সংসদের বাজেট ৩৫০ কোটি টাকা

*অনুমোদন পেতে কাল বসছে কমিশন সভা *সভায় প্রাধান্য পাচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি

প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২০, ০৮:৫১ | আপডেট : ০৭ জুন ২০২০, ০৯:১২

গাজী শাহনেওয়াজ

জাতীয় সংসদ ও সংসদ সচিবালয়ের আগামী আর্থিক বছরের ব্যয় নির্বাহের জন্য বাজেট বরাদ্দ ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে তিনশ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের চেয়ে আগামী বছরে বরাদ্দ বাড়ছে ১২ কোটি টাকার মতো। এই বরাদ্দ করা বাজেট অনুমোদনের লক্ষ্যে আগামীকাল সোমবার বসছে কমিশন সভা। এদিন বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ সচিবালয় কমিশনের ৩১তম সভাটি অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় করণীয় তদারকির জন্য ৩১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। এর আগে নমুনা পরীক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। কমিশন বৈঠকে আগামী অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন ও কর্মকর্তা-কর্মচারী পদোন্নতিসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদে সংশ্লিষ্টদের বেতন-ভাতাসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় নির্বাহের জন্য সংসদ সচিবালয় কমিশন বৈঠকে বাজেট বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এ ছাড়া কমিশন বৈঠকে সংসদ সচিবালয়ের নতুন পদ সৃষ্টি, প্রকল্প প্রণয়নসহ বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই কমিশনের চেয়ারম্যান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং সদস্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। সাধারণত বছরে একবার (বাজেট অধিবেশনের আগে) এই কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, এ সভার মুখ্য কাজ বাজেট অনুমোদন করা। এখানে সংসদের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন হয় এবং আলোচনা করে অনুমোদন করা হয়।

তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ ও সংসদ সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো প্রস্তাব আকারে ওই বৈঠকে উত্থাপন করা হয়। বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে সেই প্রস্তাবগুলো গ্রহণ বা বাতিল করা হয়। এ ক্ষেত্রে কোনো কোনো প্রস্তাব বিবেচনাধীনও রাখা হয়। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে বাজেট অনুমোদন ছাড়া কমিশন বৈঠকে বিশেষ কোনো নতুন প্রস্তাব থাকছে না; যোগ করেন স্পিকার।

সূত্র জানায়, আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য প্রায় সাড়ে তিনশ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হবে। গত বছরের কমিশন বৈঠকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের ব্যয় নির্বাহে জাতীয় সংসদের জন্য ৩২৮ কোটি ২২ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করা হয়; যা আগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ২৯ কোটি ৬ লাখ টাকা বেশি। সংসদ ভবন ও এমপি হোস্টেল মেরামত, সংসদ সচিবালয়ের উপসচিবদের গাড়ির রাবেন ও নতুন গাড়ি ক্রয়সহ বেশ কয়েকটি খাতে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে আগামী অর্থবছরের বাজেটও কিছুটা বাড়ছে।

সংসদ সচিবালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, করোনা পরিস্থিতিতে আহুত এই বৈঠক আয়োজনে স্বাস্থ্যবিধি শতভাগ অনুসরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেজন্য সংসদ সচিবালয়, গণপূর্ত, পর্যটনসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। তাদের আগারগাঁওস্থ সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকায় কমিউনিটি সেন্টারে রাখা হয়েছে।

এর আগে সংসদ সচিবালয় থেকে উদ্যোগ নিয়ে তাদের করোনা পরীক্ষা করানো হয়েছে। কমিশন বৈঠক শেষে একই স্থানে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকেও তারা দায়িত্ব পালন করবেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এবারের কমিশন বৈঠকে সংসদ সচিবালয়সহ সংসদ ভবন এলাকার নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। অবশ্য গত কমিশন বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইতোমধ্যে সংসদ ভবন এলাকার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। আর করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকে মূল ভবন লকডাইনে আছে। এবারের বৈঠকেও বরাবরের মতো সংসদ সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতিজট নিয়েও আলোচনা ও নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

এ ছাড়া ভিআইপিদের আপ্যায়ন ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাতার পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে বলে জানা গেছে।

পিডিএসও/হেলাল