আসন্ন বাজেট : বিনিয়োগ টানতে কালো টাকা

প্রকাশ : ০২ জুন ২০২০, ০৮:৩২ | আপডেট : ০২ জুন ২০২০, ০৮:৪৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাভাইরাস মহামারিতে বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে চাঙা করতে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ আরো সম্প্রসারিত করতে যাচ্ছে সরকার। এজন্য আসছে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা বৈধ করার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। রাজস্ব আয় বাড়ানোসহ বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে বিনা প্রশ্নে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে শিল্প ও ফ্ল্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া নির্ধারিত বা প্রযোজ্য হারের সঙ্গে অতিরিক্ত কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করা যায়। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন বাজেটে এসবের পাশাপাশি আরো সুযোগ বাড়ছে। জরিমানা ছাড়াই শুধু ১০ শতাংশ হারে কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার প্রস্তাব থাকতে পারে। এক্ষেত্রে কোনো প্রশ্ন করবে না জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগামী দুই বছরের জন্য এ সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মূলত বিনিয়োগ চাঙা করতে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ অবারিত করতে চায় সরকার। এজন্য উৎপাদনমুখীসহ অন্য যেকোনো খাতে বিনিয়োগের ঘোষণা দিলে তার আয়ের উৎস সম্পর্কে জানতে চাওয়া হবে না। এক্ষেত্রে ঘোষণা করা টাকার বিপরীতে মাত্র ১০ শতাংশ কর দিতে হবে।

জানা যায়, বর্তমানে তিনটি উপায়ে অপ্রদর্শিত অর্থ প্রদর্শনের সুযোগ রয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে শিল্প স্থাপনে অপ্রদর্শিত আয় থেকে বিনিয়োগ করা অর্থের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর দিলে ওই বিনিয়োগে অর্থের উৎস সম্পর্কে আয়কর বিভাগ প্রশ্ন করবে না। পাঁচ বছরের জন্য এ সুযোগ দিয়েছে সরকার। ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত এই সুযোগ আছে। আগামী অর্থবছরের জন্য এক্ষেত্রে বিনিয়োগের নতুন খাত যুক্ত করা হতে পারে। যেমন কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, বড় অবকাঠামো নির্মাণ ইত্যাদি। তবে এখন পর্যন্ত কেউ এই সুযোগটি গ্রহণ করেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ফ্ল্যাট ক্রয়ে বিনিয়োগে টাকা বৈধ করা যায়। বলা আছে, আয়তনের ওপর এলাকাভেদে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর দিলে কোনো প্রশ্ন করা হয় না। এই সুযোগটি আগে থেকেই আছে। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত কর নির্ধারণ করায় এর সুফল পাওয়া যায় না। যে কারণে চলতি অর্থবছরে কর হার আগের চেয়ে গড়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমানো হয়। তাতেও কোনো লাভ হয়নি।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, যে কেউ অপ্রদর্শিত আয়ের ঘোষণা দিয়ে যেকোনো অঙ্কের অর্থ সাদা করতে পারবেন। ‘ভলান্টারি ডিসক্লোজড অব ইনকাম’ নামে পরিচিত এই নিয়মটি ২০১২-১৩ অর্থবছরে প্রবর্তন করা হয়। এ সুযোগ নিতে হলে প্রযোজ্য কর হার ও তার সঙ্গে ১০ শতাংশ জরিমানা দিতে হয়।

সূত্র জানায়, স্থায়ীভাবে অপ্রদর্শিত বা কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ থাকলেও কেউ এটি গ্রহণ করেনি। এ প্রসঙ্গে এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, উচ্চহারে কর আরোপ করার কারণে এতে তেমন সাড়া মিলছে না। জানা যায়, এখন নতুন করে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ আরো সম্প্রসারিত করতে চায় সরকার। সেজন্য শর্ত শিথিল করে জরিমানা ছাড়াই কর দিয়ে টাকা বৈধ করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে আগামী বাজেটে।

পিডিএসও/হেলাল