ট্রান্সশিপমেন্টের জন্য প্রস্তুত চট্টগ্রাম বন্দর

প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২০, ১০:০৬

কাজী আবুল মনসুর, চট্টগ্রাম ব্যুরো

ট্রান্সশিপমেন্টের জন্য প্রস্তুত চট্টগ্রাম বন্দর। এ মাসেই পরীক্ষামূলকভাবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এ ট্রান্সশিপমেন্ট কার্যক্রম চালু হবে। কয়েক বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ী ও সরকারি পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা চলে আসছিল। ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম বন্দর ও মোংলা বন্দর ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর হিসেবে ব্যবহারের জন্য ভারত সরকারের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কাজ শুরু করে চট্টগ্রাম বন্দর।

অবকাঠামো ও রাস্তার উন্নয়নসহ বন্দরের অভ্যন্তরের ইয়ার্ডগুলো উপযোগী করে তোলার কাজ শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত এ মাসে উভয় দেশে জাহাজ চলাচলের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরকে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের কাছে পরিচয় করে দেওয়া হবে। জানুয়ারি মাসেই চট্টগ্রাম বন্দর ও ভারতের কলকাতা বন্দরের মধ্যে দুটি ট্রায়াল রান হবে। এরপরই নিয়মিত জাহাজ চলাচল শুরু হবে।

গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ জানিয়েছেন, ট্রান্সশিপমেন্টের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর পুরোপুরি প্রস্তুত। চলিত মাসেই শুরু হবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম। তিনি উল্লেখ করেন চট্টগ্রাম বন্দরে এরই মধ্যে নতুন নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়েছে। ফলে বন্দরের সক্ষমতা বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক পোর্ট সিকিউরিটি কোড মতে, চোরাচালান বন্ধে অত্যাধুনিক স্ক্যানার মেশিন বসানো হয়েছে। ট্রান্সশিপমেন্ট চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে ভারত তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যে কম খরচে দ্রুত সময়ে পণ্য পরিবহনের সুযোগ-সুবিধা পাবে।

চট্টগ্রাম বন্দরে এবার কনটেইনার পণ্য পরিবহন হয়েছে প্রায় ৩১ লাখ টিইউএস; যা গতবারের তুলনায় অনেক বেশি। প্রায় ৩৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে উল্লখ করা হয়। ট্রান্সশিপমেন্ট চালু হলে যাতে বন্দরের অভ্যন্তরে কনটেইনার পণ্য রাখার জন্য ব্যবসায়ীদের সমস্যায় পড়তে না হয় তার ব্যবস্থা আগেভাগেই করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের সাড়ে চার লাখ কনটেইনার হ্যান্ডলিং ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) কাজ চলছে। চলতি বছরের মধ্যে যাতে এটি অপারেশনাল কার্যক্রম এ বছর শুরু করতে পারে, তার জন্য সচেষ্ট রয়েছে বন্দর। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের ৫২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

বন্দর সূত্র জানায়, গত ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নের লক্ষ্যে একটা স্ট্র্যাটেজিক মাস্টারপ্ল্যান করা হয়। আগামী ৩০ বছরকে সামনে রেখে ২০৪৩ সাল পর্যন্ত এ পরিকল্পনার লক্ষ্য। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কনটেইনার হ্যান্ডলিং ১৪ মিলিয়ন টিইইউএস। বর্তমানে ৩ মিলিয়ন হ্যান্ডলিং হচ্ছে। আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইতোমধ্যে বে-টার্মিনালের দেড় হাজার মিটার মাল্টিপারপাস টার্মিনালের কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে এটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া ১২২৫ ও ৮৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের লক্ষ্যে কাজও চলছে।

বে-টার্মিনালের বিষয়ে জুলফিকার আজিজ গণমাধ্যমের কাছে উল্লেখ করেন, ‘এখন জোয়ারের সময় গড়ে চার ঘণ্টায় সাড়ে নয় মিটার ড্রাফটের (জাহাজের পানির নিচে থাকা অংশের গভীরতা) ও সর্বোচ্চ ১৯০ মিটির দৈর্ঘ্যরে জাহাজ দিন-রাত ভিড়ানোর সুযোগ থাকবে।’ দূষণ নিয়ন্ত্রণে ফ্লোটিং গার্বেজ (ভাসমান আবর্জনা) নিয়ন্ত্রণে চীন থেকে বিশেষ নৌকা আনা হবে। মোহনায় দুটি এবং সদরঘাটে দুটি রাখব। যাতে ময়লা না পড়ে নদীতে। ড্রেজিং চলমান প্রক্রিয়া। কর্ণফুলীতে নরমাল ড্রেজিং সম্ভব না। গ্র্যাব দিয়ে ট্রায়াল করা হচ্ছে। সফল হলে আরো গ্র্যাব দিয়ে কাজ করা হবে।

বন্দর সূত্রমতে, চট্টগ্রাম কাস্টমস ইতোমধ্যে নতুন দুটি স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন শেষ করেছে। আমদানি-রফতানি কার্গো এগুলো দিয়ে স্ক্যান করতে পারে। বন্দর কর্তৃপক্ষ আরো কয়েকটা স্ক্যানিং মেশিন কিনতে যাচ্ছে। ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ আসে ৩৭৪৭টি এবং ২০১৯ সালে জাহাজ আসে ৩৮০৭টি। ট্রান্সশিপমেন্ট চালু হলে বন্দরে জাহাজ আসার পরিমাণও অনেকাংশে বেড়ে যাবে।

পিডিএসও/হেলাল