জমে উঠেছে হাট, মাঝারি গরুতে নজর ক্রেতাদের

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২০, ১০:১০ | আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২০, ১০:২৯

নিজস্ব প্রতিবেদক

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে রাজধানীর পশুর হাটগুলো সরগরম হয়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাকভর্তি করে আসা গরুতে ছেয়ে গেছে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় বসা অস্থায়ী পশুর হাটগুলো। কেননা আর মাত্র এক দিন দিন পরই ঈদুল আজহা। ফলে ক্রেতারাও গরু কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন হাটগুলোতে। তবে এবার বড় গরুর চেয়ে ছোট ও মাঝারি গরুর প্রতি ক্রেতাদের নজর বেশি। ফলে এসব গরু একটু বেশি বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর মেরাদিয়া, আফতাবনগরসহ সিটি করপোরেশনগুলোর কোরবানির অস্থায়ী পশুর হাটগুলো ঘুরে সরেজমিনে দেখা যায়, এই হাটগুলোতে মাঝারি ও ছোট আকারের গরু বেশি আনা হয়েছে। সেই তুলনায় বড় গরু নেই বললেই চলে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেরাদিয়া হাটে গরু নিয়ে আসা আবুল কালাম, আশরাফসহ বেশ কয়েকজন ব্যাপারী বলেন, করোনাঝুঁকি ও নানা রকমঝুঁকির কারণে বড় গরু বর্তমানে হাটে কম আনা হচ্ছে। বড় গরুর ঝুঁকির বিষয়ে জানতে চাইলে সাইফুল নামে অপর এক ব্যাপারী বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে বড় গরু আনতে খুব অসুবিধা। ট্রাকের মধ্যে পড়ে গিয়ে পা ভাঙার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া গরু মোটাতাজাকরণ ওষুধের আতঙ্কের কারণে বড় গরুর গ্রাহক কম। ফলে বড় গরুর চেয়ে ছোট গরুতে ঝুঁকি কম, লাভও তুলনামূলক বেশি। রাজধানীর মেরাদিয়া হাটে রোববার রাতে নাটোর থেকে ১৮টি গরু নিয়ে এসেছেন আসলাম নামে এক ব্যবসায়ী। গত দুই দিনে চারটি বিক্রি করেছেন। দামও পেয়েছেন মোটামুটি ভালো। বাকিগুলো আশা করি ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন।

ওই ব্যাপারী বলেন, ‘আমি যে চারটি গরু বিক্রি করেছি, সেগুলোর কোনোটা ৮০ হাজার, আবার ৬০ হাজার, ৭০ ও ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। আর বাকিগুলোর মধ্যে কয়েকটা বড় গরু রয়েছে। এখন পর্যন্ত বাজার দেখে আরো বেশি দাম হবে বলেই মনে হচ্ছে। তবে এই দাম থাকলেও বেচাবিক্রি করে শান্তি পাব!’

একই সুর আফতাবনগরে পশুর হাটের ব্যবসায়ী পাবনার মো. গুলজার হোসেনের। নিজের ঘরে পালা দুটি আর দুটি গরু কিনে চারটি গরু নিয়ে শনিবার সকালেই এ হাটে উঠেছেন তিনি। গরুর দরদাম কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, গরু নিয়ে হাটে এসেছি। এরই মধ্যে কয়েকজন দর দিয়েছেন। যে দাম হাঁকাচ্ছেন তাতে খুশি হতে পারছি না। আমি যে দুটি গরু ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছি, সেই দুটি এখানে নামার পর দাম হাঁকাচ্ছে ১ লাখ টাকা। দেখি কিনা দাম উঠলেই বিক্রি করে দিব।

এ ছাড়া রাজধানীর কমলাপুর পশুর হাটেও মাঝারি ও ছোট আকারের গরু বেশি আনা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে দেশি জাতের গরুর সংখ্যাই বেশি। প্রতিটি খোয়ারেই দেশি গরু। আকারে ছোট এসব গরুর চাহিদাও বেশি। ঈদ গনিয়ে আসায় ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। তবে বিকালের দিকে গরুও যেমন বাড়চ্ছে ক্রেতার সংখ্যাও বাড়তে শুরু করেছে বলে জানান গরুর ব্যাপারীরা।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শাহিন আলম নামে এক ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, আমরা মধ্যবিত্ত ক্রেতারা ছোট ও মাঝারি আকারের গরু কিনতে হাটে এসেছি। তবে বড় গরুর তুলনায় ছোট গরুর চাহিদা বেশি হওয়ায় দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ক্রেতারা। ফলে না পারছি বড় গরু কিনতে, না পারছি ছোট গরু কিনতে।

পিডিএসও/হেলাল