কাকাতুয়ার নাচে অবাক বিজ্ঞানীরা!

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৯, ০৮:৫৯

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

শুধু মানুষ নয়, এক গবেষণায় দেখা গেছে, কাকাতুয়াও নাচতে খুব ভালোবাসে। একটি কাকাতুয়া তো নাচে এমন দক্ষ যা দেখে বিজ্ঞানীরা অবাক!

কয়েক বছর আগে একবার সাড়া ফেলেছিল স্নোবল নামের এক কাকাতুয়া। সেই কাকাতুয়া নাচতে জানে। ইউটিউবে আপলোড করা একটা ভিডিওতে দেখা গেল, ব্যাকস্ট্রিটবয়েজের ‘এভরিবডি’ গানের তালে তালে স্নোবল চুটিয়ে নাচছে। সেই থেকে সোশালমিডিয়ায় স্নোবল খুব জনপ্রিয়। ব্যাকস্ট্রিটবয়েজের এভরিবডির পর সিন্ডি লপারের ‘গার্লস জাস্ট ওয়ান্ট টু হ্যাভ ফান’, কুইনের ‘অ্যানাদার ওয়ান বাইটস দ্য ডাস্ট’-এর সঙ্গেও নেচেছে সে এবং সেই ভিডিওগুলোও দেখা হয়েছে কয়েক কোটিবার। তাই স্নোবল এবং তার কারণে কাকাতুয়া পাখিও হয়ে গেছে গবেষণার বিষয়।

গবেষকরা বলছেন, কাকাতুয়া মানুষের মতোই নাচতে ভালোবাসে। কারণ মানুষের মতো তাদেরও মস্তিষ্ক এবং কানের মধ্যে যোগাযোগটা এমন যে তারাও শুনে শিখতে পারে এবং শুনে আনন্দ প্রকাশ করতে পারে। বিজ্ঞানবিষয়ক জার্নাল কারেন্ট বায়োলজিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সুরের তালে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নড়াচড়া করা সব মানুষেরই সংস্কৃতির অংশ এবং এটাই নাচের ভিত্তি। কাকাতুয়াও সুরের তালে তালে স্বতস্ফূর্তভাবেই নড়েচড়ে ওঠে এবং ওভাবেই সে আনন্দ প্রকাশ করে। স্নোবলের সবগুলো ভিডিও বিশ্লেষণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। বিশ্লেষণ করে তারা দেখেছেন, নেচে নেচে তারকা বনে যাওয়া পাখিটি ১৪টি নাচের মুদ্রা জানে! ফলে তারা মনে করছেন, কাকাতুয়াদের মাঝেও সৃষ্টিশীলতা রয়েছে।

টাফটস ইউনিভার্সিটি এবং হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানী অনিরুদ্ধ প্যাটেলের আগেও স্নোবলকে নিয়ে গবেষণা করে পাখিটির অনন্য দিকগুলো তুলে ধরেছেন, কারেন্ট বায়োলজিতেই তা প্রকাশিত হয়েছে। তিনি মনে করেন, কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়া স্নোবল যে এভাবে বিভিন্ন ধরনের গানের সঙ্গে অনায়াসে নাচতে পারছে তা প্রমাণ করে যে, তার নৃত্যপ্রতিভা মানুষের চেয়ে খুব কম নয়।

পিডিএসও/হেলাল