কাঁচামরিচের কেজি ২০০ টাকা!

প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০১৯, ১৩:৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা ও টানা বৃষ্টির কারণে অনেক সবজির জমি নষ্ট হয়ে গেছে। এতে কাঁচামরিচসহ অন্যান্য সবজির দাম এমন অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। এছাড়া বাজারে সব ধরনের শাক-সবজির দাম কম করে হলেও ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। আর পেঁয়াজ কেজিতে তিন টাকা কমলেও আদা-রসুনে বেড়েছে সাত থেকে আট টাকা করে।

বিক্রেতারা বলছেন, ভারী বৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে বেড়েছে এসবের দাম। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মহাখালী, শান্তিনগর, সেগুনবাগিচাসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া যায়। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা গেছে, প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। তবে পাইকারি বাজারের দ্বিগুণ দামে বিক্রি হয়েছে খুচরা বাজারে। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৬০ টাকা।

হঠাৎ কাঁচামরিচের দাম বাড়ার কারণ সম্পর্কে মহাখালী কাঁচাবাজারের সবজি ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, দেশে বন্যা ও টানা বৃষ্টিতে মরিচসহ সবজির অনেক খেত নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে দাম বেড়েছে। বৃষ্টি থামলেও সহসা সবজির দাম কমবে না, বাড়তে পারে। কারণ বন্যায় ক্ষতি হওয়া জমির পানি কমার পর আবার নতুন করে সবজির আবাদ করতে হবে। এতে কৃষকের দ্বিগুণ খরচ পড়বে।

এদিকে গত সপ্তাহে ৫৫ টাকায় বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজ কমে ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর কিছুটা নিম্নমানের দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৪২ টাকা কেজিতে, যা আগে ছিল ৫০ থেকে ৫২ টাকা। আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩৮ থেকে ৪০ টাকা কেজি। যা আগে বিক্রি হয়েছিল ২৪ থেকে ২৮ টাকা। এছাড়া আমদানিকৃত চীনা আদা বিক্রি হয়েছে ১৪০ টাকা কেজি। দেশি আদা বিক্রি হয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। আমদানিকৃত রসুন বিক্রি হয়েছে ১৪০ টাকা কেজি আর দেশি ১৩০ টাকা কেজি। পেঁয়াজের দামের বিষয়ে ব্যবসায়ী বলরাম দাস বলেন, গত সপ্তাহ থেকে আজ (শুক্রবার) পেঁয়াজের দাম কম। কেজিতে পাঁচ থেকে আট টাকা কমেছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করেছি ৫৫ টাকা। আজ (শুক্রবার) বিক্রি করছি মানভেদে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। সে হিসাবে প্রতি কেজিতে পেঁয়াজের দাম গড়ে পাঁচ টাকা কমেছে। মূলত পাইকারিতে দাম বাড়লে আমরা দাম বাড়াই আর কমলে আমরাও কম দামে বিক্রি করি।

সবজির বাজারে দেখা যায়, বেশি দামে বিক্রি হয়েছে শসা, টমেটো ও গাজর। বাজার ভেদে শসা বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হয়েছো টমেটো ও গাজর। এছাড়া বাজারের অন্যান্য সবজিও চড়া দামে বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহের মতো করলা, কাঁকরোল, উস্তা, ঝিঙা ৫০ থেকে ৬০ টাকা ঢেঁড়স; পেঁপে, পটল, কচুরলতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা; বেগুন, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা; আলু ২০ থেকে ২২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এছাড়া বাজারে প্রতি আঁটি লাল শাক, মুলা শাক, কলমি শাক ১০ টাকা; পুঁইশাক, লাউশাক ২০ থেকে ৩০ টাকা; ধনেপাতা কেজি ২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। মাংসের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগির আগের সপ্তাহের মতো ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। পাকিস্তানি কক বিক্রি হয়েছে ১৮০ থেকে ২২০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হয়েছে লাল লেয়ার মুরগি। গরুর মাংস বাজার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হয়েছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি।

আর কয়েক মাস ধরে চড়া দামে বিক্রি হওয়া মাছের দাম একটু কমেছে। বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়ায় সব জায়গায় এখন মাছ পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে এখন বেশির ভাগ মাছের দাম ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। খুচরা বাজারে তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হয়েছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হয়েছে পাঙাশ মাছ। রুই মাছ ২২০ থেকে ৩৫০ টাকা, কাতল ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, নলা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, পাবদা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, টেংরা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, শিং ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

অন্যদিকে ঈদুল আজহার আগে সিন্ডিকেট করে অনৈতিক ও বেআইনিভাবে মূল্য বৃদ্ধি ঠেকাতে ঈদ পর্যন্ত নিত্যপণ্যের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ ও ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে সরকারের পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে আইনি নোটিশ দিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘কনসাস কনজুমার্স সোসাইটি’ (সিসিএস)।

পিডিএসও/তাজ