করোনায় ঈদে রাজধানীতে পশু বিক্রি

ডিজিটাল হাটে গুরুত্ব, ২ সিটিতে বসবে নাম মাত্র

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২০, ১০:২৪

হাসান ইমন

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমাতে এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে কোরবানির পশুর ডিজিটাল হাটের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের আওতায় থাকা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ইতোমধ্যেই ডিজিটাল হাটের উদ্বোধন করা হয়েছে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনেও চেষ্টা চলছে একই পদ্ধতিতে কোরবানির পশুর ডিজিটাল হাট চালু করার। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে দুই সিটি করপোরেশন নামমাত্র পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ১১টি হাট বসানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ছয়টি বসানোর প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে তিনটির জায়গা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাকি তিনটি প্রক্রিয়াধীন। এর বাইরে দেশের সর্ববৃহৎ গাবতলী পশুর হাট যথারীতি বসবে।

এদিকে শনিবার ডিজিটাল কোরবানির পশুর হাটের উদ্বোধন করেছে ডিএনসিসি। ডিএনসিসির সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাট বসবে, উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরস্থিত বৃন্দাবন থেকে উত্তরদিকে বিজিএমইএ পর্যন্ত খালি জায়গা, ভাটারা (সাইদনগর), মোহাম্মদপুর বুদ্ধিজীবী সড়কসংলগ্ন (বছিলা) পুলিশ লাইনের খালি জায়গা, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বাঞ্চল ব্রিজসংলগ্ন মস্তুল ডুমনি বাজারমুখী রাস্তার উভয় পাশের খালি জায়গা, কাওলা-শিয়ালডাঙ্গাসংলগ্ন খালি জায়গা ও উত্তরখান ময়নারটেক।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ১৪টি পশুর হাটের মধ্যে ৯টি কমিয়ে ৫টি হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এগুলো হলো—গোপীবাগে বালুর মাঠ ও কমলাপুর স্টেডিয়ামসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, উত্তর শাহজাহানপুরের মৈত্রী সংঘ মাঠ এলাকার খালি জায়গা, হাজারীবাগের ইনস্টিটিউট অব লেদার টেকনোলজি মাঠসংলগ্ন খালি জায়গা, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট এলাকার খালি জায়গা ও আফতাবনগর ব্লক-ই, এফ, জির সেকশন ১ ও ২ নম্বর এলাকা।

এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ডিএসসিসি এলাকায় ৫টি অস্থায়ী হাট চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর বাইরে একটি ডিজিটাল পশুর হাট বসানোর প্রচেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠান আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। আলোচনা ফলপ্রসূ হলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আদলেই ডিএসসিসি একটি ডিজিটাল হাট হবেও বলে জানান তিনি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশরনের সম্পত্তি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে ডিএনসিসি তিনটি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা সম্পন্ন করেছে। দরপত্র বাতিল করেছে ৫টি হাটের। আরো তিনটি হাটের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

গত শনিবার কোরবানির পশু বেচাকেনার জন্য ডিজিটাল হাটের উদ্বোধন করে ডিএনসিসি। সরকারের আইসিটি বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশন এবং বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সহযোগিতায় এ ডিজিটাল হাট পরিচালনা করবে ডিএনসিসি ও ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ।

এ প্রসঙ্গে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ডিএনসিসি ডিজিটাল গরুর হাট থেকে শুধু গরু কেনাই নয়, স্বাস্থ্যসম্মতভাবে জবাই করে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হবে। এটি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা হয়েছে। এতে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। অনেক ভুলত্রুটি হতে পারে। এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে কাজ করতে চাই। যত্রতত্র গরু বেচাকেনা ও কোরবানি না করে অনলাইনের মাধ্যমে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশু কেনাবেচা করা যাবে। এ ছাড়া আধুনিক উপায়ে পশু কোরবানিও দেওয়া যাবে। কোরবানি করা পশুর রক্ত, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরো সুষ্ঠুভাবে করা যাবে। অনলাইনের মাধ্যমে পশু কেনাবেচা ও কোরবানি দেওয়া হলে পশুর বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, যেগুলো আমরা ফেলে দিই, সেগুলো রফতানি করার জন্য সংরক্ষণ করা যাবে। চামড়া সংরক্ষণ করা আগের চেয়ে সহজ হবে।

এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম ডিএনসিসির ডিজিটাল হাট থেকে প্রথম কোরবানির পশু ক্রয় করে অনলাইনে পশু বেচাকেনার উদ্বোধন করেন। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক কোরবানির জন্য গরু ক্রয় করেন। প্রসঙ্গত, প্রচলিত হাটে পশু কেনায় হাসিল দিতে হলেও এখানে কোনো হাসিল দিতে হবে না ক্রেতাদের।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাজারে এবার কোরবানির পশু ক্রয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরাসরি হাটে না গিয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে এই ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ হবে। শহর অঞ্চল ছাড়াও গ্রামগঞ্জে একটি বা দুটি জায়গায় কোরবানির পশু বেচাকেনা করার জন্য নির্ধারণ না করে একটি ওয়ার্ডে বা ইউনিয়নে বিস্তৃৃত স্থানে আয়োজন করলে করোনা সংক্রমণের বিস্তাররোধে ভূমিকা রাখবে। এতে করে একদিকে যেমন পশু কেনাবেচার ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না, অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে করোনার হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

মো. তাজুল ইসলাম আরো বলেন, কোরবানির পশুর বেচাকেনার জন্য যেখানেই হাট বসানো হোক না কেন, সেখানে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দূরত্বসহ সরকারের অন্যান্য নির্দেশনা মেনেই বসাতে হবে এবং এ লক্ষ্যে তার মন্ত্রণালয় একটি প্রাথমিক বৈঠক করেছে।

পিডিএসও/হেলাল