পেঁয়াজে স্বস্তি চলতি মাসেই

নতুন পেঁয়াজ উঠলে দাম কমবে

প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:৪৩

হাসান ইমন

সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে মিসর, তুরস্ক, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশেও নতুন পেঁয়াজ বাজারে উঠতে শুরু করেছে। আবহাওয়া ঠিক থাকলে চলতি মাসের শেষের দিকে পুরো মাত্রায় নতুন পেঁয়াজ উঠবে। আমদানি ও দেশীয় পেঁয়াজ সময়মতো বাজারে এলে দাম অনেকটা কমে যাবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলেন, ‘আমাদের দেশে দুই ধরনের পেঁয়াজের চাষাবাদ হয়। একটি হলো পেঁয়াজপাতা। অন্যটি হলো পরিপক্ব পেঁয়াজ। প্রতি বছর এ সময় পেঁয়াজের কিছু সংকট তৈরি হয়। সেখানে পেঁয়াজপাতা বাজারজাত করে কিছুটা সংকট মোকাবিলা করে। আর পরিপক্ব পেঁয়াজ বাজারে আসতে মাসখানেক সময় লাগবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মাসের শেষের দিকে পুরো মাত্রায় বাজারে আসবে। তাহলে দাম অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।’

এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অধ্যাপক ড. আরিফুর রহমান বলেন, ‘আমাদের পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে ২৫ লাখ টন। আর দেশে উৎপাদন হয় ১৮-২০ লাখ টনের মতো। এখানে কিছু ঘাটতি থাকে। এ ঘাটতি পূরণে ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এই পণ্যটি আমদানি করা হয়। সম্প্রতি ভারত রফতানি বন্ধ ঘোষণা করায় আমরা সংকটের মুখে পড়ি। তবে সংকট অনেকটা কেটে যাবে চলতি মাসের শেষের দিকে দেশীয় পেঁয়াজ বাজারে এলে। একই সঙ্গে পেঁয়াজপাতাও বাজারে এসেছে। খুব অল্পসময়ে এই প্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম কমবে’- বলে আশা প্রকাশ করেন এই বিশেষজ্ঞ।

এদিকে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর কাঁচাবাজার, নয়াবাজার ঘুরে ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে এখনো উঠতি দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি বেড়েছে ১০-২০ টাকা। গতকাল প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৪০-২৫০ টাকায়। প্রতি কেজি দেশি নতুন পেঁয়াজ (মুড়িকাটা) বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকায়। মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২০০-২১০ টাকায়। মিসরের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৫০-১৬০ টাকা কেজি। এ ছাড়া চীন থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। আর পেঁয়াজপাতা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০ টাকা।

অন্যদিকে পেঁয়াজের দাম নিয়ে অস্থিরতার মধ্যে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবিকে দিয়ে এ পণ্যটি বিক্রির উদ্যোগ নেয় সরকার। গত দুই মাস ধরে ৪৫ টাকা কেজিতে তারা পেঁয়াজ বিক্রি করে আসছে। তবে সম্প্রতি সংস্থাটির ডিলারদের বিরুদ্ধে পেঁয়াজ বিক্রি নিয়ে অনিয়ম করার অভিযোগ উঠেছে। এমতাবস্থায় টিসিবির পেঁয়াজেও বাজারের ভূত দেখছেন সাধারণ ক্রেতারা।

নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল জরুরি ভিত্তিতে জোগান দেওয়া ও ন্যায্যমূল্যে ভোক্তাদের সরবরাহ নিশ্চিতের জন্য টিসিবির গোড়াপত্তন। বছরজুড়ে এদের ঢিলেঢালা কার্যক্রম থাকলেও রমজানে তাদের সক্রিয়তা দেখা যায়। আর এবার বাজারে পেঁয়াজ যখন ২০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়, তখন সংস্থাটি ৪৫ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করে। তবে চাহিদার তুলনায় তা সামান্য হলেও ক্রেতারা সুলভে এক কেজি পেঁয়াজ কিনতে ভিড় করেন টিসিবির ট্রাকসেলে। যদিও অনেকেই পেঁয়াজ না পেয়ে ফেরত আসেন। এর পেছনে ডিলারদের কোনো কারসাজি আছে কি না সে প্রশ্নও তুলেছেন ক্রেতারা।

রাজধানীর বেইলি রোড এলাকায় টিসিবির পেঁয়াজ কেনার পর প্রতিক্রিয়ায় সাইদুল ইসলাম নামের একজন ক্রেতা বলেন, ‘কয়েক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ৪৫ টাকায় পেঁয়াজ কিনলাম। বড় বড় সাইজের এসব পেঁয়াজের মধ্যে অনেক পচা থাকে। কী করব, এগুলো নিতেই আমরা বাধ্য।’

ডিলারদের এমন দুষ্টুকা-কে এখনই থামাতে টিসিবি কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান।

তিনি বলেন, ‘ডিলারদের ওপর কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়াতে হবে। সারা দেশে টিসিবির কয়েক হাজার ডিলার। তার মধ্যে কিছু তো দুষ্টু লোক থাকবে। এটা আছে অস্বীকার করা যাবে না। তাই এটা যাতে না বাড়তে পারে এ জন্য মনিটরিং করতে হবে। তবে আশার কথা হলোÑ এই অপরাধীরা ধরা পড়ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

এদিকে চট্টগ্রামে টিসিবির পেঁয়াজ নিয়ে ঘটেছে অন্য ঘটনা। টিসিবি থেকে নেওয়া ১৭৬ কেজি পেঁয়াজ খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগে ডিলার দোলন বড়ুয়াসহ চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রামের অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিউদ্দিন মুরাদের আদালতের এজলাস কক্ষে জব্দ সেই পেঁয়াজ নিলামে বিক্রি করা হয়। টিসিবির নির্ধারিত দর থেকে ৪৬ টাকা বেশি দামে প্রতি কেজি ৯১ টাকা দরে একজন পেঁয়াজগুলো কিনে নেন। পেঁয়াজগুলো সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে কিনেছেন নগরীর এক ব্যবসায়ী। আটক চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পিডিএসও/তাজ