আজ বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী

বাজেটের আকার ভাঙছে আগের সব রেকর্ড

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯, ০৮:২৩

শাহজাহান সাজু

বাজেট দেওয়ার ক্ষেত্রে রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ছে বর্তমান সরকার। কারণ আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বাধীন প্রতিটি বাজেটই আকারে এবং সংস্কারে এর আগের টিকে ছাড়িয়ে গেছে। এবারও আওয়ামী লীগ সরকার টানা তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেটের আকার ভাঙছে আগের সব রেকর্ড। ‘সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের’ শিরোনামে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য খসড়া বাজেট প্রস্তাব আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। যার আকার হচ্ছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ১৮ দশমিক ১ শতাংশ। এটি অর্থমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম বাজেট। চলতি অর্থবছর বাজেটের আকার ছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। সে হিসাবে বাজেটের আকার বাড়ছে প্রায় ৫৮ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট হবে সংস্কারমুখী। কারণ ব্যাংক ও ভ্যাট খাতে থাকছে ব্যাপক সংস্কার। অর্থবছরের শুরুতেই নতুন ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন (২০১২)’ কার্যকরের ঘোষণা থাকছে। সংস্কারের আওতায় থাকবে ব্যাংকসহ পুঁজিবাজার, সঞ্চয়পত্র ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি খাত। আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আগামী শুক্রবার বিকাল ৩টায় বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী গণমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অন্যান্য বারের চেয়ে এবারের বাজেট বক্তৃতা অনেকটাই সংক্ষিপ্ত হবে। যার আভাস অর্থমন্ত্রী এরই মধ্যে দিয়েছেন। তবে বক্তৃতা ছোট হলেও বাজেট উপস্থাপনকালে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হবে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক বৈঠকে এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন অর্থবছরের বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের আগে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করে তা অনুমোদন নেওয়া হবে।

সূত্র আরো জানায়, প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার হতে যাচ্ছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। সে হিসাবে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ছে প্রায় ৩৮ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা।

সূত্র আরো জানায়, নতুন অর্থবছরের বাজেটে জিডিপির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৮ দশমিক ২০ শতাংশ হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ অর্জিত হবে বলে আশা করছে সরকার। এছাড়া নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশে মধ্যে রাখার পরিকল্পনা করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সামষ্টিক আয়-ব্যয় ও ঘাটতি কাঠামো তিনটি সারণির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে। তার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে আয় ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১১ শতাংশ। তার মধ্যে আয়কর খাতের লক্ষ্য ১ লাখ ১৫ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা। ভ্যাট খাতে ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা। শুল্ক খাতে ৯২ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা। এনবিআরবহির্ভূত কর রাজস্ব ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ শতাংশ এবং করবহির্ভূত রাজস্ব ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা যা জিডিপির ১ দশমিক ৩ শতাংশ। পরিচালন ব্যয় ৩ লাখ ২০ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। ব্যয়ের খাতভিত্তিক বিভাজন হবে ভৌত অবকাঠামো, সামাজিক অবকাঠমো এবং সাধারণ সেবা কাঠামো।

সূত্র জানায়, বাজেট ঘাটতি প্রাক্কলন করা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক উৎস থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ২ দশমিক ১ শতাংশ, অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ব্যবস্থা ৫৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে ৩০ হাজার ৮০০ কোটি টাকা যা জিডিপির ১ দশমিক শূন্য শতাংশ। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের মতো এবারও বাজেট ঘাটতি ৫ শতাংশ থাকবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

সাড়ে ৬ হাজার পণ্যে বসছে অগ্রিম কর : বাণিজ্যিক উদ্দেশে আমদানি করা প্রায় সাড়ে ৬ হাজার পণ্যে আগাম কর আদায় করা হবে। আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে নতুন ভ্যাট আইনের আওতায় অগ্রিম ট্রেড ভ্যাটের (এটিভি) পরিবর্তে অগ্রিম কর (এটি) ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। অর্থাৎ বর্তমানে যেসব পণ্যে ৫ শতাংশ এটিভি আরোপিত আছে, সেসব পণ্য আমদানিতে অগ্রিম কর দিতে হবে।

জানা যায়, বিভিন্ন সময় ব্যবসায়ী নেতারা অগ্রিম ট্রেড ভ্যাটের (এটিভি) বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কারণ তারা বলছেন, এটিভি ভ্যাট আইনের মূলনীতির পরিপন্থী। তাই নতুন আইনে এটিভির পরিবর্তে অগ্রিম করের (এটি) বিধান রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

পিডিএসও/হেলাল