নতুন অর্থবছর

খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণের নির্দেশ

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০১৯, ১০:১৬ | আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৯, ১১:৩১

শাহজাহান সাজু

নতুন ২০১৯-২০ অর্থবছরে খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবলোপনকৃত ঋণ আদায় বাড়াতে এবং অডিট আপত্তি নিষ্পত্তিতে কার্যকরী উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। বিশেষায়িত ব্যাংকের নির্বাহীদের সঙ্গে সম্প্রতি এক বৈঠকে এ নির্দেশনা দিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি), কর্মসংস্থান ব্যাংক, আনসার ভিডিপি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি), প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, আইসিবি ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে সম্প্রতি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে বৈঠক হয়। বৈঠকে বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবলোপনকৃত ঋণ আদায় বাড়াতে এবং অডিট আপত্তি নিষ্পত্তিতে কার্যকরী করতে উদ্যোগ গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে। বিশেষায়িত আট ব্যাংকের প্রায় ৬২১ কোটি টাকা অবলোপন করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের। এ ব্যাংকের অবলোপনকৃত ঋণ হচ্ছে ২২১ কোটি টাকা। পাশাপাশি আটটি ব্যাংকের অডিট আপত্তি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা। প্রায় ৩৯ হাজার ৬২৯টি আপত্তির বিপরীতে রয়েছে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ। এছাড়া বৈঠকে শ্রেণিকৃত ও অশ্রেণিকৃত ঋণ থেকে ব্যাংকগুলো কি পরিমাণ অর্থ আদায় করবে, এর একটি হিসাব তুলে ধরা হয়। ওই হিসাবে বলা হয়েছে খেলাপি ও সাধারণ ঋণ থেকে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বিকেবির ১ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ৪৫৭ কোটি টাকা, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ১২৫ কোটি টাকা, আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯৯ কোটি টাকা, বিএইচবিএফসির ২২০ কোটি টাকা ও আইসিবির ৭৬১ কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে।

সূত্র জানায়, অবলোপনকৃত ঋণের মধ্যে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) করেছে প্রায় ২৬৩ কোটি টাকা। বিকেবি ঋণ অবলোপন করেছে প্রায় ২২২ কোটি টাকা, রাকাব ১২৭ কোটি টাকা। ছোট অঙ্কের মধ্যে রয়েছে কর্মসংস্থান ব্যাংকের ৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা এবং আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। ওই বৈঠকে বিশেষায়িত আটটি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ও বাণিজ্যিক অডিট আপত্তি তুলে ধরা হয়। বাণিজ্যিক অডিট আপত্তির মধ্যে বিকেবির পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা। এ ব্যাংকের অডিট আপত্তি ৬ হাজার ৬৬৮টি। এছাড়া রাকাবের অডিট আপত্তির আর্থিক পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। এই ব্যাংকের আপত্তির সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ২২টি। ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের অডিট আপত্তির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। এ ব্যাংকের আপত্তি প্রায় ১০৫টি। তাছাড়া বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের অডিট আপত্তি প্রায় ৩১৫ কোটি টাকা, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে প্রায় ১৮৮ কোটি টাকা, আনসার ভিডিবি ব্যাংকে প্রায় ৮৩ কোটি টাকা এবং কর্মসংস্থান ব্যাংকে প্রায় ৪০ কোটি টাকার আপত্তি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

পিডিএসও/হেলাল