বাণিজ্য মেলায় ছুটির দিনে বেড়েছে কেনাবেচা

প্রকাশ | ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ০৮:৪২

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেখতে দেখতে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ১৮তম দিন অতিক্রম করল গতকাল শনিবার। গতকাল সরকারি ছুটির দিন ও আবহাওয়া চমৎকার থাকায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড় দেখা গেছে। যদিও সকালে তাদের সংখ্যা কম ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিকাল হতে হতে ভিড় বাড়তে থাকে।

এদিকে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে বেশ কিছু স্টলে দর্শনার্থীর ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে মেলার মূল গেট দিয়ে ঢুকে ডানও বাম দিকের স্টলগুলোতে ছিল প্রচণ্ড ভিড়। এ বিষয়ে ক্লাসিক্যাল হোম টেক্সটাইল লিমিটেডের বিক্রয় প্রতিনিধি এহেশান আলম বলেন, সকালে ভিড় কম থাকলেও বিকাল থেকে বেচাকেনা বেশ ভালো ছিল।

এদিকে মোবাইল থেকে এসএমএস করে ফ্রি পানি নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার নারী ও শিশু দর্শনার্থীরা। ‘প্রাণ ড্রিংকিং ওয়াটার শিশু ও নারী সবার জন্য পানি’ স্লোগানে গত শুক্রবার থেকে বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণে পাঁচটি পয়েন্ট থেকে এ সেবা দিচ্ছে প্রাণ গ্রুপ।

এ বিষয়ে প্রাণ বেভারেজ লিমিটেডের ব্র্যান্ড ম্যানেজার বলেন, ১৭ জানুয়ারি থেকে আমরা বাণিজ্য মেলায় শিশু ও নারীদের ফ্রিতে পানি পানের ব্যবস্থা করেছি। প্রাণ-আরএফএলের পাঁচটি প্যাভিলিয়নের সামনে থেকে এ সেবা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কেউ পানি চাইলেই আমরা দিচ্ছি না। এ ক্ষেত্রে শর্ত রয়েছে। শর্তের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের কাছে কেউ পানি নিতে আসলে, আমরা তাকে মোবাইল থেকে একটি এসএমএস পাঠাতে বলছি। এরপর ফিরতি এসএমএসে তার কাছে একটি কোড যাচ্ছে। এই কোড দেখালেই পানি দেওয়া হচ্ছে। একজন সর্বোচ্চ তিনটি এসএমএস দিয়ে তিন বোতল পানি নিতে পারছেন।

মেলায় এমন উদ্যোগের কারণ হিসেবে আল-আমিন শিকদার বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে প্রাণ গ্রুপ সব সময় মানুষের পাশে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি।

তিনি বলেন, অনেক সময় মেলার ভেতরে পানির দাম বেশি রাখা হয়। এছাড়া মেলায় মানুষ ঘুরতে ঘুরতে অনেক সময় ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু সব জায়গায় পানি পাওয়া যায় না। এতে বেশি সমস্যায় পড়েন শিশু ও নারীরা। তাই মেলার ভেতরে যাতে শিশু ও নারীরা সহজেই পানি পান সেজন্যই আমাদের এ উদ্যোগ।

এদিকে ফ্রি পানি পেয়ে বেশ খুশি মেলার দর্শনার্থীরা। এ বিষয়ে রাইফা নামের একজন বলেন, মেলায় ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ প্রাণের এ ক্যাম্পেইন চোখে পড়ে। মোবাইলে এসএমএস দিয়ে ফ্রি পানি পেয়েছি। মেলার ভেতরে সাধারণত এমন উদ্যোগ দেখা যায় না। আমার কাছে এটা খুব ভালো লেগেছে।

শরিফ নামের আরেজন বলেন, ক্যাম্পেইন দেখে এসএমএস দিয়ে মেয়ের জন্য একটি পানির বোতল নিয়েছি। প্রাণের এ ধরনের উদ্যোগকে ধন্যবাদ না জানিয়ে উপায় নেই।

এবারের মেলায় বাংলাদেশের পাশাপাশি থাইল্যান্ড, ইরান, তুরস্ক, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, ভুটান, ব্রুনাই, দুবাই, ইতালি ও তাইওয়ানের প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে বলে জানিয়েছে মেলার আয়োজক রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো।

মেলায় ক্রেতারা যেসব পণ্য কিনতে পারবেন তার মধ্যে অন্যতম হলো দেশীয় বস্ত্র, মেশিনারিজ, কার্পেট, কসমেটিক্স অ্যান্ড বিউটি এইডস, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স, পাট ও পাটজাত পণ্য সামগ্রী, চামড়া/আর্টিফিসিয়াল চামড়া ও জুতাসহ চামড়াজাত পণ্য, স্পোর্টস গুডস, স্যানিটারিওয়্যার, খেলনা, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিক সামগ্রী, মেলামাইন সামগ্রী, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ঘড়ি, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, ইমিটেশন জুয়েলারি, সিরামিকস, টেবিলওয়্যার, ক্যাবল, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফাস্টফুড, আসবাবপত্র ও হস্তশিল্পজাত পণ্য, উপহারসামগ্রী, কনস্ট্রাকশন সামগ্রী, হোম ডেকর, বেকারি পণ্য, বিদেশি বস্ত্র ইত্যাদি।

পিডিএসও/তাজ