ফের বেড়েছে পেঁয়াজ-কাঁচামরিচের দাম

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০১৯, ১২:৪২

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদের পর পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক থাকলেও সপ্তাহের ব্যবধানে আবার বেড়েছে এর দাম। আর ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরের কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে সব ধরনের সবজি ও মাছ-মাংসের দাম তেমন বাড়েনি গত সপ্তাহের তুলনায়। আর ইলিশ মাছের সরবরাহ থাকায় দামও রয়েছে নাগালে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ানবাজার শান্তিনগর, সেগুনবাগিচা, মালিবাগ, খিলগাঁও, রামপুরার বিভিন্ন বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

এসব বাজারের বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের পর নতুন করে বাজারে মালামাল না আসায় সংকট দেখা দিয়েছে। এতে মোকামে সব মালের দাম চড়া হওয়ায় খুচরাবাজারে এর প্রভাব পড়েছে। ক্রেতারা বলছেন, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট নানা অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। এতে তারা লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয় আমাদের।

আশরাফ নামে বনশ্রী কাঁচাবাজারের এক ক্রেতা বলেন, ঈদের আগে সরকারিভাবে বাজার তদারকি করায় দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। এখন তদারকি নাই এজন্য ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে আবার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

ঈদের দুই সপ্তাহ পরে কারওয়ানবাজারে কেজি প্রতি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, কাঁচা পেঁপে ৪০, বরবটি ৪০, পটল ৫০, ঢেঁড়শ ৫০, চিচিঙ্গা ৬০, গাজর ৮০, মিষ্টিকুমড়া ৪০, লাউ ৫০ টাকা পিস, কাঁকরোল ৫০, মুলা ৬০, কচু ৫০, টমেটো ১২০, কাঁচামরিচ ১০০, কচুর লতি ৬০, রসুন ২০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা, আদা ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী মো. মোশারফ হোসেন বলেন, পেঁয়াজের মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়া এবং ভারতে বন্যা হওয়ার ফলে হিলি বন্দরে পেঁয়াজের আমদানি কিছুটা কমেছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমেছে এবং পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। তবে সবজিসহ অন্যান্য পণ্য গত সপ্তাহের মতো স্বাভাবিক রয়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, ইলিশ মাছের সরবরাহ বেড়েছে দামও স্বাভাবিক রয়েছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায়, ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকায়, ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকায়। এছাড়াও সাইজ ভেদে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে ইলিশ মাছ।

কারওয়ানবাজারের এক ক্রেতা জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, ঈদের পর আজই প্রথম বাজারে আসলাম। ইলিশ মাছ কিনেছি দাম কিছুটা কম মনে হলো। সবজির দাম খুব একটা বাড়েনি। তবে পেঁয়াজ এবং রসুনের দাম যথেষ্ট বাড়তি। ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেনÑ এটা বাজারের নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে বাড়েনি মাংসের দাম। বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১২০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগি ২৩০, লেয়ার মুরগি ২০০ ও দেশি মুরগি ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৫৫০ টাকা ও খাসির মাংস ৭৫০ টাকা, ছাগলের মাংস ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

মাংস ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, কোরবানির পর এখনো তেমন চাহিদা বাড়েনি মাংসের। দামও আগের মতোই আছে। আশা করছি, সামনের সপ্তাহ থেকে মাংসের চাহিদা বাড়তে পারে। তবে মাংসের দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই।

নুরু নবী নামে এক ক্রেতা বলেন, বাজারে দেখলাম হঠাৎ করেই পেঁয়াজের দামটা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দুই দিন পরপর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ানো ব্যবসায়ীদের একটা অভ্যাস হয়ে গেছে। যথাযথ মনিটরিং না হওয়ার ফলে ব্যবসায়ীরা এটা করার সুযোগ পান। কর্তৃপক্ষের এসব ব্যাপারে নজর আরো বাড়ানো উচিত। বাড়তি দামে পণ্য কিনতে হিমশিম খেতে হয় আমাদের।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ঈদের পরে এই সময়ে অযৌক্তিকভাবে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দফতরকেই এর সঠিক কারণ খুঁজে বের করতে হবে। ব্যবসায়ীদের কারসাজি ছাড়া দাম এত বেশি বাড়ার কারণ নেই।

পিডিএসও/তাজ