আসছে এলসির ভারতীয় পেঁয়াজ, কমছে দাম

প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০১৯, ১০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

অবশেষে সীমান্তে আটকে থাকা এলসি করা পেঁয়াজ রফতানি করার অনুমতি দিয়েছে ভারত সরকার। গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার পর থেকে দিনাজপুরের হিলি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজবোঝাই ভারতীয় ট্রাক বাংলাদেশে আসা শুরু করেছে। হিলি বন্দর দিয়ে ৭০টি ট্রাকে ১ হাজার ৬০০ টন পেঁয়াজ আসবে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ভারতের মহদিপুর স্থলবন্দরে আটকে পড়া পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে।

এদিকে গতকালও বিভিন্ন স্থানে পেঁয়াজের পাইকারি ও খুচরা বাজারে অভিযান চালানো হয়েছে। মূল্য তালিকায় পেঁয়াজের দাম না থাকায় মৌলভীবাজারে তিন দোকানকে জরিমানা করা হয়েছে। ক্রেতার কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নেওয়ায় ঝালকাঠিতে তিন পেঁয়াজ ব্যবসায়ীকে ১৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অন্যদিকে প্রশাসনের অভিযান এবং মিয়ানমার, মিসরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভারতের পেঁয়াজ আসায় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পাইকারি ও খুচরা বাজারে কমেছে পেঁয়াজের দাম। গতকাল চট্টগ্রাম, ঢাকা ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন স্থানে আড়তে ৫০-৫৫ টাকায় এবং খুচরায় আগের চেয়ে ২০-২৫ টাকা কমে ৭০-৭৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রির খবর পাওয়া গেছে।

হিলি প্রতিনিধি জানান, সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বন্যায় পেঁয়াজের আবাদ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে পেঁয়াজ সংকটের কারণে দাম কয়েক গুণ বেড়ে যায়। অভ্যন্তরীণ মজুদ স্বাভাবিক রাখতে এবং জনদুর্গতি ঠেকাতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার গত ২৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়। এ অবস্থায় সীমান্তের ওপারে প্রায় ৬০টি ট্রাকে দেড় হাজার টন পেঁয়াজ আটকে থাকায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ভারতের ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। অবশেষে পাঁচ দিন পর আগের এলসি করা পেঁয়াজ রফতানির অনুমতি দেওয়া হয়।

ব্যবসায়ীরা জানান, ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণার আগেই প্রচুর পরিমাণ এলসি করা হয়। রফতানি বন্ধ ঘোষণার পের সেই পেঁয়াজ ভারতের অভ্যন্তরে আটকে যায়। নানা জল্পনা-কল্পনা শেষে গতকাল সেই পেঁয়াজ বন্দরে প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

হিলি আমদানি-রফতানি গ্রুপের সভাপতি হারুন-উর রশিদ হারুন জানান, পেঁয়াজগুলো হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রবেশ করার কারণে যেমন আমাদের দেশের পেঁয়াজের চাহিদা পূরণ হবে, সেই সঙ্গে দাম অনেকটা কমে যাবে।

ব্যবসায়ীরা আরো জানান, কয়েকদিন ধরে পেঁয়াজের বস্তা ট্রাকে বাঁধা অবস্থায় ছিল। ফলে অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

হিলি স্থলবন্দরের এক কর্মকর্তা জানান, আগে এলসি করা পেঁয়াজ এখন আসতে শুরু করেছে। গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকার পরও দুই দেশের ব্যবসায়ীদের অনুরোধে তারা পেঁয়াজ খালাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গতকাল বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভারতীয় ৫৫টি ট্রাক পেঁয়াজ নিয়ে প্রবেশ করেছে সোনা মসজিদ স্থলবন্দরে। বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ জানান, সারা দিনে ২০০ পেঁয়াজের ট্রাক পাঠাবে বলে ভারতীয় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা জানিয়েছেন। ভারতের মহদিপুরে দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি শুরু হলেও বিশেষ ব্যবস্থায় পাঠানো হচ্ছে এসব পেঁয়াজ।

মোস্তাক আহমেদ আরো জানান, ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণা করার পরপরই বন্ধ হয়ে যায় পেঁয়াজ আসা। এতে ভারতের মহদিপুর স্থলবন্দরে কয়েক শ পেঁয়াজভর্তি ট্রাক আটকা পড়ে। কয়েক দিন অপেক্ষমাণ থাকার কারণে এসব পেঁয়াজে পচন ধরা শুরু হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার থেকে এসব পেঁয়াজ আসা শুরু হয়েছে।

রাজশাহীতে কেজিতে ২৫ টাকা কমেছে :  রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহীর বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা কমেছে। এখন দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৭০-৭৫ ও ভারতের পেঁয়াজ ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতা রফিকুল বলেন, ‘ভারতের পেঁয়াজ শেষ। দেশি পেঁয়াজ বৃহস্পতিবার থেকে প্রতি কেজি ৭৫-৮০ টাকায় বিক্রি করছি। এর আগে সর্বোচ্চ ১২০ টাকা দরে বিক্রি করেছিলাম।’ অপর এক বিক্রেতা জানান, বুধবারের চেয়ে বৃহস্পতিবার বাজারে পেঁয়াজের দাম কমেছে। প্রশাসনের লোকজন মাঝে-মাঝে এসে দাম জেনে যাচ্ছে। তারা কেজিতে এক থেকে দুই টাকা লাভ করতে বলছেন। কিন্তু এক মণ পেঁয়াজে কয়েক কেজি পচা থাকায় আমাদের ঘাটতি দিতে হয়। তাই চার-পাঁচ টাকা লাভ করতে হয়। ভারতের পেঁয়াজ বিক্রি করছি ৬৫ টাকা ও দেশি ৭৫ টাকা।

পিডিএসও/তাজ