পেঁয়াজের সঙ্গে পাল্লা সবজির, বেড়েছে চালের দাম

প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ১২:৩৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

পেঁয়াজের দাম যেন অপ্রতিরোধ্য। কেউ থামাতে পারছে না এর গতি। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ১০০ টাকা থেকে তিন দফায় বেড়ে ২৫০ টাকায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে গত তিন দিনেই বেড়েছে ৮০ টাকা। পেঁয়াজের এমন দাম বাড়ায় ক্রেতাদের পাশাপাশি খুচরা বিক্রেতারাও অবাক।

শুধু পেঁয়াজই নয়, চাল ও সবজির দামও বেড়েছে। পাইকারিতে চাল বস্তাপ্রতি বেড়েছে ২৫০ টাকা। সেই হিসাবে খুচরা বাজারে প্রতি কেজিতে পাঁচ থেকে ছয় টাকা বেড়েছে। থেমে নেই সবজির বাজারও। শীতকালীন শাকসবজি বাজারে প্রচুর থাকলেও বেড়েছে দাম। ফুলকপি, বাঁধাকপি, শসাসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মহাখালী ও রামপুরা কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে এই চিত্র।

মহাখালী কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি। ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে একই দামে। আর মিয়ানমার ও মিসরের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৩০ টাকা কেজি।

গত চার দিনের ব্যবধানে বাজারে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। গত রোববার বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। আর গতকাল দাম ছিল ২৫০ টাকা। গত বৃহস্পতিবারও পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকা কেজি দরে। যেন রাত পেরোলেই পেঁয়াজের দাম নতুন সাজে বাজারে আসে।

পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা নিরুপায়। আমাদের কিনে এনে বিক্রি করতে হয়। যদি মোকাম থেকে ২৩০ টাকা দরে পেঁয়াজ কিনতে হয় তাহলে কত টাকায় বিক্রি করব? পেঁয়াজের দাম বাড়ায় ক্রেতা অনেক কমে গেছে। এখন সবাই এসে পেঁয়াজের দিকে একবার নজর দেয়, তারপর একটা মুচকি হাসি দেয়, আর সুন্দর করে একটা কমেন্ট করে চলে যায়।

পেঁয়াজের ঝাঁজ জাতীয় সংসদেও পড়েছে। সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম ও অন্যান্য সংসদ সদস্য পেঁয়াজের দাম বাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা দাম নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রয়োজনে আমদানি শুল্ক শূন্যতে নামিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

এদিকে কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে বেড়ে গেছে চালের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে সব ধরনের চালের দাম কেজি প্রতি চার থেকে ছয় টাকা বেড়েছে। হঠাৎ কেন দাম বাড়ল? জবাব নেই ব্যবসায়ীদের কাছে। দাম বাড়ার পেছনে মিলারদের কারসাজি থাকতে পারে বলে অভিযোগ তাদের।

ক্রেতারা বলছেন, বাজারে কোনো মনিটরিং না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছেন। একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। বাজারে প্রতি কেজি নাজিরশাইল চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, মিনিকেট ৫০ টাকা, মোটা চাল ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। তিন থেকে চার দিন আগেও তা কেজিতে পাঁচ থেকে সাত টাকা কম দামে বিক্রি হয়েছে।

আর ব্যবসায়ীরা বলছেন, উত্তরাঞ্চলের ধান-চালের সবচেয়ে বড় মোকাম নওগাঁয় এক সপ্তাহের ব্যবধানে চিকন চালের দাম বেড়েছে প্রতি কেজিতে চার থেকে পাঁচ টাকা। আর বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) বেড়েছে প্রায় ২০০ টাকা। বিরি-২৮ জাতের ধানের সরবরাহ কমায় চালের দাম বেড়েছে। মোকাম থেকে বেশি দামে কিনতে হয়েছে।

অন্যদিকে শাকসবজির দামে যেন প্রতিযোগিতা চলছে। শীতকালীন সবজি প্রতি পিস ফুলকপির দাম ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা। টমেটো, গাজর, শসা টপকে গেছে শতকের ঘর। প্রতি কেজি পাকা টমেটো বিক্রি হয়েছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। এদিকে শসা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। বাজারে শিম ৮০ টাকায় বিক্রি হলেও উচ্ছে পৌঁছেছে ১০০ টাকার ঘরে। তবে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে করলা। আর প্রতি কেজি বেগুন, বরবটি, পটল ও ঢেঁড়স বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। বাজারে প্রতি কেজি কচুরলতি বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকায়, মুলা আর চিচিঙ্গা বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকায়।

তবে সবকিছুর দাম যখন নাগালের বাইরে তখন কিছুটা কমেছে ডিমের দাম। বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ৯০ টাকায়। আর কম দামে বিক্রি হয়েছে ব্রয়লার মুরগি। প্রতি কেজি মুরগি ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে পাকিস্তানি মুরগি ২৮০ টাকায় আর লেয়ার মুরগি ২১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আগের মতোই গরুর মাংস ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে এক কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি বিক্রি হয় ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা। এক কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৮০০ টাকা। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা।

এ ছাড়া প্রতি কেজি তেলাপিয়া বিক্রি হয় ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, পাঙাশ বিক্রি হয় ১৬০ টাকা কেজি, চাষের রুই কেজি ৪০০ টাকা, পাবদা ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। টেংরা বিক্রি হয় কেজি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে।

পিডিএসও/তাজ