শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব মন্ত্রিসভায়

প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০১৭, ১৫:৩৯

অনলাইন ডেস্ক

দেশের শিল্প ও কল-কারখানা খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর জন্য মন্ত্রিসভায় একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। তবে বৈঠকে আলোচনার পর মজুরি কমিশন পুনর্গঠনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। বৈঠকে শিল্প কারখানার পরিবেশ ও শ্রমিকদের অবস্থা নিয়ে আলোচনা উঠলে তাদের বেতন-ভাতা বাড়াতে মজুরি কমিশন পুনর্গঠনের প্রস্তাব দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, শ্রমিকদের অবস্থা এখন ভালো, তারা ভালো বেতন পান। শিল্প কারখানাগুলোতে ভালো পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সবুজায়ন হয়েছে। আর নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ভালো পরিবেশ বিরাজ করছে, শ্রমিকদের অবস্থাও ভালো। তবে তাদের বেতন-ভাতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এই বিষয়ে তাদেরও দাবি আছে, তারা এটি প্রত্যাশা করেন।
শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু পরে বলেন, বর্তমানে শ্রমিকরা ৭/৮ হাজার টাকা বেতন পান। শিল্প শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রত্যাশা আছে, তাদের বেতন আরেক ধাপ বাড়ুক। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বেড়েছে, শ্রমিকদেরও আর একটু বাড়া উচিত। এক্ষেত্রে মজুরি কমিশন পুনর্গঠন করা যেতে পারে। শ্রম আইন অনুসারে প্রতি ৫ বছর পর পর মজুরি কমিশন পুনর্গঠনের বিধান রয়েছে। যদিও বাধতামূলক নয়, তারপরও এটি করা যেতে পারে। সর্বশেষ মজুরি কমিশন গঠিত হয়েছিলো গত ২০১৩ সালে। এর ৫ বছর পূর্ণ হবে আগামী বছর ২০১৮ সালে। যেহেতু সরকারি কর্মচারীদের বেতন বেড়েছে, শ্রমিকদেরও বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
মন্ত্রীদের বিভিন্ন মতামত শুনলেও কোনো মন্তব্য করেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার বিষয়টিও উঠলে তিনি বলেন, বাইরের লোকেরা এসে অনেক সময় ট্রেড ইউনিয়ন করেন, শ্রমিকদের ভুল বোঝানোর চেষ্টা করেন। এই সময় চুন্নু বলেন, আসলে বাইরে থেকে এসে ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ নেই। যারা প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক, তারাই ট্রেড ইউনিয়ন করেন। তবে অনেক সময় এনজিওগুলো গিয়ে শ্রমিকদের ভুল বোঝায়, তাদের কল্যাণের কথা বলে বিদেশ থেকে তহবিল আনে। কিন্তু তারা যে উদ্দেশ্যে আনে, সে উদ্দেশ্যে ব্যয় করে কি-না- এনজিও ব্যুরোর তা পর্যবেক্ষণ করা উচিত, সেটি হয় না। এই সময় অবশ্যই এটি পর্যবেক্ষণ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

পিডিএসও/মুস্তাফিজ