দফায় দফায় দাম বাড়ছে মসলার

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১০:৫৯

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতি বছরই ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দাম বাড়ে মসলার। তবে এবার ব্যতিক্রম। ঈদ আসার নাম গন্ধ নেই, তবুও বেড়েছে এই নিত্য দরকারি পণ্যটির। গত দেড় মাস ধরে বাড়ছে দফায় দফায়। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে খুচরায় কোনো কোনো মসলার দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। দাম বাড়ানোর পেছনে কোনো না কোনো অজুহাত দাঁড় করান ব্যবসায়ীরা।

এবারের দাম বাড়ানোর ব্যাপারে বলছেন, বিশ্ববাজারে মসলার দাম বাড়ানোর প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারগুলোতে। তবে ব্যবসায়ীদের কথার সঙ্গে একমত নন ক্রেতারা। তারা বলছেন, দেশের বাজারে মসলার কোনো ঘাটতি নেই। অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা এসব অজুহাত তুলে দাম বাড়াচ্ছেন। সরকারিভাবে বাজার মনিটরিং না করলে লাগামহীন হয়ে যাবে মসলার বাজার। গতকাল শুক্রবার রামপুরাসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্রই উঠে এসেছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর কারওয়ানবাজার, রামপুরা, মালিবাগ রেলগেট বাজার এবং খিলগাঁও বাজারে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৬০০ থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে। অথচ এক থেকে দেড় মাসে আগে এলাচ বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার টাকা কেজি দরে। এখন জয়ত্রী বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে।

এর আগে জয়ত্রী বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে। জায়ফল গত দেড় মাসে দ্বিগুণ বেড়ে এখন বাজারে তা বিক্রি হয়েছে ৮০০ টাকা কেজি দরে, এর আগে তা বিক্রি হয়েছিল ৪০০ থেকে ৪৬০ টাকা কেজি দরে।

এ সময়ের মধ্যে খোলা গুঁড়া মরিচের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ১৫০ টাকা যা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ টাকা কেজি দরে। একইভাবে শুকনো মরিচ কেজিতে ১৩০ টাকা বেড়ে এটি এখন বিক্রি হয়েছে ৩০০ টাকা কেজি দরে। কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি দারচিনি বিক্রি হয়েছে ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা। কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ধনিয়া গুঁড়া বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা কেজি দরে, কেজিপ্রতি ১০০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি কালো এলাচ বিক্রি হয়েছে ৯৫০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে, কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি হলুদ গুঁড়া বিক্রি হয়েছে ১৮০ টাকা কেজি দরে।

তবে অন্যান্য মসলাজাতীয় পণ্য যেমন আদা, রসুন, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। খুচরা বাজারে দেশি রসুন ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, ইন্ডিয়ান ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, আদা ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ১০০ থেকে ১১০ টাকা, পাকিস্তানি পেঁয়াজ ৮০, চায়না ৬০ টাকা, বার্মা ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মসলার দাম বাড়া নিয়ে মিতা রানি নামে কারওয়ানবাজারের এক ক্রেতা বলেন, এক মাস ধরে কয়েক দফায় মসলার বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অথচ বাজারে কোনো মনিটরিং নেই। এখনই ব্যবস্থা না নিলে মসলার বাজারে অস্থিরতা কাটবে না।

তিনি আরো বলেন, বাজারে কোনো মসলার ঘাটতি নেই অথচ ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় দাম বাড়াচ্ছেন। তাদের এ দাম বাড়ানোর কোনো যুক্তি নেই।

মসলা আমদানিকারক সমিতির সভাপতি এনায়েত উল্লাহ বলেন, বিশ্ববাজারে মসলার দাম অনেক বেশি, এ কারণে দেশের বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। তাছাড়া ভারত মসলার রফতানিকারক দেশ হলেও বৃষ্টি বা বন্যায় তাদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তারা নিজেরাই মসলা এখন আমদানি করছে। রমজানের আগে ভারত মসলা উৎপন্ন করবে। বাজারে ভালো মতো এলে তবেই, মসলার দাম অনেক কমে আসবে।

পিডিএসও/তাজ