এসডিজি অর্জন: আগামী মাসে আসছে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৭, ১৪:২৯

অনলাইন ডেস্ক

বহুল প্রত্যাশিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্যে আগামী আগস্টের মধ্যে একটি জাতীয় কর্ম পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এই কথা জানান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) প্রধান সমন্বয়ক (এসডিজি) এম. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সব মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই তাদের কর্ম পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। আমরা এখন এসডিজি সপ্তম-পঞ্চবার্ষিক ও পরিকল্পনা (এসএফওয়াইপি) মাথায় রেখে এই কর্ম পরিকল্পনা মূল্যায়ন করছি। তিনি বলেন, এই জাতীয় কর্ম পরিকল্পনা জুলাইয়ের শেষে অথবা আগস্টে চূড়ান্ত হবে। তিনি আরও বলেন, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক অর্থে এই এসডিজি বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় তহবিলের একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে সক্ষম হবে এর মাধ্যমে।
আবুল কালাম বলেন, এই কর্ম পরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা ২০২০ সাল নাগাদ আমাদের কাজের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে পারবো। আর ২০২৫ সাল অথবা আরো পরের কাজের পরিকল্পনা সম্পর্কেও আমরা একটা ধারণা নিতে পারব। কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়নের উপায় বর্ণনা করে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে জাতিসংঘ গৃহীত এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থাসমূহের দায়িত্ব নির্ধারণ করে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা প্রধান, সহ-প্রধান ও সহযোগী মন্ত্রণালয়ের প্রতিটির এসডিজি লক্ষ্য নির্ধারণ করে একটি বই প্রকাশ করেছি।
এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক বলেন, সরকার তথ্য প্রাপ্তির সুবিধার্থে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে এসএফওয়াইপি বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যাতে তারা ভাল প্রকল্প, কর্মসূচি অথবা কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজ নিজ লক্ষ্যে অর্জনে কাজ করতে পারে। তিনি বলেন, এসডিজি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিতে মন্ত্রণালয়গুলোর বিভিন্ন তথ্য ঘাটতি খুঁজে বের করতে সরকার একটি বিশ্লেষণও করেছে। তিনি আরও বলেন, আমরা মন্ত্রণালয়গুলোর সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তার লক্ষ্যে আরো একটি বই প্রকাশ করেছি, যাতে তারা এসডিজি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে।
পাশাপাশি আজাদ বলেন, সরকারী, বেসরকারি খাতের উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়ন পদ্ধতি অনুসন্ধান ও ব্যবহার নিশ্চিতে এবং কার্যকর সমন্বয়ের উপায় বের করতে মন্ত্রণালয়গুলোর একটি অর্থ বিশ্লেষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে সরকার। সহস্্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনের মত ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ এসডিজি অর্জন করতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 
২০১৫ সালে জাতিসংঘ দারিদ্র্য বিমোচন, বিশ্ব রক্ষা এবং একটি নতুন টেকসই উন্নয়নের এজেন্ডা হিসেবে সকলের জন্য সমৃদ্ধি নিশ্চিতে ১৭টি লক্ষ্য ও ১৬৯ টি সহায়ক লক্ষমাত্রা গ্রহণ করে। এসডিজি-র ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা হলো- দারিদ্র ও ক্ষুধা মুক্তি; সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত; সকলের জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত; লিঙ্গ বৈষম্য দূর; বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত; সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ; সুকর্ম ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি; শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন; বৈষম্য দূর; টেকসই নগর ও সামাজিক উন্নয়ন; সম্পদের দায়িত্বপূর্ণ ব্যবহার ও উৎপাদন; জলবায়ু বিষয়ক পদক্ষেপ; জলজ প্রাণিকুল রক্ষা; জীববৈচিত্র রক্ষা; শান্তি, ন্যায় বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং লক্ষ্য অর্জনে অংশীদারিত্ব। আগামী ১৫ বছরে প্রতিটি লক্ষ্য অর্জনের সুনির্দিষ্ট টার্গেট রয়েছে।

পিডিএসও/মুস্তাফিজ