারবেন বিরল প্রজাতির প্রাণী লেমুর। প্রাকৃতিকভাবে লেমুর সাধারণত আফ্রিকার মাদাগাস্কারেই দেখতে পাওয়া যায়। নিশাচর প্রাণী লেমুর বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম ঠাঁই পায় গাজীপুরের সাফারি পার্কে। দুই নবজাতকের জন্ম দিয়ে এ পরিবারের সদস্য সংখ্যা এখন চার।

পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: তবিবুর রহমান জানান, কয়েক মাস আগে বিমানবন্দর থেকে দুটি লেমুর জব্দ করার পর এ পার্কে হস্তান্তর করা হয়। মাদি ও পুরুষ লেমুর দুটিকে পার্কে পৃথকস্থানে (কোয়ারেন্টড শেড) পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এবং পরিচর্যা করা হয়। এখানে মাদি লেমুরটি আরো দুটি বাচ্চা প্রসব করে। নবজাতক দুটির একটি মাদি ও অপরটি পুরুষ। গত ১৫ আগস্ট লেমুর পরিবারের ওই সদস্যদের পার্কের দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, জানা মতে এই চারটি ছাড়া লেমুর বাংলাদেশের আর কোথাও নেই। লেমুর গুলোকে আপেল, আঙ্গুর, কলা বেদেনা ইত্যাদি খাবার দেয়া হচ্ছে। 

জানা গেছে, লেমুর হলো মাদাগাস্কারের প্রাইমেট গোত্রভুক্ত কিছু প্রাণীর সমষ্টিগত নাম। লাতিন শব্দ lemurs থেকে লেমুর শব্দটির উৎপত্তি, যার অর্থ ভূতের মতো। রাতের আঁধারে লেমুরের মুখে আলো ফেললে অনেকটা ভূতের মতো দেখায়। তাই এর নামকরণ এভাবে করা হয়েছে। এই প্রজাতিটি খুব সম্ভবত সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে মাদাগাস্কারে আবির্ভূত হয়েছিল। তখন থেকেই এ প্রজাতিটি মাদাগাস্কারের আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। অনেকে ধারণা, লেমুর বানর বা মানুষের পূর্বপুরুষ, তা একেবারে সত্য নয়। এরা মূলত মাদাগাস্কারেই উৎপন্ন ও বিকশিত হয়েছে।

লেমুরের আচরণ : বড় আকারের লেমুররা সচরাচর দিনে ঘোরাফেরা করলেও ছোট আকারেরগুলো নিশাচর হয়। এরা দলবদ্ধভাবে থাকে, তবে খাদ্য সংগ্রহের জন্য একা বিচরণ করে, খাদ্য গ্রহণ শেষে আবার দলে ফিরে আসে।

খাদ্য : লেমুররা ফলভোজী প্রাণী হলেও এদের খাদ্য তালিকায় কীটপতঙ্গও থাকে। সচরাচর লেমুররা অনেক ধরনের খাদ্য গ্রহণ করে। তবে ছোট আকারের লেমুররা পতঙ্গ এবং ফলফলাদি খেয়ে থাকে। অন্যদিকে বড় আকারের লেমুররা গাছপালা ও লতাপাতা খেয়ে জীবন ধারণ করে। তবে ক্ষুধার্ত লেমুররা হজমযোগ্য প্রায় সবকিছুই খেতে পারে। 

সামাজিক ব্যবস্থা : লেমুররা সামাজিক প্রাণী। তাদের একটি দলে সর্বোচ্চ ১৫টি লেমুর থাকতে পারে। দলবদ্ধভাবে থাকার পরও এদের সামাজিক অবস্থান অনেকটা স্বতন্ত্র। এরা জোড়ায় বা একাধিক পুরুষবিশিষ্ট পরিবারেও থাকতে পারে।

যোগাযোগ : লেমুররা শারীরিক সংকেত, ঘ্রাণ এবং বিভিন্ন প্রকার শব্দ উৎপন্নের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে শারীরিক সংকেত এরা খুব একটা ব্যবহার করে না। এ প্রজাতির লেমুরকে হাই তুলে অপর লেমুরকে হুমকি দিতে দেখা গেছে। যোগাযোগ করতে এরা অনেক সময় মুখাবয়বেরও পরিবর্তন করে।

লেমুরের ছিল অসংখ্য প্রজাতি। বর্তমানে পাঁচটি পরিবারে বাস করা ৩০ প্রজাতির কিছু বেশি লেমুর খুঁজে পাওয়া যায়। এসব লেমুরের বড় প্রজাতিগুলো প্রাচীনকালেই গোরিলা বা বনমানুষ রূপে গভীর বনে বসবাস করছে। সবচেয়ে ছোট লেমুর এক পাউন্ড ওজনের হয়ে থাকে। কিন্তু বড়গুলো ১৫ পাউন্ড অর্থাৎ একটি বড় বিড়ালের ওজনের সমান হয়। লেমুর সাধারণত পানি পছন্দ করে না। মজার ব্যাপার হলো, সহজে তাই পানিতেও নামে না। সাঁতার তো জানেই না। রিং টেইল প্রজাতির লেমুরের বেশিরভাগ সময় কাটে মাটিতে। বাদ বাকি সব প্রজাতির লেমুর গাছেই বসবাস করে থাকে। মূলত দলবদ্ধ প্রাণী হলেও কিছু নিশাচর লেমুর একাকী থাকে। 

পিডিএসও/রি.মা