এগোচ্ছে অর্থনীতি বাড়ছে প্রবৃদ্ধি

প্রকাশ | ১৭ জুন ২০১৯, ০৮:৩০

শাহজাহান সাজু

বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। গত দশক ধরে ৬ শতাংশের ওপরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। প্রবৃদ্ধির এই গতি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। আর চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরসহ ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে পরপর চারবার ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ; চূড়ান্ত হিসাবে গত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। চলতি বছরের অর্থনৈতিক সমীক্ষায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মাথাপিছু জিডিপি আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৫২ মার্কিন ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৮২৭ ডলার হয়েছে। একইসঙ্গে বেড়েছে মাথাপিছু জাতীয় আয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু জাতীয় আয় ছিল ১ হাজার ৭৫১ মার্কিন ডলার, যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরে হয়েছে ১ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলার।

বিবিএসের সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সরকারি ও বেসরকারি উভয় বিনিয়োগই বিগত অর্থবছরের তুলনায় বেড়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিনিয়োগের হার ছিল জিডিপির ৩১ দশমিক ২৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে সরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ জিডিপির ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ। অন্যদিকে, বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ জিডিপির ২৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। পূর্ববর্তী অর্থবছরে সরকারি বিনিয়োগ ছিল ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ ও বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ২৩ দশমিক ২৬ শতাংশ। পরিমিত খাদ্য মূল্যস্ফীতির কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাস পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এ সময়ের ব্যবধানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ কমেছে। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে এ হার ছিল ৬ দশমিক ১৮ শতাংশ। পক্ষান্তরে ২০১৯ সালের মার্চে তা দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৭২ শতাংশ।

অন্যদিকে, একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক অবস্থানে রয়েছে। এ বছর রাজস্ব আহরণের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১২ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১১ দশমিক শূন্য ৪ শতাশ, এনবিআরবহির্ভূত কর রাজস্ব ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, যা জিডিপির শূন্য দশমিক ৩৮ শতাংশ, করবহির্ভূত রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা, যা জিপিডির শূন্য দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং করবহির্ভূত রাজস্ব ২৭ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত মোট রাজস্ব আহরিত হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা। আহরিত এই রাজস্ব সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার ৪৯ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ বেশি। আহরিত রাজস্বের মধ্যে কর রাজস্বের পরিমাণ ১ লাখ ৩৮ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি। এ সময়ের করবহির্ভূত রাজস্ব আহরণের পরিমাণ ১৭ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ১৫ শতাংশ বেশি।

সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মোট ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ২ লাখ ৬৬ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১০ দশমিক ৫২ শতাংশ, খাদ্য হিসাব ২৮২ কোটি টাকা, ঋণ ও অগ্রিম ১ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ১ লাখ ৭৩ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা, জিডিপির ৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বরাদ্দ ১ লাখ ৬৭ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

ইবাসের সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ব্যয় হয়েছে ৪১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় পরিচালন ব্যয় হয়েছে ২২ দশমিক ২১ শতাংশ ও এডিপি ব্যয় হয়েছে ২২ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। সামষ্টিক ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষিত হয়েছে। বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশের নিচে সীমিত রেখে এবং ৭ দশমিক ৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মুদ্রানীতি কৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক, কর্মসংস্থান সহায়ক এবং পরিবেশবান্ধব প্রবৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

পিডিএসও/হেলাল