প্রবাসী আয়ে নতুন মাইলফলক

এক বছরে রেমিট্যান্স এসেছে ১৬৪২ কোটি ডলার

প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০১৯, ১৩:৪৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

সদ্য বিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো আয় বা রেমিট্যান্সে রেকর্ড অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এই অর্থবছরে দেশে ১ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে; যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। হুন্ডি প্রতিরোধে কড়াকড়ি ও ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে ধারাবাহিকভাবে প্রবাসী আয় বাড়ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুন মাসে প্রবাসীরা ১৩৬ কোটি ৮০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। ফলে অর্থবছরের ১২ মাসে প্রবাসীদের পাঠানো আয় দাঁড়ায় ১ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৪৪ কোটি ডলার বা ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাংলাদেশ রেমিট্যান্স থেকে আয় করে ১ হাজার ৪৯৮ কোটি ডলার।

রেমিট্যান্সের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত চার বছরের মধ্যে দেশে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল। এ সময় রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ মার্কিন ডলার। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৯৪ লাখ মার্কিন ডলার। এছাড়া সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ১ হাজার ৪৯৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিল প্রবাসীরা। যা তার আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, একক মাস হিসাবে গত অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি আয় আসে মে মাসে। এদিকে ঈদ উৎসবের কারণে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা। গত মে মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে ১৭৫ কোটি ৫৭ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ দেশে পঠিয়েছিলেন। যা একক মাস হিসেবে এ যাবৎকালে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ।

এদিকে ২০১৮ সালে প্রবাসীরা ১ হাজার ৫৫৭ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছেন। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০৪ কোটি ডলার বা প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। এর আগে ২০১৭ সালে এসেছিল ১ হাজার ৩৫৩ কোটি ডলার। এর আগের বছর ২০১৬ সালে ছিল ১ হাজার ৩৬১ কোটি ডলার। ২০১৫ সালে এসেছে ১ হাজার ৫৩১ কোটি ডলার। আর ২০১৪ সালে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৪৯২ কোটি ডলার।

এদিকে হুন্ডি বন্ধ ও ব্যাংকিং চ্যানেল রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। নতুন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে রেমিট্যান্স পাঠানোর ওপর প্রবাসী বাংলাদেশিদের ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ১ হাজার টাকা রেমিট্যান্স পাঠালে প্রণোদনা হিসেবে ২০ টাকা পাবেন প্রবাসীরা।

বাজেট বক্তব্যে বলা হয়, রেমিট্যান্স প্রেরণে বর্ধিত ব্যয় লাঘব এবং বৈধপথে অর্থ প্রেরণে উৎসাহিত করার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রণোদনা হিসেবে চলতি অর্থবছর ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়, যা সম্প্রতি সংসদে পাস হয়েছে।

বর্তমানে ১ কোটির বেশি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। তাদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বাংলাদেশের জিডিপিতে রেমিট্যান্সের অবদান ১২ শতাংশের মতো। রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের সিংহভাগ আসে ছয়টি দেশ থেকে। দেশগুলো হচ্ছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েত, মালয়েশিয়া এবং যুক্তরাজ্য। গত অর্থবছরে (২০১৭-১৮) এসব দেশ থেকে ১ হাজার ৪৩ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স আসে।

পিডিএসও/তাজ