বসন্তেও নাগালের বাইরে সবজি

প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:৩৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

শীত পেরিয়ে এসেছে বসন্ত। নতুন ঘ্রাণে জেগেছে প্রকৃতি। প্রতি বছরই শীতকালে সবজিতে বাজার ভরপুর থাকে। সামর্থ্যরে মধ্যে সবাই মনের খুশিতে বাজার করতে পারেন। কিন্তু এবার শীতের মৌসুম পেরোলেও নাগালে আসেনি শাকসবজির দাম। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও রামপুরা বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়।

রামপুরা বাজারে দেখা যায়, প্রতিটি লাউ বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, যা স্বাভাবিকভাবে বিক্রি হয় ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়, যা প্রতি বছর এ সময় ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হয়। শিম বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, যা এ সময় ৩০ টাকার মধ্যে থাকে। বেগুন বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। করলা বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা কেজি দরে। বরবটি বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। আর টমেটো বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে, শসা বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। মুলা বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে।

শাকসবজির দাম বাড়ার কারণ হিসেবে সবজি বিক্রেতা আবদুস সালাম বলেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় সবজির সরবরাহ কম। বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজির আমদানি এ বছর কিছুটা কম। তাই প্রতি বছর যে হারে সবজির দাম কমে আসে, সেটা এ বছর কমছে না।

বাজারে সবজি কিনতে আসা সালমা বেগম বলেন, একটি লাউ কিনতে গেলে ৭০ থেকে ৮০ টাকা গুনতে হচ্ছে। ফুলকপি এবং বাঁধাকপি এখনো ৩০ টাকার ওপর বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য বছরে এ সময় ফুলকপি-বাঁধাকপি ২০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। এখন সবজির মৌসুম যদি দাম না কমে। তাহলে আগামীতে আরো নাগালের বাইরে চলে যাবে।

এদিকে গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। গত বছর এই সময় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা। আর বর্তমানে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। গত বছর এ সময় প্রতি কেজি রসুন বিক্রি হয়েছিল ৬০ থেকে ১০০ টাকায়। আর বর্তমানে রসুন বিক্রি হয়েছে ১৮০ থেকে ২২০ টাকায়। দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।

অন্যদিকে গত মাস থেকে বাড়তি দরে সব ধরনের চাল বিক্রি হয়েছে। আমন মৌসুমের চাল বাজারে আসতে শুরু করলেও কমার কোনো লক্ষণ নেই। গতকাল বাজারগুলোতে মোটা চালের মধ্যে প্রতি কেজি স্বর্ণ চাল বিক্রি হয়েছে ৩৫-৪০ টাকা। নাজিরশাইল ও মিনিকেট ৫৫-৬০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। প্রতি কেজি পাইজাম চাল বিক্রি হয় ৪৫-৫০ টাকায়। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) জানায়, এক মাস ধরে স্বর্ণা চাল কেজিতে ৩ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হয়েছে। নাজিরশাইল ও মিনিকেট বিক্রি হয়েছে ১০ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি দরে। আর পাইজাম চাল কেজিতে ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হয়েছে।

কারওয়ানবাজারের আল্লাহর দান রাইস এজেন্সির মালিক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, চালের কোনো সংকট নেই। তারপরও মিলাররা সব ধরনের চাল বাড়তি দরে বিক্রি করছেন। যে কারণে রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে চালের দাম কমছে না। কাঁচাবাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি কেজি শসা আকারভেদে বিক্রি হয়েছে ৪০-৬০ টাকা; যা গত সপ্তাহে একই দরে বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি করলা বিক্রি হয়েছে ১০০-১২০ টাকা।
মাছবাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই মাছ ২২০-৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া তেলাপিয়া ১৩০-১৭০, শিং ৩০০-৪৫০, শোল মাছ ৪০০-৭৫০, পাবদা ৪০০-৫০০, টেংরা ৪৫০-৬০, নলা ১৮০-২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।

নতুন করে দাম না বাড়লেও গত এক থেকে দেড় মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে চাল-ডাল, তেল-মসলাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। তবে কিছুটা কম রয়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। এ ছাড়া আগের মতোই গরুর মাংস ৫৫০ টাকা খাসির মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

পিডিএসও/তাজ