সপ্তাহ ব্যবধানে বেড়েছে ডিম-পেঁয়াজের দাম

প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০১৯, ১৩:৩০ | আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৯, ১৩:৩৯

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বাজারগুলোতে সপ্তাহের ব্যবধানে হঠাৎ বেড়েছে ডিমের দাম ও পেঁয়াজের ঝাঁজ। খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ডিমের দাম বেড়েছে পাঁচ টাকা। একই সঙ্গে পেঁয়াজের দামও কেজিতে বেড়েছে পাঁচ থেকে আট টাকা। ডিম ও পেঁয়াজের দাম বাড়লেও কমেছে মুরগির মাংসের দাম। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে কমেছে পাঁচ থেকে ১০ টাকা। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে সব ধরনের মুদিপণ্য, সবজি, মাছ, গরু ও খাসির মাংসের দাম।

এদিকে ঈদের পর বাজারগুলোতে নজরদারি কমে যাওয়ায় ডিম ও পেঁয়াজের দাম দফায় দফায় বাড়ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। তারা বলেন, মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা বাজার নজরদারির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ জন্য ভুগতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। তবে ডিম ও পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা জানান, ডিমের যে চাহিদা বাজারে সরবরাহ তার থেকে কম। বাজারে ডিমের যে পরিমাণ চাহিদা রয়েছে, খামারিরা তা সরবরাহ করতে পারছেন না। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় ডিমের দাম বেড়েছে। আর পেঁয়াজের স্টক কমে আসছে। পাশাপাশি দেড় মাস পর ঈদুল আজহা। সবাই এখন পেঁয়াজ রেখে দিচ্ছেন।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর নয়াবাজার, সূত্রাপুর, রায়সাহেব বাজার, ধূপখোলা মাঠ, দয়াগঞ্জ, শান্তিনগর, সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা গেছে, বাজারে প্রতি ডজন ডিম ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও ডিমের ডজন বিক্রি করেছেন ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়। খুচরা পর্যায়ে মুদি দোকানে এক পিস ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১১ টাকায়। আর হালি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ টাকা। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়ে গেছে। এছাড়া বর্ষার মৌসুমে ডিমের উৎপাদনও কমে যায়। গত সপ্তাহে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি করেছি ১১৫ টাকা, এর আগের সপ্তাহে ছিল ১১০ টাকা, ঈদের আগে ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা। এখন বিক্রি করছি ১২০ টাকা ডজন। পেঁয়াজ ব্যবসায়ী বলরাম দাস বলেন, পেঁয়াজের ফলন খুব ভালো হয়েছে। যে কারণে অন্যবারের তুলনায় এতদিন পেঁয়াজের দাম বাড়েনি। শুক্রবার বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৮ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ থেকে ৩২ টাকা।

বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজার ভেদে শসার বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, দেশি পাকা টমেটো ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও আমদানি করা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা। ঢ্যাঁড়সের কেজি ৪০ টাকা, পটোল ৩০, ঝিঙ্গা ৪০, পেঁপের দাম ৪০ টাকা। বরবটির ৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া করলা, কাঁকরোল, উস্তা, বেগুন, গাজর, বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। কেজি প্রতি বেগুনের পাওয়া যাচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। শাকের মধ্যে লাল, কলমি, ডাটা, পাট, মুলাশাক প্রতি আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়। আর পুঁইশাক, লাউশাক বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা আঁটি।

তবে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিচ্ছে মুরগির মাংসের দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। বাজারে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগির বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ১৪০ টাকা কেজি। একই সঙ্গে কমেছে দেশি ও কক ও লেয়ার মুরগির দাম। বর্তমানে প্রতি কেজি লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহেও বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকা দরে। মুরগির দাম কিছুটা কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে গরু ও খাসির মাংসের দাম। গরুর মাংস বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫২৫ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে। আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি।

এদিকে কয়েক মাস ধরে চড়া দামে বিক্রি হওয়া মাছের দাম এখনো বেশ চড়া। তেলাপিয়া মাছ আগের মতো বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি। পাঙ্গাশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি। রুই মাছ ২৮০ থেকে ৬০০ টাকা, পাবদা ৬০০ থেকে ৭০০, টেংরা ৫০০ থেকে ৮০০, শিং ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং চিতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা কেজি।

পিডিএসও/তাজ