বাজেট ‘ব্যবসা-সহায়ক’: এফবিসিসিআই

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৯, ১৮:০২ | আপডেট : ১৫ জুন ২০১৯, ১৮:০৬

অনলাইন ডেস্ক

নতুন বাজেটে ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভলশীলতা কমিয়ে বৈদেশিক উৎস, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার বন্ড ও অন্যান্য ফিন্যান্সিয়াল টুলসের ওপর জোর দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে ‘ব্যবসা-সহায়ক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে সংগঠনটি।

শনিবার রাজধানীর মতিঝিলের ফেডারেশন ভবনে জাতীয় বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম এ কথা জানান।

এবারের বাজেটে ঘাটতি থাকতে পারে কমবেশি এক লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। ব্যাংক খাতের ওপর বেশি নির্ভরশীল হলে বেসরকারি খাতে উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ প্রবাহ কমতে পারে বলে জানায় সংগঠনটি।

চলতি অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটে সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি না বাড়িয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এই ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা করবে। তাতে পুরোপুরি সফল না হলে সেক্ষেত্রে আবারও সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়া হতে পারে। আর বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার আগামী অর্থবছর অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এর মধ্যে শুধু ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সংগ্রহ করবে ৪৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা।

এ ছাড়া ঘোষিত বাজেটকে জনবান্ধব বলে উল্লেখ করে এফবিসিসিআই। লিখিত বক্তব্যে শেখ ফাহিম বলেন, ‘বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আরআন্ডডি, নভেশন ও আইসিটি, অবকাঠামো, অর্থসামাজিক, দারিদ্র্য বিমোচন, মানবসম্পদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ায় এ বাজেট যুগোপযোগী। এ ছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় মুক্তিযোদ্ধা, বয়স্ক ব্যক্তি, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী, অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী, বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠী, চা শ্রমিকসহ সব উপকারভোগীর সংখ্যা ও আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি করাও জনবান্ধব বিষয়। আর যুবকদের মধ্যে ব্যবসা উদ্যোগ  সৃষ্টির জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে যা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। মানসম্পন্ন কারিগরী ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি।’

এ ছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে বাজেটে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা বিনিয়োগ, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান প্রক্রিয়াকে গতিশীল করবে। এসব অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ (পিপিপি) আরও ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২০২৪ সাল পর্যন্ত কর অবকাশ সুবিধা শিল্পখাতের বিকাশকে উৎসাহিত করবে। তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে ১ শতাংশ প্রণোদনা প্রদান এবং হ্রাসকৃত করহার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত রপ্তানি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ সহায়ক হবে।

কালো টাকা বিষয়ক এক প্রশ্নের উত্তরে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘বাজেটে কালো টাকার কথা বলা নেই। সেখান অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে। ২০২১ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে যাবে। আমরা চাই ইনফরমাল ইকোনমি ফরমাল ইকোনমিতে আসুক। অপ্রদর্শিত অর্থের উৎস যেহেতু সঠিক আছে সেহেতু আমরা প্রস্তাবকে স্বাগত জানাই।’

পিডিএসও/রি.মা