পেঁয়াজ-মুরগির দাম কমেছে, ডিম-আলুর বাড়তি

প্রকাশ : ৩০ মে ২০২০, ১৫:৪৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার বাজারে কমেছে পেঁয়াজ ও মুরগির দাম। বেড়েছে ডিম ও আলুর। পবিত্র রমজান মাস শেষে চাহিদা কমে যাওয়ায় কমেছে ছোলার দামও। বিক্রেতারা বলছেন, একে তো করোনার প্রভাব, তার ওপর ঈদের ছুটির আমেজ কাটেনি। সবমিলিয়ে বাজারে ক্রেতা কম। এরই মধ্যে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কমেছে। ঢাকার মসলাজাতীয় পণ্যের পাইকারি বাজার শ্যামবাজারের বিক্রেতাদের দাবি, এবার রমজানে ছোলা বিক্রি কম হয়েছে তাই এখন চাহিদা কম।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর যাত্রবাড়ী, রায়েরবাগ, দয়াগঞ্জ ও শনিরআখড়ার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, করলা ৪০-৫৫ টাকা, বরবটি ৪৫-৬০ টাকা, ঝিঙা ৫০-৬০ টাকা, পটোল ৪০-৫০ টাকা, কচুরলতি ৪৫-৬৫ টাকা, গাজর ৮০-১০০ টাকা, শসা ৪০-৬০ টাকা কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজি গত ১০ দিন আগে অর্ধেক দামে বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি বেগুন (প্রকারভেদে) ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি কেজি টমেটো ৫০ থেকে ৭০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ধুন্দুল ৪০ থেকে ৫৫ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর শাক প্রতি আঁটি ২০ থেকে ৩০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৪০ থেকে ৬০ টাকা, প্রতি হালি লেবু ২০ থেকে ৪০ টাকা (আকার ভেদে) বিক্রি হচ্ছে।

সবজির দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে রায়েরবাগ বাজারের ব্যবসায়ী মনির হোসেন জানান, আড়ত থেকে বলা হচ্ছে কৃষিপণ্যের গাড়ি কম আসায় দাম বেড়েছে। এ কারণে সবজি কেজিতে ৬ থেকে ১৫ টাকা, আবার কোনটির দাম দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যাত্রাবাড়ীর কাঁচামালের আড়তদার হাবিব হোসেন জানালেন, বন্যায় শাকসবজি নষ্ট হয়ে গেছে। চাহিদার তুলনায় বাজারে পণ্য কম থাকায় দাম বেড়েছে। আগামী সাত-আট দিনের মধ্যে দাম কমে যাবে।

গত ১৫ দিন ধরে ব্রয়লার মুরগির দামও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ৮০ টাকা ডজনের ডিম এখন ১০০ থেকে ১১০ টাকা। সাদা ব্রয়লার ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা করে বিক্রি হলেও ঈদের দুদিন আগ থেকে এ সপ্তাহে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগি ২২৫ টাকা থেকে ২৫০ টাকায়, কক (সোনালি) ২৪০ থেকে ২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির কেজি ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস রোজার শুরুর পর থেকে (হাড়সহ) ৬০০, গরুর মাংস (হাড় ছাড়া) ৬৫০ টাকা, খাসির মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

যাত্রাবাড়ীর বাজারে মুরগি ব্যবসায়ী সোবাহান আলী জানান, রোজার আগে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। রমজানের ২০ রোজার পর সাপ্লাই কমে যাওয়ার কারণে দিন দিন দাম বাড়ছে। অন্যদিকে ১৫ দিন আগে থেকে রাজধানীর বাজারগুলোতে কমতে শুরু করেছে চালের দাম।

যাত্রাবাড়ীতে চালের আড়তে গিয়ে দেখা যায়, নতুন মিনিকেট চাল ৪২ টাকা থেকে ৪৯ টাকায় (মানভেদে) বিক্রি হচ্ছে, যা ১০ দিন আগেও ছিল ৫৪ থেকে ৫৮ টাকা। আর পুরোনো মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৪৯-৫২ টাকা কেজি দরে। নাজিরশাইল প্রতি কেজি ৪৫-৫০ টাকায় (মানভেদে), যা গত ১০ দিন আগেও ৫২ থেকে থেকে ৫৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বিআর আটাশ বিক্রি হচ্ছে ৩৬-৪৩ টাকা (মানভেদে) কেজি দরে। এদিকে দাম বেড়েছে চীনা আদারও। কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও আদার দাম ছিল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি। প্রতি কেজি চীনা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়, যা এক সপ্তাহে আগেও ছিল ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা। এছাড়া পেঁয়াজ চিনি সয়াবিন তেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা, চিনি ৬২ থেকে ৭০ টাকা, সয়াবিন তেল (খোলা) ৯২ থেকে ৯৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রহিম মিয়া নামে রায়েরবাগ বাজারের একজন ক্রেতা জানান, বাজারে চালসহ কয়েকটি পণ্যের দাম কমেছে। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে। গরিব মানুষ আমিষের চাহিদা পূরণে ব্রয়লার মুরগি ও ডিম খায়। এ দুটির দাম গত ১০ দিন আগ থেকে বেড়েছে। সরকারের উচিত অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপপরিচালক আতিয়া সুলতানা বলেন, রমজানের আগ থেকে নিয়মিত বাজার তদারকি করা হচ্ছে। একারণে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে ছিল। এখনো বাজার মনিটরিং চলছে। পাইকারি-খুচরা বাজারে দামে অসঙ্গতি দেখা দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পিডিএসও/তাজ