পায়রাবন্দরে ১ বছরে ২১ কোটি টাকার রাজস্ব আয়

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৭, ১৪:৩৬

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

সীমিত অবকাঠামোয় নৌপথে পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে অপারেশনাল কার্যক্রমের এক বছর পূর্ণ করেছে দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর পায়রা। ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট স্বল্প পরিসরে এ বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতোমধ্যে এ বন্দরে পণ্য খালাস করেছে ১৫টি বিদেশি জাহাজ। সরকার রাজস্ব আয় করেছে প্রায় ২১ কোটি টাকা। যাকে সফলতার নতুন হাতছানি মনে করছেন বিনিয়োগকারী এবং বন্দর সংশ্লিষ্টরা।

২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মহাপরিকল্পনা নিয়ে কলাপাড়ার রাবনাবাদ চ্যানেলের মোহনায় পায়রা বন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এরইমধ্যে ১৬ একর জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে জেটি ও অত্যাধুনিক কনটেইনার ক্যারিয়ার, রাজস্ব বোর্ড শুল্ক স্টেশন, নিরাপত্তা ভবন। চলছে চারলেন রাস্তা, অফিসসহ বিভিন্ন ভবন নির্মাণের কাজ। নিয়োগ দেওয়া হয়েছে শিপিং এজেন্ট, সিঅ্যান্ডএফ, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডও। বন্দর উন্নয়নে মূল চ্যানেলের গভীরতা ৮ মিটার থেকে ১২ মিটারে বৃদ্ধির জন্য বেলজিয়াম হারবার ইতোমধ্যে শুরু করেছে সমীক্ষার কাজ। লাইটারেজ জাহাজের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য বরিশালের হিজলা পর্যন্ত ৫ মিটার ড্রেজিং সম্পন্ন হয়েছে। এলএমজি টার্মিনাল নির্মাণের সমীক্ষার কাজ করবে জাপানের একটি দল। ধুলাসার থেকে প্রায়

সাত হাজার একর জমি অধিগ্রহণের কাজও প্রায় সম্পন্নের পথে। রেলপথ, বিমানবন্দর নির্মাণসহ বন্দর নিরাপত্তায় নৌবাহিনীর ঘাঁটি নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে দ্রুত গতিতে। পর্যায়ক্রমে এটি গভীর সমুদ্রবন্দরের রূপ নিয়ে চার লেনের মহাসড়ক ও ডাবল গেজ রেললাইনে যুক্ত হয়ে পরিপূর্ণভাবে চালু হবে ২০২৩ সালে। ২০২৩ সালে পূর্ণাঙ্গ বন্দর হিসাবে চালুর পাশাপাশি বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডর বিসিআইএমের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠবে পায়রা বন্দর এমন পরিকল্পনা নিয়ে বন্দর এলাকায় চলছে মহা কর্মযজ্ঞ।

বন্দরের নিরাপত্তা এবং দ্রুত পণ্য খালাস প্রক্রিয়া নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বিদেশি জাহাজের প্রতিনিধিরা। বন্দর ব্যবহারকারী আমদানিকারকরাও একই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে চার লেন সড়কসহ পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে পণ্য পরিবহনে বন্দরের আরো বেশি গতিশীলতা আসবে বলে মনে করছেন আমদানিকারকরা।

চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে পারে না এমন বড় জাহাজ জোয়ার-ভাটার অপেক্ষা না করে সারা বছরই ভিড়তে পারবে পায়রা বন্দরে। নেপাল ও ভুটান খুব সহজেই ব্যবহার করতে পারবে এই বন্দর। পটুয়াখালী জেলা রাজস্ব কর্মকর্তা ভূদেব চক্রবর্তী বলেন, ‘শুধু নৌপথকে ব্যবহার করে এর মাধ্যমে সরকার রাজস্ব আয় করেছে প্রায় ২১ কোটি টাকা। যা থেকে বন্দরের আয় হয়েছে প্রায় ৮৪ লাখ টাকা।’

পিডিএসও/হেলাল