স্বপ্নের মেট্রোরেলের ৩০ ভাগ দৃশ্যমান

জাপানে তৈরি হচ্ছে ট্র্রেন, উদ্বোধন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:৩৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে রাজধানীর যানজট নিরসনে নেওয়া প্রকল্প মেট্রোরেলের কাজ। আগারগাঁও থেকে মিরপুর হয়ে উত্তরার দিকে এখন দৃশ্যমান ছাই রঙের খুঁটির ওপর মেট্রোরেল রুট ভায়াডাক্ট। এই ভায়াডাক্টের ওপরেই বসবে রেললাইন বা রেলট্র্যাক। এরই মধ্যে মতিঝিল-উত্তরা রুটের জন্য ৮০ ভাগ রেলট্র্যাক এসে গেছে। আগামী মাসেই মেট্রোরেলে ট্র্যাক বসানো শুরু হবে। একইসঙ্গে বসানো হবে ইলেকট্রিক লাইনও। উত্তরা-আগারগাঁও অংশে মেশিনের মাধ্যমে এগুলো বসাতে তিন থেকে চার মাস সময় লাগবে।

মেট্রোরেলের প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল পাইলিং। সব চ্যালেঞ্জ জয় করে উত্তরা থেকে মতিঝিলের ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড মেট্রোরেলের সার্বিক নির্মাণকাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। এ পর্যন্ত প্রকল্পটির ৩০ দশমিক ৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছর ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মেট্রোরেল চালু হওয়ার কথা।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড-ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন সিদ্দিক জানান, বর্তমানে উত্তরা ও আগারগাঁওয়ের মধ্যকার ১২ কিলোমিটার মেট্রোরেলের ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ দৃশ্যমান হয়েছে। ফাস্টট্রাক প্রকল্পের আওতায় ঢাকা মহানগরীতে দেশের প্রথম এলিভেটেড মেট্রোরেল ম্যাস-র‌্যাপিড ট্রান্সপোর্ট (এমআরটি) লেন-৬ এর নির্মাণকাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর জনগণের জন্য উদ্বোধনের লক্ষ্যে দ্রুতগতিতে কাজ করা হচ্ছে। মোট আটটি প্যাকেজে ২০ কিলোমিটার মেট্রোরেল নির্মাণের প্রকল্পটি সম্পন্ন হচ্ছে। আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২৩ দশমিক ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।

দ্বিতীয় প্যাকেজের আওতায় ৫২ শতাংশ কাজ দৃশ্যমান হয়েছে এবং অবশিষ্ট কাজও শিগগিরই শেষ হবে। বর্তমানে ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার রেলপথ ও ৯টি স্টেশনের নির্মাণকাজ চলছে। উত্তরা থেকে আগারগাঁওয়ের মধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ প্যাকেজের আওতায় এটি হচ্ছে। প্রথম প্যাকেজের আওতায় ভূমি উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এটি ২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছিল এবং ৯ মাস আগেই সম্পন্ন হয়। অষ্টম প্যাকেজ রোলিং স্টোক অ্যান্ড ডিপোট ইক্যুইপমেন্ট কালেকশনের আওতায় এমআরটি লাইন-৬ এর জন্য ২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি জাপানি কোম্পানিটি বগি নির্মাণ শুরু করে। কারওয়ানবাজার থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ৪ দশমিক ৯২২ কিলোমিটার রেলপথ ও চারটি স্টেশনের ১৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হবে বলে দাবি করছে মেট্রোরেল প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

সূত্র জানায়, প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। শুধু দেশে নয় জাপানেও মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ হচ্ছে। আগামী বছরের জুনে জাপান থেকে দেশে মেট্রোরেলের প্রথম পরিপূর্ণ ট্রেন সেট আসবে। এভাবে ওই সময় থেকে পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে ২৪টি ট্রেন সেট আসবে। একেকটি সেটে ৬টি করে কোচ থাকবে। এই রেলের ট্রেনগুলো উভয়দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী টানবে। মেট্রোরেলে প্রতিটি স্টেশন হবে তিনতলা। সিঁড়ি বেয়ে প্রথমে উঠতে হবে দ্বিতীয় তলায়। সেখানে টিকিট কাউন্টার ও অন্যান্য সুবিধাদি থাকবে। আর ট্রেনের প্ল্যাটফর্ম থাকবে তৃতীয় তলায়। ট্রেনে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগবে ৪০ মিনিটের কম। মেট্রোরেলে ‘প্রিপেইড কার্ড’ দিয়ে ট্রেনের ভাড়া পরিশোধ করতে পারবেন যাত্রীরা। আবার টিকিট কেটেও থাকবে ভ্রমণের সুযোগ।

প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হলে দুই দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। থাকবে ১৬টি স্টেশন। স্টেশনগুলো হচ্ছে উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, আইএমটি, মিরপুর সেকশন-১০, কাজীপাড়া, তালতলা, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, সোনারগাঁও, জাতীয় জাদুঘর, দোয়েল চত্বর, জাতীয় স্টেডিয়াম ও বাংলাদেশ ব্যাংক।

মেট্রোরেল ব্যবস্থায় প্রথম ধাপে প্রতিদিন ২৪টি ট্রেন চলাচল করবে। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলবে ট্রেনগুলো। প্রতি ট্রেনে থাকবে ছয়টি বগি। একটি ট্রেনে এক হাজার ৬৯৬ জন যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। এর মধ্যে বসে যেতে পারবেন ৯৪২ জন, বাকিরা দাঁড়িয়ে যেতে পারবেন।

একটি স্টেশনে ট্রেন অবস্থান করবে ৪০ সেকেন্ড। যাত্রীরা ফুটপাত থেকে সিঁড়ি, এসকেলেটর কিংবা লিফটে উঠতে পারবেন ট্রেনে। মেট্রোরেলের প্রতিটি খুঁটির ব্যাস হবে দুই মিটার, ভূগর্ভস্থ অংশের ভিত্তি হবে তিন মিটার ও উচ্চতা হবে ১৩ মিটার। একটি স্তম্ভ থেকে আরেকটির দূরত্ব হবে ৩০ থেকে ৪০ মিটার। স্তম্ভের ওপরে পাশাপাশি ও সমান্তরাল দুটি রেলপথ থাকবে এবং লাইনগুলোর প্রস্থ হবে প্রায় ৯ দশমিক ১ মিটার।

পিডিএসও/হেলাল