আড়তেও নেই মজুদ

পেঁয়াজের দাম ১৫০ ছুঁই ছুঁই

প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৪৪ | আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০১৯, ১১:১৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

কোনোভাবেই দাম কমছে না পেঁয়াজের; বরং প্রতিদিন বাড়ছে। এখন পণ্যটির দাম পাইকারিতেও ছাড়িয়েছে শতক। আর খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি কিনতে গুনতে হচ্ছে দেড় শ টাকা পর্যন্ত। বিভিন্ন বন্দরে আড়তেও নেই মজুদ। ফলে এই দামের বিস্ফোরণ শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা নিয়ে রীতিমতো দুশ্চিন্তায় সাধারণ ক্রেতারা। সরকারের পক্ষ থেকে বাজার নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হলেও, ঘটছে উল্টোটা।

রাজধানীর শ্যামবাজারে পাইকারি দরে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১০৮ টাকা। এমনকি মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পেঁয়াজও পাইকারিতে শত টাকা ছাড়িয়েছে।

আড়তদাররা বলছেন, সরকার এই মুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে মিসর, তুরস্ক, চায়না থেকে টিসিবির মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানি করে বাজারে বিক্রি করলেই বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে। পাইকারি ও খুচরা উভয় বাজারেই পেঁয়াজের দাম আরো বেড়েছে। পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের কেজি ১২০ থেকে ১৩০ টাকার ঘরে। আর খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম উঠেছে ১৪০ টাকায়। গতকাল মঙ্গলবার কারওয়ানবাজার ও কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।

কারওয়ানবাজারের পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম এখন ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় পেঁয়াজও ১৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর মিসরের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকা কেজিতে।

কারওয়ানবাজারের পাইকারি বিক্রেতা আবদুস সালাম বলেন, পেঁয়াজের দাম এখনো বেড়েই চলছে। সহসাই দাম কমবে বলে মনে হচ্ছে না। বাজারে নতুন পেঁয়াজ উঠতেও অন্তত দুই মাস বাকি আছে। তখন হয়তো পেঁয়াজের দাম কমবে।

আরেক বিক্রেতা অন্তর বলেন, মিসরের পেঁয়াজ এখন ৯৬ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অথচ মাস খানেক আগে যখন আমদানির সুযোগ দেওয়া হয় তখন এই পেঁয়াজের দাম ছিল কেজিতে ৬০ টাকা।

কাওরানবাজারের লাকসাম বাণিজ্যালয়ের মালিক মো. হাবিবুর রহমান মোস্তফা বলেন, বাজারে পেঁয়াজের দাম খুব বেশি উঠানামা করছে। মোকামগুলোতে দাম বেড়েই চলছে। বেশি দামে কিনে আনায় আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

আশফাক নামের আরেক বিক্রেতা বলেন, আগের চেয়ে এখন পেঁয়াজের বিক্রিও কম। দাম বাড়তি থাকায় আমরা ক্ষতির মুখে পড়ছি। বাজারে বার্মার পেঁয়াজ নেই। দাম কম থাকলেও এর স্বাদ তেমন ভালো না। তাই ক্রেতারা তা তেমন পছন্দ করেন না।

আরেক পাইকারি বিক্রেতা লেকবর আলী বলেন, বাজারে ভারতীয় নতুন পেঁয়াজ আসা শুরু করেছে। শ্যামবাজারে নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে বলে জেনেছি। কয়েক দিনের মধ্যেই হয়তো বাজারে হয়তো দেশি পেঁয়াজ উঠতে শুরু করবে। তখন হয়তো পেঁয়াজের দাম কমে যাবে।

এদিকে মহাখালীর বউবাজারে দেশি পেঁয়াজ ১৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। দুই-একটি দোকানে ১৫০ টাকাও দাম হাঁকা হচ্ছে। ভারতীয় পেঁয়াজের কেজিও ১৪০ টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহেরও কম সময়ে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে অন্তত ২০ টাকা।

এই বাজারের পেঁয়াজের বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে পেঁয়াজের দাম আরো ২০ টাকা বেড়েছে। নতুন পেঁয়াজ না উঠলে বাজারে হয়তো আর দাম কমবে না।

বিজয় সরণির কলমিলতা বাজার ও ফার্মগেট ইন্দিরা রোডের মাহবুব প্লাজার নিচতলার বাজারটিতেও একই দামে পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে কিছু কিছু দোকানে এখনো ১৩০ টাকা কেজিতে দেশি পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে।

রাজধানীর বাইরেও পেঁয়াজের লাগাম ছাড়া দামে দিশাহারা সাধারণ মানুষ। চট্টগ্রাম, সিলেট, গাইবান্ধাসহ প্রায় প্রতিটি জেলা, এমনকি গ্রামাঞ্চলেও এক কেজি পেঁয়াজের দাম দেড়শ টাকা পর্যন্ত। ক্রেতারা বলছেন, আসছিলাম তিন থেকে চার কেজি কিনতে কিন্তু দাম দেখে দেড় কেজি নিয়ে যাচ্ছি। এদিকে দিনাজপুরের হিলিসহ বিভিন্ন বন্দরের আড়তগুলো প্রায় পেঁয়াজশূন্য।

পিডিএসও/হেলাল