শিশুর পেটে আরেক শিশু

প্রকাশ : ১১ মে ২০১৯, ১৬:২০

অনলাইন ডেস্ক

বয়স মাত্র ১২ বছর। হঠাৎ শিশুটির পেট ফুলতে শুরু করে। ডাক্তাররা প্রথমে ভেবেছিলেন টিউমার। সেই অনুযায়ী অস্ত্রোপচার শেষে টিউমারটি কেটেও ফেলা হয়। কিন্তু তারপরই চিকিৎসকের চোখ ছানাবড়া। টিউমারের ভেতরে যে আরেক শিশুর বসবাস!

বিস্ময়কর এ ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামে।

ওই শিশুর নাম বিথিকা রাণী। সে গোয়ালপাড়া গ্রামের বাবুল রায়ের মেয়ে ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

শিশুটির বাবা জানান, গত ১০ দিন আগে হঠাৎ করেই বিথিকার শারীরিক পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে। তার পেট হঠাৎ করেই ফুলতে থাকে। এতে ঘাবড়ে যান তিনি। সবার ধারণা হয়, সে হয়তো কারো দ্বারা ধর্ষিত হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। এ ভয় থেকেই ছুটে যান রংপুরের এক ডাক্তারের কাছে। চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান, বিথিকার পেটে বড় আকারের টিউমার রয়েছে। যা জরুরি ভিত্তিতে অপসারণ করা প্রয়োজন।

এদিকে পেশায় দিনমজুর বাবুল রায় রংপুরে অপারেশন করার সামর্থ্য না থাকায় মেয়েকে নিয়ে ঠাকুরগাঁও শহরের হাসান এক্স-রে ক্লিনিকে ভর্তি করে ডা. মো. নুরজ্জামান জুয়েলের শরণাপন্ন হন। ডা. জুয়েল ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশন হওয়ায় প্রথমে রাজি হননি। পরে বাবুলের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে অপারেশন করে দেখা যায়, শিশুটির পেটে প্রায় চার কেজি ওজনের টিউমার রয়েছে। অস্ত্রোপচার শেষে টিউমারটি কেটে তার চোখ ছানাবড়া। টিউমারের ভেতরে আরেক শিশুর বসবাস। সেখানে শরীরের হাত, কলিজাসহ নানা অংশ বিদ্যমান।

এ ব্যাপারে ডা. মো. নুরজ্জামান জুয়েল বলেন, মেডিকেল সায়েন্সে এটাকে বলে ‘বাচ্চার পেটের ভেতরে বাচ্চা’। জন্মগতভাবে বিথিকা জমজ। কিন্তু কোনো কারণবশত আরেক শিশু পৃথিবীর মুখ দেখতে পায়নি। এটা বিথিকার জন্মের সময় থেকে তার পেটে থেকে যায়।

বর্তমানে বিথিকার শারীরিক অবস্থা ভালো। তার আর কোনো ঝুঁকি নেই বলে জানান ওই চিকিৎসক।

পিডিএসও/রি.মা