বাড়তি দামের প্রভাব পাতায়

বিমানে এনেও সংকট কাটছে না পেঁয়াজের

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১৯, ১০:২২ | আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৫০

নিজস্ব প্রতিবেদক ও চট্ট্রগাম ব্যুরো

পেঁয়াজ নিয়ে পানি ঘোলা কম হয়নি। নতুন নতুন দেশ থেকে আমদানির পর বিমানে করে এনেও সমাধান করা যায়নি সংকটের।

কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, বছরে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ২৩ লাখ টন। যার ৬ লাখ টন পচে যায় সংরক্ষণের অভাবে। একই কথা বলছেন ব্যবসায়ীরাও। আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশেই পর্যাপ্ত পেঁয়াজ উৎপাদন করতে না পারলে এমন সংকট আবার দেখা দিতে পারে।

এদিকে বাড়তি দামের প্রভাব পড়েছে পেঁয়াজ পাতায়ও। বাজারে এখন প্রতি কেজি পেঁয়াজ পাতার দাম মানভেদে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা। অথচ খুচরা বাজারে আস্ত পেঁয়াজই পাওয়া যাচ্ছে সর্বনিম্ন ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। পেঁয়াজ পাতার দামি হয়ে ওঠার নেপথ্যে আছে পেঁয়াজের চড়া দাম।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারের আড়তে এখন চীন থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে রেয়াজুদ্দিন বাজারের আড়তে প্রতি কেজি পেঁয়াজ পাতা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের চেয়ে পেঁয়াজ পাতার দাম কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেশি। জানা যায়, বছরে দেশে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয় ৯ লাখ টনের মতো, যার ৯০ শতাংশ আসে ভারত থেকে। বাকি ১০ শতাংশ আসে মিয়ানমার, মিসর ও তুরস্ক থেকে। আর দেশে দিনে পেঁয়াজের চাহিদা ৬ হাজার টন। সেই হিসাবে পচে যাওয়া ৬ লাখ টন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা গেলে আমদানি কমবে ৭০ শতাংশ। চাহিদা পূরণ করা যাবে তিন মাসের।

অন্যদিকে চাহিদার তুলনায় আমদানি অপ্রতুল এবং মজুদে ত্রুটি থাকায় পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক। তিনি গতকাল গাজীপুরের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালায় যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, বৃষ্টির কারণে কৃষক পেঁয়াজ উত্তোলনের সময় মজুদ করতে পারেননি, এখানে ঘাটতি ছিল। ভারত পেঁয়াজের রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেবে- আমরা বুঝতে পারিনি। এখানে আমাদের হয়তো ভুল থাকতে পারে, আমাদের আগেই একটা জরিপ করা দরকার ছিল। কতটা উৎপাদন হয়েছে, কতটুকু আমরা আমদানি করব।

পেঁয়াজের প্রয়োজন ২৫ থেকে ২৬ লাখ টন উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাইরে থেকে এখন ৩০০ টন, ৫০০ টন আসছে। ব্যবসায়ীরা তা ফলাও করে প্রচার করে। এতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে, কিন্তু বাজারে এর প্রভাব পড়ে না।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিরুদ্দিন বলেছেন, দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানো প্রয়োজন হলেও এই ফসল উৎপাদনে কৃষকদের বেশকিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়।

চাল উৎপাদনের ক্ষেত্রে কৃষক যতটা আগ্রহী, পেঁয়াজের ক্ষেত্রে তেমনটা নয়। কারণ চাল উৎপাদন অপেক্ষাকৃত লাভজনক। যে জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়, সেই জমিতে অন্যান্য ফসলও ফলানো হয়, তাই বলা যায় যে জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদন একটি প্রতিযোগিতার মধ্য থাকে। তাই চাইলেই ফসল ফলানোর জন্য জমি বাড়ানো যাবে না।

সাধারণত শীতকাল পেঁয়াজ উৎপাদনের উপযোগী আবহাওয়া, এখন নতুন জাতের পেঁয়াজ গরমকালে উৎপাদন করা গেলেও সেগুলো বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায় না। এছাড়া বৃষ্টিপাতের কারণে জমিতে পানি জমে পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে পড়ে।

পচনশীল এই পণ্যটি সংরক্ষণ করা জরুরি হলেও বাংলাদেশে পেঁয়াজের জন্য উপযুক্ত কোল্ড স্টোরেজের যথেষ্ট অভাব রয়েছে বলে জানান জহিরুদ্দিন।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্র গাজীপুরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার বলেন, এত দিন পেঁয়াজ পাতার কদর ছিল না। এখন বেশ কদর পাচ্ছে। ঢাকার আশপাশের এলাকায় পেঁয়াজ পাতার চাষ হয়। চাইনিজ রেস্তোরাঁয় সবজিতে পেঁয়াজ পাতার ব্যবহার বেশি হয়।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি তথ্য সার্ভিস বলছে, পেঁয়াজ পাতার স্বাদ ও গন্ধ প্রায় সাধারণ পেঁয়াজের মতো। এর ফুলের দন্ডসহ সব অংশই বিভিন্ন খাবারকে রুচিকর ও সুগন্ধিপূর্ণ করে তোলার কাজ করে। পেঁয়াজ পাতা সালাদ হিসেবে কাঁচা খাওয়া হয়ে থাকে।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, ডিসেম্বর থেকে মার্চ কালিকাটা আর মে থেকে জুন পর্যন্ত ভাতি পেঁয়াজ পাবনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, শরীয়তপুর ও মেহেরপুরে উৎপাদন করা হয়।

পিডিএসও/হেলাল